Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / ব্ল্যাকবোর্ড

ইতিহাসে সাগরতীর্থ   

ইতিহাসে সাগরতীর্থ 
 
  • ১৭ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
গঙ্গাসাগর। বহু প্রাচীনকাল থেকেই হিন্দুদের মহা তীর্থক্ষেত্র। সুন্দরবন এলাকায় বঙ্গোপসাগরের তীরে সাগরদ্বীপ। এই দ্বীপের দক্ষিণ দিকে গঙ্গা মিশেছে সাগরে। সাগর ও নদীর এই সঙ্গমস্থলই গঙ্গাসাগর। রামায়ণ তো বটেই মহাভারতের বনপর্বেও এই তীর্থক্ষেত্রের উল্লেখ রয়েছে। সাগরদ্বীপের পৌরাণিক নাম শ্বেতদ্বীপ। স্কন্ধ পুরাণে বলা হয়েছে, সমস্ত তীর্থ দর্শন, দান,সর্বদেবতার পুজো, তপস্যাযজ্ঞ, সর্ব পুণ্যাশ্রমে যে পুণ্য আহরণ করা যায়, এসকলের সম্মিলিত ফল গঙ্গাসাগর স্নানে প্রাপ্ত করা যায়। ‘...লভতে পুরুষঃ স্বর্বং স্নাতা সাগরসঙ্গমে’। যুগ যুগ ধরে প্রতি বছর মকরসংক্রান্তিতে লক্ষলক্ষ মোক্ষকামী পুণ্যর্থী ও সাধুসন্ত সমাগমে মুখর হয়ে ওঠে সাগরদ্বীপ। সংক্রান্তির অর্থ গমন করা। জ্যোতিষশাস্ত্র অনুসারে, সূর্যের এক রাশি থেকে অন্য রাশিতে প্রবেশ বোঝানো হয় সংক্রান্তি শব্দের মাধ্যমে। মকর সংক্রান্তিতে সূর্য মকররাশিতে প্রবেশ করে।  
Advertisement
এই তীর্থস্থান এত দুর্গম ছিল যে, ইচ্ছামতো সেখানে যাওয়া যেত না। নদীনালা, বনজঙ্গল পেরতে হতো। ছিল চোর, ডাকাত, জলদস্যু, এমনকী বন্যপশুদের ভয়। কবে থেকে এই গঙ্গাসাগর মেলা শুরু হয়েছে, তার কোনও হিসেব আজ পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। বিভিন্ন পুরাণ তো বটেই ও প্রাচীন পুঁথিতে গঙ্গাসাগরের উল্লেখ রয়েছে। কবি কালিদাসের ‘রঘুবংশম’ থেকে শুরু করে মধ্যযুগের মঙ্গলকাব্যগুলিতে উল্লেখ রয়েছে এই সাগরতীর্থের। এমনকী বিদেশি পর্যটকদের বিবরণীতেও এই তীর্থক্ষেত্র স্থান পেয়েছে। পাল বংশের শাসক দেবপাল (৮১০-৮৪৫) এর লিপিতেও গঙ্গাসাগর সঙ্গমের কথা বলা হয়। এককালে সাগরদ্বীপ ছিল সমৃদ্ধ জনপদ। ১৬৮৮ সালে সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাস ও ঝড়ে দ্বীপটি বিধ্বস্ত হয়ে পড়ে। সপ্তদশ শতকে বহু বিদেশি বণিক ও ইংরেজের বর্ণনায় সাগরদ্বীপের প্রসঙ্গ উঠে এসেছে। ১৭২৭ সালে আলেকজান্ডার হ্যামিলটন তাঁর বিবরণীতে গঙ্গাসাগরকে হিন্দুদের পবিত্র তীর্থস্থান হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ইংরেজ আমলে ওয়ারেন হেস্টিংস এখানে বন কেটে বসতি স্থাপনের উদ্যোগ নেন। কিন্তু মাঝেমঝ্যেই ঝড় ও প্লাবনের মুখোমুখি হতে হয়েছে এই দ্বীপকে।
সম্পর্কিত সংবাদ