নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ভারতের জমি চীন নিয়ে নিয়েছে, এ জাতীয় মন্তব্যের জেরে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি দীপঙ্কর দত্তর সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে রাহুল গান্ধীকে। বিষয়টি নিয়ে বিজেপিও আক্রমণ বাড়িয়েছে। তবে মঙ্গলবার দাদার হয়ে ঢাল ধরলেন বোন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। সুপ্রিম কোর্টের সমালোচনায় ফুঁসে উঠলেন তিনি। বললেন, ‘কে সাচ্চা ভারতীয়, কে নয়, তা ঠিক করে দেওয়ার দায়িত্ব সুপ্রিম কোর্টের নয়। এটা কোনও বিচারপতি বলে দিতে পারেন না। তাছাড়া রাহুল গান্ধী কোনওভাবেই সেনার অপমান করেন না। সম্মান করেন। কিন্তু বিরোধী দলনেতা হিসেবে তাঁর দায়িত্বই হল, সরকারকে প্রশ্ন করা। সেটাই করেছেন। আসলে সরকার জবাব এড়াতে চায়। তাই সমালোচনা করছে।
মঙ্গলবার সকালে রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়্গের অফিসঘরে বিরোধী ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকেও রাহুল গান্ধীকে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতির সমালোচনামূলক মন্তব্যের বিষয়টি ওঠে। কংগ্রেস সূত্রে খবর, প্রায় প্রত্যেকেই বিষয়টিতে সমালোচনা করেছেন। বিচারপতির এতটা আগ বাড়িয়ে মন্তব্য করাটা ঠিক হয়নি বলেই বিরোধীদের মত। কংগ্রেস রীতিমতো বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, একজন বিচারপতির এ ধরনের মন্তব্য বাঞ্ছনীয় নয়। বিষয়টি রাজনৈতিক দলের গণতান্ত্রিক অধিকারে হস্তক্ষেপ। জাতীয় স্বার্থে বিরোধী রাজনৈতিক দল, বিশেষত বিরোধী দলনেতা সরব হবেনই। সরকার যখন সীমান্ত রক্ষায় ব্যর্থ, তখন বিরোধীরা সওয়াল করবেই।
এদিনের বৈঠকে ঠিক হয়, এসআইআরের প্রতিবাদে সোমবার (১১ আগস্ট) অশোক রোডে নির্বাচন কমিশনের সদর দপ্তর ঘেরাও হবে। সংসদ ভবন থেকে মিছিল করে যাবেন ইন্ডিয়া জোটের সাংসদরা। আগে এটি আগামী শুক্রবার ৮ আগস্ট হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ওইদিন রাহুল যাচ্ছেন কর্ণাটক। গত বিধানসভা ভোটে সেখানে নির্বাচন কমিশনকে সামনে রেখে বিজেপি কীভাবে ভোট চুরি করেছে, তা খোলসা করবেন।
এদিন সিআইএসএফ ইস্যুতেও উত্তাল হয়েছে রাজ্যসভা। সংসদ বিষয়কমন্ত্রী কিরেন রিজিজু জানিয়েছেন, এখন সংসদ পাহারা দেয় সিআইএসএফ। তারা সংসদের কক্ষে ঢুকলে তাদের মার্শাল হিসেবেই গণ্য করতে হবে। আর যেই না একথা বলা, সমালোচনায় সরব বিরোধীরা। রাজ্যসভায় কংগ্রেসের মুখ্য সচেতক জয়রাম রমেশ, তাহলে সরকার মেনে নিল কেন্দ্রীয় বাহিনী সভার মধ্যে ঢুকেছিল। কিন্তু এটা সংসদের অপমান। সাংসদদের অধিকারে হস্তক্ষেপ। এদিন রাজ্যসভায় বিষয়টি নিয়ে উত্তাল হয়। মল্লিকার্জুন খাড়্গে বলেন, সংসদ কি তবে অমিত শাহ চালাচ্ছেন? জেপি নাড্ডা এবং রিজিজুর সঙ্গেও কথা কাটাকাটি হয় কংগ্রেসের।