নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর ও কলকাতা: শীতের মিঠেকড়া রোদ্দুর। নতুন ছাপা শব্দ-অক্ষরের সুগন্ধে ম-ম করে ওঠে মেলা প্রাঙ্গণ। ভিড় ঠেলে লক্ষ লক্ষ বইপ্রেমী মানুষের ক্লান্তিহীন পথচলা। স্টল থেকে পছন্দের বই খোঁজার ব্যস্ততা। কলকাতা বইমেলা এক অন্য আবেগ। সেইসঙ্গে এবার সুবর্ণজয়ন্তী। ৫০ বছরের ইতিহাস। আসন্ন বইমেলা নিয়ে নবান্নে বৈঠকের পর মঙ্গলবার রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে কার্যবিবরণী তথা মিনিটস বের করা হল। পাবলিশার্স অ্যান্ড বুক সেলার্স গিল্ড-ই বইমেলা আয়োজনের দায়িত্বে থাকছে। তবে শুধু গিল্ড নয়, বইমেলার আয়োজনে সহযোগিতায় রাখা হয়েছে ন্যাশনাল বুক ট্রাস্ট এবং ইজেডসিসি’কেও। পাশাপাশি গঠন করা হয়েছে একটি উপদেষ্টা কমিটি। তাতে রামকৃষ্ণ মিশন, ভারত সেবাশ্রমের প্রতিনিধি সহ ২৪ জন রয়েছেন। ওই অ্যাডভাইজারি বোর্ডই গিল্ডকে ‘পরামর্শ ও উপদেশ’ দেবে।
১৯৭৫ সালে গিল্ডের প্রতিষ্ঠা। ১৯৭৬ সালের ৫ মার্চ কলকাতা বইমেলার পথচলা শুরু। তারপর থেকে গিল্ডই বইমেলাকে পরিচালনা করে আসছে। এবার কলকাতা বইমেলার ৫০ বছর। স্বাভাবিকভাবেই কলকাতার পাশাপাশি গিল্ডের কাছেও এক গর্বের ইতিহাস। পালাবদলের পর থেকেই এবারের কলকাতা বইমেলা নিয়ে গুঞ্জন চলছিল। গত ২১ আগস্ট কলকাতা বইমেলা নিয়ে নবান্নের ১৪তলার কনফারেন্স রুমে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই বৈঠকেরই মিনিটস প্রকাশ করেছে রাজ্য। মুখ্যমন্ত্রীর প্রধান উপদেষ্টা সুব্রত গুপ্তের স্বাক্ষরিত।
২০২৬ সালে ৪৯তম বইমেলা ২২ জানুয়ারি শুরু হয়েছিল। শেষ হয়েছিল ৩ ফেব্রুয়ারি। আসন্ন ২০২৭ সালে ৫০-এর বইমেলাও যাতে ওই সূচি মেনে হয়, সে ব্যাপারে রাজ্যকে জানিয়েছিল গিল্ড। তাতে সিলমোহর দিয়ে রাজ্য জানিয়েছে, এবারের বইমেলা আগামী ২২ জানুয়ারিই শুরু হবে। শেষ হবে ৩ ফেব্রুয়ারি। প্রকাশিত মিনিটসে ওই সূচি লেখা হয়েছে। সল্টলেক সেন্ট্রালপার্ক তথা বইমেলা প্রাঙ্গণে বইমেলা অনুষ্ঠিত হবে। ২৪ জনের যে উপদেষ্টা কমিটি করা হয়েছে, সেখানে রামকৃষ্ণ মিশনের উদ্বোধন প্রকাশনার ইনচার্জ স্বামী আর্যেশানন্দ, ভারত সেবাশ্রম সংঘের স্বামী সরস্বতানন্দ, গিল্ডের দেবজ্যোতি দত্ত, রাজকুমার বর্মন সহ অধ্যাপক-কবি-সাহিত্যিক রয়েছেন। গতবার আর্জেন্তিনা ছিল বইমেলার ফোকাল থিম কান্ট্রি। ৫০তম বছরে কোন দেশ থিম কান্ট্রি হয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন সকলে।
পাবলিশার্স অ্যান্ড বুক সেলার্স গিল্ডের সাধারণ সম্পাদক ত্রিদিব চট্টোপাধ্যায় এবং সভাপতি সুধাংশু শেখর দে বলেন, মিনিটস আমাদের হাতে এসেছে। সেখানে গিল্ডকে বইমেলার আয়োজনের দায়িত্বে রাখা হয়েছে। সহযোগিতায় আগে রাজ্য সরকার থাকত। এবার ন্যাশনাল বুক ট্রাস্ট এবং ইজেডসিসি থাকছে। ২৪ জনের একটি উপদেষ্টা কমিটি হয়েছে। তারা গিল্ডকে পরামর্শ দেবে। সকলে মিলেই আড়ম্বরে ৫০ বছরের কলকাতা বইমেলা হবে। বইমেলার সুবর্ণজয়ন্তী মানে আমাদের সকলের গর্বের দিন। আমরা চাই, ইতিহাসের সাক্ষী হতে আরও বেশি পাঠক বইমেলায় আসুন। কারণ, তাঁরাই মেলার সম্পদ।