Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

পালাবদল হতেই জাহাঙ্গিরের দাপট শেষ ২২ শাগরেদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের

১৫টি গ্রাম পঞ্চায়েত নিয়ে ফলতা বিধানসভা কেন্দ্র। গত দশ বছর ধরে এইসব গ্রাম পঞ্চায়েতের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে রাখার পাশাপাশি ভোট লুট, মহিলাদের সঙ্গে অভব্য আচরণ ছাড়াও আম জনতার উপর দাদাগিরি চালিয়েছে জাহাঙ্গির খানের বাহিনী।

পালাবদল হতেই জাহাঙ্গিরের দাপট শেষ ২২ শাগরেদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের
  • ১৫ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বজবজ: ১৫টি গ্রাম পঞ্চায়েত নিয়ে ফলতা বিধানসভা কেন্দ্র। গত দশ বছর ধরে এইসব গ্রাম পঞ্চায়েতের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে রাখার পাশাপাশি ভোট লুট, মহিলাদের সঙ্গে অভব্য আচরণ ছাড়াও আম জনতার উপর দাদাগিরি চালিয়েছে জাহাঙ্গির খানের বাহিনী। ফলতার মানুষই ভয়ের আগল ভেঙে বেরিয়ে এসে এই অভিযোগ তুলেছেন। এতদিন তাঁরা জাহাঙ্গিরের বাহুবলী টিমের বিরুদ্ধে থানায় গিয়ে অভিযোগ জানানোর সাহস পাননি। কেউ থানা অবধি গেলেও পুলিশ নানাভাবে পাশ কাটিয়ে যেত। অভিযোগ গ্রহণ করা হতো না। পালাবদলের পর এখন ফলতা থানায় গিয়ে জাহাঙ্গিরের ২২ জন সহযোগীর বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়ে এসেছেন গ্রামবাসীরা।

Advertisement

২৯ এপ্রিল ভোটগ্রহণের পর বঙ্গনগর-২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের হাসিমনগরে গিয়ে মহিলাদের ধর্ষণ ও বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিল তৃণমূলের প্রধান ইসরাফিল চকদার এবং তার ছায়াসঙ্গী সুজাউদ্দিন শেখ। কারণ হাসিমনগরের মহিলারা ঘাসফুলে ভোট দেননি বলে জানতে পারেন ইসরাফিল। তারপরেই এই হুমকি। শুধু তাই নয়, সুজাউদ্দিনদের দলবল একটি দোকান ভাঙচুরও করেছিল। এই বাহিনী জাহাঙ্গিরের হয়ে এই পঞ্চায়েতে দাদাগিরি ও জুলুম চালাত বলে অভিযোগ।
ওই ঘটনার পর মহিলারা প্রতিবাদ জানিয়ে রাস্তায় নেমেছিলেন। তার পরিপ্রেক্ষিতেই নির্বাচন কমিশন বঙ্গনগর-২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান ইসরাফিল চকদার এবং তার ছায়াসঙ্গী সুজাউদ্দিন শেখকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছিল কমিশন। ওই ঘটনার পর থেকে তারা দু’জনেই পলাতক। এরপর আরও ২২ জনের নামে থানায় অভিযোগ দায়ের হওয়ায় বাহুবলীরা এলাকা থেকে উধাও। ফলে ঢাল-তরোয়াল না থাকায় তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান আর ভোট প্রচারে বেরতে সাহস পাচ্ছেন না। শুধু তাই নয়, এরমধ্যে রাজ্য সরকার তার ওয়াই ক্যাটিগরির নিরাপত্তা তুলে নেওয়ার আরও ফাঁপরে পড়েছেন জাহাঙ্গির। বেপাত্তা গত পাঁচ বছরের তৃণমূল বিধায়ক শংকর নস্করও। মোবাইলে বার বার ফোন করা হলেও ধরছেন না তিনি।
এদিকে বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পান্ডা চুটিয়ে প্রচার চালাচ্ছেন। বুধবার কলাতলা হাট সহ সংলগ্ন এলাকায় পথসভা, রোড শো করেছেন। কাতারে কাতারে মানুষ শামিল হচ্ছেন তাঁর প্রচারে। অন্যদিকে পালাবদল হতেই ফলতায় এতদিন যাঁরা তৃণমূলের পতাকার তলায় ছিলেন, তাঁদের সিংহভাগই বিজেপিতে ঢোকার জন্য পা বাড়িয়ে রেখেছেন। তৃণমূল থেকে বিজেপিতে যাওয়ার ঝোঁক দেখে আতঙ্কিত ফলতার মানুষ। তাঁরা ভাবছেন, যারা এতদিন জোড়াফুলের পতাকা হাতে নিয়ে অত্যাচার চালিয়েছে, তারা যদি এবার বিজেপিতে যায়, তাহলে পরিস্থিতির বদল হবে না। আবার অত্যাচারিত হব আমরা। বিজেপি নেতা বাপ্পাদিত্য মণ্ডল বলেন, তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির যেহেতু ‘ঘরবন্দি’, ভোট নিয়ে নানা ফন্দি আঁটছে সে। বিজেপির অন্দরে তৃণমূলীদের ঢুকিয়ে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টাও চালাতে পারে জাহাঙ্গির। কর্মীদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ