Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জলপাইগুড়ি মেডিকেলে ৬ কেজি ব্রেস্ট টিউমারের অপারেশন, স্থিতিশীল রোগী

দিনে দিনে বাড়ছিল টিউমারের সাইজ। আর এরই জেরে ক্রমেই সংকটজনক হয়ে উঠছিল ২৬ বছরের মহিলার শারীরিক পরিস্থিতি

জলপাইগুড়ি মেডিকেলে ৬ কেজি ব্রেস্ট টিউমারের অপারেশন, স্থিতিশীল রোগী
  • ১১ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: দিনে দিনে বাড়ছিল টিউমারের সাইজ। আর এরই জেরে ক্রমেই সংকটজনক হয়ে উঠছিল ২৬ বছরের মহিলার শারীরিক পরিস্থিতি। অবশেষে ঝুঁকি নিয়ে গড়ালবাড়ির বাসিন্দা মেরিনা বেগমের ৬ কেজির ব্রেস্ট টিউমার অপারেশন করলেন জলপাইগুড়ি মেডিকেলের চিকিৎসকরা। মঙ্গলবার চিকিৎসক সঞ্জীবকুমার রায়ের নেতৃত্বে প্রায় ঘণ্টা দেড়েক ধরে অপারেশন চলে। মহিলার বাঁ দিকের ব্রেস্ট থেকে বাদ দেওয়া হয় বিশালাকার ওই টিউমার। রোগীর অবস্থা আপাতত স্থিতিশীল বলে হাসপাতাল সূত্রে খবর। 

Advertisement

জলপাইগুড়ি মেডিকেলের সহকারী সুপার সুস্নাত রায় বলেন, ছ’কেজি ওজনের টিউমার অপারেশন আমাদের মেডিকেলে সম্ভবত এই প্রথম। ওই মহিলা হাসপাতালে ভর্তির পর থেকে যাবতীয় পরীক্ষানিরীক্ষা সব আমাদের এখানেই নিখরচায় হয়েছে। অপারেশন সফল হয়েছে। রোগী বর্তমানে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে আছেন। চিকিৎসক সঞ্জীবকুমার রায় বলেন, ওই মহিলার ব্রেস্টে ফাইলয়েড টিউমার ছিল। এ ধরনের টিউমার দ্রুত আকারে বাড়তে থাকে। অঙ্কোলজি বিভাগের তেমন কিছু করার থাকে না এই টিউমারের ক্ষেত্রে। সার্জারিই একমাত্র এর চিকিৎসা। কিন্তু এক্ষেত্রে মহিলার টিউমারের সাইজ এতটাই বড় হয়ে গিয়েছিল যে, তা অপারেশনের ক্ষেত্রে যথেষ্টই ঝুঁকির ছিল। প্রাণসংশয়ের আশঙ্কাও থেকে যায় এ ধরনের অপারেশনের ক্ষেত্রে। বিশেষ করে অপারেশনের সময় প্রচুর রক্তক্ষরণের আশঙ্কা থাকে।
জলপাইগুড়ি মেডিকেলের পরিষেবায় খুশি রোগীর পরিবার। এদিন হাসপাতাল চত্বরে দাঁড়িয়ে রোগীর পরিবারের সদস্য জসিবুর রহমান বলেন, আমরা অত্যন্ত গরিব। বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করানোর সামর্থ্য ছিল না। ফলে খুবই চিন্তায় ছিলাম। কিন্তু জলপাইগুড়ি মেডিকেলে যে পরিষেবা মিলেছে, তাতে আমরা অভিভূত। সবচেয়ে বেশি ধন্যবাদ দেব চিকিৎসকদের। তাঁরা অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে এই অপারেশন করেছেন।
গত ২৫ ফেব্রুয়ারি জলপাইগুড়ি মেডিকেলে ভর্তি হন গড়ালবাড়ির বারোঘরিয়া এলাকার বাসিন্দা ওই মহিলা। পরিবারের রোজগার বলতে দিনমজুরি। বেসরকারিভাবে ডাক্তার দেখানো কিংবা চিকিৎসার প্রয়োজনে পরীক্ষানিরীক্ষা করা, কোনোটাই সম্ভব ছিল না নুন আনতে পান্তা ফুরনো এই পরিবারের। চিকিৎসকদের দাবি, টিউমারটি অন্তত দু-তিন বছরের। তবে গত কয়েকমাসে দ্রুত হারে সেটির আকার বৃদ্ধি পাওয়ায় বাধ্য হয়ে হাসপাতালে আসেন ওই রোগী। 
জলপাইগুড়ি মেডিকেলের এক নম্বর ইউনিটের শল্য চিকিৎসক সঞ্জীবকুমার রায় বলেন, রোগীকে দেখেই বোঝা গিয়েছিল, দ্রুত সার্জারি দরকার। সেইমতো তড়িঘড়ি হাসপাতাল থেকেই প্রয়োজনীয় পরীক্ষানিরীক্ষা করানো হয়। তারপরই ঠিক হয় অপারেশনের দিন। ওই চিকিৎসকের দাবি, আমি দীর্ঘদিন ধরে সার্জারি করছি। কিন্তু এতবড় ব্রেস্ট টিউমার এই প্রথম অপারেশন করলাম। এটা শুধু আকারে বড় টিউমার নয়, ক্যানসার-যুক্ত হওয়ায় রোগীর পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হচ্ছিল। 
জলপাইগুড়ি মেডিকেলের সুপার ডাঃ কল্যাণ খাঁ বলেন, এটা আমাদের হাসপাতালের টিমের সাফল্য। রোগী দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠুন, এটাই চাইব আমরা।

সম্পর্কিত সংবাদ