নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আসন্ন পুরভোটে বিজেপি প্রার্থী হওয়ার জন্য আবেদনপত্র গ্রহণের মেয়াদ ফুরাল। সোমবার বিকাল ৫টায় সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউয়ের পুরানো পার্টি অফিসে থাকা ড্রপ বক্সে জমা পড়া হাজার চারেক বায়োডেটা ঝাড়াই-বাছাইয়ের জন্য চলে গেল অন্যত্র। এবার পার্টির বেঁধে দেওয়া নিয়ম-বিধি মেনে আবেদনকারীদের তুল্যমূল্য বিচার করতে বসবে রাজ্য নেতৃত্ব। সেখান থেকে খসড়া প্রার্থী তালিকা তৈরি হলে দিল্লির অনুমোদনক্রমে চূড়ান্ত প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করবে পদ্ম শিবির। এ প্রসঙ্গে কলকাতা পুরভোটের ইনচার্জ সুকান্ত মজুমদার বলেন, অনেকেই প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। অধিকাংশ ওয়ার্ডেই একাধিক নাম জমা পড়েছে। আমরা ওয়ার্ড থেকে শুরু করে রাজ্যস্তর পর্যন্ত সংগঠনের প্রতিটি স্তর থেকে মতামত নিয়ে প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত করব।
জানা গিয়েছে, কোনো ওয়ার্ডে প্রার্থী হওয়ার জন্য যাঁরা আবেদন করেছেন, তাঁদের বিষয়ে প্রথমে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের বিজেপি নেতৃত্বের মতামত নেওয়া হবে। তারপর জেলা নেতৃত্বের মতামত জানতে চাওয়া হবে। জেলা নেতৃত্ব ওই সব নামের বাইরে কাউকে প্রার্থী করতে চাইছে কি না, চাইলে কেন, সে সব বিশদে জেনে নেওয়া হবে। তারপর রাজ্যস্তরে আলোচনার পর চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হবে।
তবে কিছু আসনে কারা প্রার্থী হবেন, তা ইতিমধ্যেই রাজ্য নেতৃত্বের কাছে স্পষ্ট। এক্ষেত্রে বিজেপির ‘ঘরের কাউন্সিলারদের’ টিকিট প্রাপ্তি একপ্রকার নিশ্চিত। যেমন ৫০ নম্বর ওয়ার্ডে যদি সজল ঘোষ প্রার্থী হতে চান, তা হলে সেখানে অন্য কোনো নাম নিয়ে আলোচনা হবে না। কলকাতা পুরসভার প্রাক্তন ডেপুটি মেয়র মীনাদেবী পুরোহিত ফের ২২ নম্বর ওয়ার্ডে পদ্ম প্রতীক পেতে চলেছেন। জোড়াসাঁকোর বিধায়ক তথা ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলার বিজয় ওঝার ক্ষেত্রেও একই নিয়ম কার্যকর হতে চলেছে। অন্যদিকে, ৪৫ নম্বর ওয়ার্ডের বিদায়ী কাউন্সিলার সন্তোষ পাঠক কংগ্রেসের টিকিটে পুরভোটে জিতেছিলেন। যদিও ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটের প্রাক্কালে তিনি বিজেপিতে যোগ দেন। চৌরঙ্গি কেন্দ্র থেকে ভোটে লড়লেও নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে পরাজিত হন। সেই সন্তোষ পাঠক এবার বিজেপির টিকিটে লড়তে চাইছেন। তবে বিজেপির একাধিক নেতা-কর্মী এই ওয়ার্ড থেকে প্রার্থী হওয়ার দৌড়ে রয়েছেন। যা নিয়ে পার্টির অন্দরে চাপানউতোর শুরু হয়েছে। ৪২ নম্বর ওয়ার্ডে প্রাক্তন বিজেপি কাউন্সিলার সুনীতা ঝাওয়ারের প্রার্থী হওয়া স্রেফ সময়ের অপেক্ষা।



