নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: হাজি মস্তান থেকে বরদারাজন। করিম লালা থেকে দাউদ ইব্রাহিম। ছোটা রাজন কিংবা অরুণ গাউলি। অমর নায়েক কিংবা আবু সালেম। সকলকে ছাপিয়ে মুম্বইয়ের অপরাধ ইতিহাসে সম্পূর্ণ নতুন ও ভয়াবহ মাফিয়া রাজ কায়েম করেছে ৩৪ বছর বয়সের লরেন্স বিষ্ণোই। যে নিজে আমেদাবাদের সবরমতী জেলে বন্দি। সেখান থেকেই আন্তর্জাতিক মাফিয়া সাম্রাজ্য গড়ে তুলে একের পর এক অপারেশন চালিয়ে যাচ্ছে লরেন্স। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশে ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনআইএ) শুধুমাত্র বিষ্ণোই গ্যাং নিয়ে পৃথক সেলের তদন্ত করছে। জানা যাচ্ছে, দেশজুড়ে সাতশোরও বেশি সদস্য কাজ করছে লরেন্সের টিমে। গত ১৮ অক্টোবর মুম্বইয়ের আন্ধেরির পার্কের বাইরে বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফের উপর হামলার ঘটনার তদন্তে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। টাইগার নন,শ্যুটারদের আসল টার্গেট ছিলেন আমির খান।
তদন্তে দেখা যাচ্ছে, কোনও নামজাদা অপরাধী কিংবা দীর্ঘকালের শার্প শুটার নয়। লরেন্স গ্যাংয়ের নির্দেশে যারা কন্ট্রাক্ট কিলিং করছে, তারা অতি সাধারণ পেশায় যুক্ত। হরিয়ানার সবজি বিক্রেতা, মুম্বইয়ের র্যাপিডো বাইক চালক, বিহারের দিনমজুরের মতো লোকজনদের নিয়ে তৈরি টিম টাইগারের গাড়ির উপর গুলি চালিয়ে পালায়। রাজস্থানের কোটা থেকে গ্রেপ্তার করার পর জেরায় জানা যাচ্ছে, এরা আগে কেউ কাউকে চিনত না। একটি খুনের কন্ট্রাক্টের জন্য যোগাযোগ করিয়ে দেওয়া হয়। মুম্বই থেকে দিল্লি এসে তিনদিকে চলে যাওয়ার কথা ছিল তাদের। ঘটনায় রাজস্থান, হরিয়ানা, মহারাষ্ট্র ও বিহার পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় সাধন করছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। লরেন্স গ্যাংয়ের শিকড়ের সন্ধানে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদেরও কাজে লাগানো হচ্ছে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা যাচ্ছে, আমির খান ছিল সেদিনের হামলাকারীদের প্রধান টার্গেট। তাঁর লাইভ লোকেশন নিশ্চিত হতে না পেরে দুষ্কৃতীরা জানতে পারে, টাইগার প্রতি রবিবার ফুটবল খেলতে আসে ওই পার্কে। সেদিনও আসবে। সেই মতোই মুম্বইয়ের র্যাপিডো বাইকের চালক দুই সঙ্গীকে নিয়ে আসে পার্কের বাইরে। টাইগার বেরতেই হামলা। কেন এই হামলা? আমেরিকায় পলাতক অনিল পন্ডিত (লরেন্স গ্রুপের সদস্য) জানিয়ে দেয়, সলমন খানের সঙ্গে সিনেমা করলেই টার্গেট করা হবে। এই অনিলের সঙ্গে গোপন মেসেজিং অ্যাপের মাধ্যমে যোগাযোগ রাখত আন্ধেরির ঘটনায় মধ্যপ্রদেশ থেকে ধৃত প্রাঞ্জল ঠাকরার নামে ২২ বছরের এক ইঞ্জিনিয়ার। এই প্রাঞ্জলের উপরই ছিল খুনের ছক বাস্তবায়নের দায়িত্ব।
এই পরিস্থিতিতে সলমনের আসন্ন সিনেমার সহ অভিনেতা, অভিনেত্রী, পরিচালক, সঙ্গীতশিল্পী, সকলের জন্য বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থার কথা ভাবা হয়েছে। কিন্তু মূল লক্ষ্য হল দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা ৭০০ গ্যাং মেম্বারকে চিহ্নিত করা। কারা তারা?



