Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / ব্ল্যাকবোর্ড

জগন্নাথের নৌকাবিহার

ফাঁকা মাঠ। চারপাশে গাছগাছালিতে ভরা। তার মাঝে মন্দির। একপাশে ছোট পুকুর। সেখানে নৌকায় জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রা। পুকুরের চারদিকে হাজার হাজার ভক্ত।

জগন্নাথের নৌকাবিহার
  • ৭ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

ফাঁকা মাঠ। চারপাশে গাছগাছালিতে ভরা। তার মাঝে মন্দির। একপাশে ছোট পুকুর। সেখানে নৌকায় জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রা। পুকুরের চারদিকে হাজার হাজার ভক্ত। খোল-করতাল, ঢাক-ঢোল বাজিয়ে চলছে নাম সংকীর্তন। মনোমুগ্ধকর এমনই দৃশ্য কয়েক বছর ধরে দেখা যাচ্ছে বালুরঘাটের বোয়ালদার জগন্নাথ মন্দিরে। রথযাত্রার পর পরই আয়োজিত হয় জগন্নাথ-বলরাম-সুভদ্রার এই নৌকাবিহার। যাকে ঘিরে রীতিমতো উৎসবে মেতে ওঠে বালুরঘাটের বোয়ালদার গ্রাম ও সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দারা। কেন এই রীতি? উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, আষা‌঩ঢ়ের ভ্যাপসা গরমে ক্লান্ত হন জগন্নাথ দেবও। প্রভুকে গরম থেকে কিছুটা স্বস্তির দিতেই শুরু হয়েছে জগন্নাথ দেবের নৌকাবিহার। তবে পুরীতেও এই রীতি রয়েছে। সেই আদলেই বালুরঘাটে শুরু হয়েছে জগন্নাথের এই নৌকাবিহার। ভক্তদের বিশ্বাস, এই প্রথার মধ্যে দিয়ে শীতল বাতাসে জগন্নাথ দেব কিছুটা স্বস্তি পান। বালুরঘাটের বোয়ালদার জগন্নাথ মন্দিরের রথযাত্রাও আর পাঁচটা জায়গার থেকে আলাদা। এখানে রথযাত্রার দিন জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রা মাসির বাড়িতে যান না। রথে চড়ে পরিক্রমা শেষে ফের নিজের মন্দিরেই ফিরে আসেন তাঁরা। উদ্যোক্তারা মন্দির থেকে বিগ্রহ নিয়ে রথে চড়িয়ে প্রায় এক কিলোমিটার পরিক্রমা করে পাশের গ্রাম নলতাহারে গিয়ে পৌঁছন। সেখান থেকে ফের মন্দিরে এসে অধিষ্ঠিত হন জগন্নাথ দেব। উল্টোরথেও একই নিয়ম মেনে ঠাকুর রথযাত্রা সেরে ফের মন্দিরে ফিরে আসেন। এই মন্দিরেরও বিশেষ ইতিহাস রয়েছে। প্রায় ২৫০ বছর আগে এই মন্দিরের পুরোহিতের পূর্বপুরুষরা এই রথযাত্রার সূচনা করেছিলেন অবিভক্ত বাংলাদেশের রাজশাহীতে। পরে ওই পরিবারের সদস্য স্বর্গীয় ব্রজকিশোর চৌধুরী সমস্ত কিছু ফেলে জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রাকে নিয়ে বালুরঘাটে চলে আসেন। যাতে বিগ্রহগুলিকে এপারে এনে রক্ষা করা যায়। বর্তমানে বালুরঘাটের বোয়ালদার গ্রামে ব্রজকিশোরের উত্তরসূরীদের বাড়িতে এই পুজো হয়। তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নৌকাবিহারও। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ