Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / ব্ল্যাকবোর্ড

জোব চার্নক ও মারিয়া

জোব চার্নক ও মারিয়া
  • ১৩ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
১৬৯২ (মতান্তরে ১৬৯৩) সালের ১০ জানুয়ারি। শীতের শহরে এমনই এক দিনে বিদায় নিয়েছিলেন জোব চার্নক। পরের দিকে তাঁর কবর স্থানে একটি স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করেন চার্নকের বড় জামাই চার্লস আয়ার। ডালহৌসির সেন্ট জন চার্চ সংলগ্ন এলাকায় এই স্মৃতিসৌধ থেকে চার্নকের পরিবার সম্পর্কে বহু তথ্য মেলে। কিন্তু তাঁর হিন্দু স্ত্রীর সম্পর্কে তেমন কিছু উল্লেখ নেই। কারণটা স্পষ্ট নয়। ইতিহাস বলছে, এই স্ত্রীকে নিয়ে বারবার নানা সমস্যায় পড়তে হয়েছে তাঁকে। রয়েছে অনেক সংঘাতের গল্পও। 
Advertisement
ষোড়শ শতাব্দীর মাঝমাঝি সময়। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির হয়ে পাটনায় আসেন জোব চার্নক। কাজ বলতে পাটনা থেকে নুন, মশলা ইত্যাদি সংগ্রহ করা এবং জাহাজে চাপিয়ে তা ইংল্যান্ডে পাঠানো। অল্পদিনেই এদেশের জীবনযাপন, সংস্কৃতির সঙ্গে নিজেকে বেশ মানিয়ে নিয়েছিলেন তিনি। তখন দেশে চালু রয়েছে সতীদাহ প্রথা। একদিন গঙ্গাতীরে সতীদাহের আয়োজন করা হয়েছে। কৌতূহলবশত সেখানে হাজির হলেন চার্নক। চারদিকে লোকজনের ভিড়। সবেমাত্র চিতায় অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। আর এক কিশোরীকে জোর করে চিতায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এই মর্মান্তিক দৃশ্য দেখে আর নিজেকে ঠিক রাখতে পারেননি তিনি। বেশ কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে রুখে দাঁড়ালেন। আর ওই কিশোরীকে উদ্ধার করে নিজের কুঠিতে নিয়ে এলেন। রক্ষণশীল হিন্দু সমাজের মেয়ে সাহেবের ঘরে! লোকজন বলতে শুরু করে, সাহেব হিন্দুর মেয়েকে অপহরণ করে নিজের কাছে রেখে দিয়েছে। শেষমেশ অনেক ভাবনা-চিন্তার পর ওই কিশোরীকেই বিয়ে করেন চার্নক। নতুন নাম রাখেন মারিয়া। তাঁর এমন পদক্ষেপে চটে যান ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্তারাও। নালিশ যায় পাটনার নবাবের কাছে। তবে ঠান্ডা মাথায় পুরো পরিস্থিতির মোকাবিলা করেন তিনি। মাঝে কেটে যায় বহু বছর। দু’জনের সন্তান হয়। জমে ওঠে সংসার। সেযুগে দাঁড়িয়ে জোব চার্নকের এমন পদক্ষেপ আজও ভাবায়। ষোড়শ শতকের শেষ ভাগে পাটনা ছেড়ে কলকাতায় আসেন দম্পতি। যদিও তখনকার কলকাতা আজকের মতো ছিল না।
সম্পর্কিত সংবাদ