তারক চক্রবর্তী, জলপাইগুড়ি: কোথাও ৪১ ফুটের দুর্গা। আবার কোথাও পাহাড়কে বাঁচানোর বার্তা। কোথাও দক্ষিণ ভারতের মন্দিরের আদলে কাল্পনিক মণ্ডপ। নানান থিমে সাজছে জলপাইগুড়ির দুর্গাপুজো প্যান্ডেল। দর্শনার্থী টানতে তাই মণ্ডপ থেকে প্রতিমায় কোনো খামতি রাখতে চাইছেন না পুজো উদ্যোক্তারা।
জলপাইগুড়ি শহরের বামনপাড়া সর্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটির এ বছরের থিম ৪১ ফুটের দুর্গা প্রতিমা। মাথায় মুকুট দিয়ে যার উচ্চতা হবে ৪৫ ফুট। সাধারণত বরোয়ারি পুজোয় বিশাল আকারের কালীপ্রতিমা দেখতে অভ্যস্ত দর্শনার্থীরা। দুর্গাপুজোতেও এত উঁচি মূর্তি দেখার জন্য মুখিয়ে আছেন জলপাইগুড়িবাসী। তাই তাঁদের পুজোয় এবার জনজোয়ার আছড়ে পড়বে বলেই আশাবাদী পুজো উদ্যোক্তারা। এ বছরের এদের পুজো ৭৪তম বর্ষে পড়ল। সাড়ে ন’লক্ষ টাকা বাজেট। সুউচ্চ প্রতিমা গড়ার কাজ একমাস আগে থেকেই শুরু করেছেন শিল্পীরা।
পুজো কমিটির পক্ষে দেবজিৎ দাস বলেন, কয়েক বছর ধরেই পরিকল্পনা করে আসছিলাম উঁচু এবং বড়ো প্রতিমা শহরবাসীকে উপহার দেব। অবশেষে এবার তা বাস্তবায়িত করতে পারছি। আশা করছি, দর্শনার্থীদের মনজয় করবে এই পুজো।
অন্যদিকে, মুহুরিপাড়া সর্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটির এ বছরের থিম পাহাড়ি। পাহাড় কেটে তৈরি হচ্ছে নগর, রাস্তাঘাট। যেভাবে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ধ্বংস করা হচ্ছে পাহাড়, তা ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করছেন শিল্পীরা। পাহাড়কে রক্ষা করে প্রকৃতিকে বাঁচিয়ে রাখার বার্তা দেওয়াই এই পুজোর মূল উদ্দেশ্য। ১০ লক্ষ টাকা পুজোর বাজেট। দুর্গোৎসবের ক’দিন রয়েছে বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ড। পুজো কমিটির অন্যতম উদ্যোক্তা তথা স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলার উত্তম বসু বলেন, পাহাড় ও প্রকৃতিকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। এই বার্তাকে সামনে রেখেই আমরা এ বছর এমন আয়োজন করছি। স্থানীয় শিল্পী জীবন শর্মার হাত ধরেই গোটা থিম মণ্ডপ তুলে ধরা হচ্ছে। আশা করছি, দর্শনার্থীরা এখানে এসে এক বাস্তবসম্মত অভিজ্ঞতা সঞ্চার করে ফিরবেন।
অন্যদিকে, ৭৫ বছরের পুরনো জলপাইগুড়ির অরবিন্দনগরের জাগ্রত সংঘের এ বছরের পুজো মণ্ডপ হচ্ছে দক্ষিণ ভারতের মন্দিরের আদলে কাল্পনিক এক মণ্ডপ। বাজেট ২৪ লক্ষ টাকা এদের। কাঠ, প্লাইউড, কাপড়, ফাইবার প্রভৃতি মণ্ডপ সাজাতে ব্যবহার করা হচ্ছে। পুজো কমিটির যুগ্ম সম্পাদক তুহিন নাথ বলেন, দক্ষিণ ভারতের মন্দিরগুলি যে ধাঁচে হয়ে থাকে আমাদের মণ্ডপ অনেকটা সেই ধাঁচেই করার চেষ্টা করছি। • বামনপাড়ার প্রতিমা। -নিজস্ব চিত্র।