


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে এবার সাংবাদিকতা বিভাগে অতিথি অধ্যাপক নিয়োগ ঘিরে নয়া বিতর্ক তৈরি হল। পরিস্থিতি এমনই যে ইন্টারভিউ বোর্ডে থাকতে অস্বীকার করেছেন বিভাগীয় প্রধান এস নাল্লুস্বামী। উপাচার্যকে চিঠি দিয়ে তিনি জানিয়েছেন, ইন্টারভিউ বোর্ডে প্রথা ভেঙে বাড়তি একজন অধ্যাপককে রাখা হলে তিনি বিভাগীয় প্রধানের পদ থেকে ইস্তফা দেবেন।
এই বিভাগে স্থায়ী বা অতিথি অধ্যাপক নিয়োগের ইন্টারভিউয়ের ক্ষেত্রে বিভাগীয় অধ্যাপকের ভূমিকা থাকে না। এর আগেও তিনবার অতিথি অধ্যাপক নিয়োগের ক্ষেত্রে ফ্যাকাল্টির ডিন, বিভাগীয় প্রধান এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ের একজন বহিরাগত বিশেষজ্ঞকে রাখা হয়েছে। অধ্যাপক নাল্লুস্বামী চিঠিতে সেকথা উল্লেখ করে জানিয়েছেন, এর আগের নিয়োগ সুষ্ঠু এবং স্বচ্ছভাবেই হয়েছে। কোনো অভিযোগ ওঠেনি। তাহলে কেন এই প্রথা ভাঙা হল, সেই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। এও মনে করিয়ে দিয়েছেন, চতুর্থ সেমেস্টারের ছাত্রছাত্রীরা বিগত তিনটি সেমেস্টারে যে অধ্যাপকের ক্লাস বয়কট করেছেন, তাঁকেই ইন্টারভিউ বোর্ডে রাখা হয়েছে। তাই ভবিষ্যতে এ নিয়ে অন্য গণ্ডগোলের আশঙ্কাও করছেন তিনি।
আইএসএলএম ফ্যাকাল্টির ডিন ইন্দ্রনীল দত্তর কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে, উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য বলেন, ‘এই বিভাগটি (ডিপার্টমেন্ট অব অ্যাডাল্ট কন্টিনিউইং এডুকেশন অ্যান্ড এক্সটেনশন) ভেঙে দু’টি স্কুল তৈরি হচ্ছে। একটি হল স্কুল অব জার্নালিজম অ্যান্ড মাস কমিউনিকেশন। অন্যটির নাম স্কুল অব ইঞ্জিনিয়ারিং ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড কন্টিনিউইং এডুকেশন। ১ এপ্রিল থেকেই তা কার্যকর হচ্ছে। এখন যিনি বিভাগীয় প্রধান তিনি স্কুল অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কন্টিনিউইং এডুকেশনে রয়েছেন। সে কারণেই জার্নালিজমের একজন অধ্যাপককে ইন্টারভিউ বোর্ডে আনা হয়েছে। এটা নিয়ে এত বিতর্কের কিছু নেই। অনেক বিভাগে অতিথি অধ্যাপক নিয়োগের ক্ষেত্রে ইন্টারভিউও হয় না। ফ্যাকাল্টি কাউন্সিল এবং বোর্ড অব স্টাডির মাধ্যমেই সিদ্ধান্ত হয়ে যায়।’
এই ঘটনাটিকে অবশ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগটির দু’পক্ষের বিরোধ হিসাবেই দেখছে ওয়াকিবহাল মহল। এই বিভাগে দুই অধ্যাপকের বিরুদ্ধে উত্তপত্র মূল্যায়ন না করেই ইচ্ছামতো নম্বর দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। তারপর থেকে তাঁদের ক্লাস বয়কট করে চলেছেন ছাত্রছাত্রীরা। অপর পক্ষের অধ্যাপকরাও অনৈতিক মূল্যায়ন ব্যবস্থার প্রতিবাদ করেন। পরিস্থিতি এমন হয়েছে যাতে ছাত্রছাত্রীর অভাবে সাংবাদিকতার ডিপ্লোমা কোর্সটি বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ। রেষারেষি ঠেকাতে বিভাগটিকে দু’টি স্কুলেও ভাগ করে দেওয়া হচ্ছে। তাতেও বিতর্ক থামার বিষয়ে আশাবাদী নন অনেকেই।