নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: পুরচেয়ারম্যান ও পঞ্চায়েতের প্রধানদের হাত থেকে জন্ম-মৃত্যুর শংসাপত্র প্রদানের ক্ষমতা কেড়ে নেওয়ায় জোর বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার প্রাক্তন পুরমন্ত্রী বর্ষীয়ান সিপিএম নেতা অশোক ভট্টাচার্য বলেন, অসাংবিধানিকভাবে পুরচেয়ারম্যান ও প্রধানের কাছ থেকে জন্ম-মৃত্যুর শংসাপত্র প্রদানের ক্ষমতা কেড়েছে বিজেপি শাসিত রাজ্য সরকার। তারা পুরসভা ও পঞ্চায়েত ব্যবস্থা ধ্বংস করে দিয়ে আমলাতন্ত্র কায়েম করতে চাইছে। এসআইআরে বাতিল হওয়া ভোটারদের আর ভোটার তালিকায় স্থান না দেওয়াই উদ্দেশ্য। যদিও, প্রাক্তনমন্ত্রীর বক্তব্য মানতে নারাজ অর্থ ও পরিবহণ দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী আনন্দময় বর্মন। তাঁর বক্তব্য, পুরসভা, পঞ্চায়েত স্তরে দুর্নীতি দমন এবং সুষ্ঠুমতো পরিষেবা প্রদানেই আইন মেনে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এদিন সিপিএমের দার্জিলিং জেলা কার্যালয় অনিল বিশ্বাস ভবনে সাংবাদিক সম্মেলন করে বিজেপি শাসিত রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে গলা ফাটান প্রাক্তন পুরমন্ত্রী। তিনি বলেন, সংবিধান স্বীকৃত ব্যবস্থা হচ্ছে পুরসভা ও গ্রাম পঞ্চায়েত ব্যবস্থা। সংবিধান অনুসারে পুরসভার হাতে ১৮টি দপ্তর রয়েছে। যারমধ্যে জন্ম-মৃত্যুর শংসাপত্র প্রদানের দায়িত্ব অন্যতম। পুরচেয়ারম্যান বা মেয়র সেই শংসাপত্র প্রদান করেন। পঞ্চায়েতের প্রধানকে একই ক্ষমতা দেওয়া আছে। কিন্তু, সংবিধান সংশোধন না করে অনৈতিকভাবে পুরচেয়ারম্যান ও প্রধানদের কাছ থেকে ওই ক্ষমতা কেড়ে নিয়েছে বর্তমান সরকার।
এখানেই থামেননি অশোক। তিনি আরও বলেন, কেন্দ্রীয় অর্থ কমিশনে স্থানীয় প্রশাসন, অর্থাৎ পুরসভা ও পঞ্চায়েতে আরও ক্ষমতা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু, বর্তমান রাজ্য সরকার তা না করে সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থাগুলি ধ্বংস করতে চাইছে। গণতান্ত্রিক এই ব্যবস্থার জায়গায় ওরা আমলাতান্ত্রিক কায়েম করতে চাইছে। দুর্নীতি ধরা এর উদ্দেশ্য নয়। এসআইআরে বাদ যাওয়া ভোটারদের আর ভোটার তালিকায় ঠাঁই না দেওয়াই ওদের উদ্দেশ্য। এর তীব্র প্রতিবাদ করছি।
পালটা রাজ্যের অর্থ ও পরিবহণ দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী আনন্দময় বলেন, দেশের অন্য রাজ্যে প্রধানরা জন্ম-মৃত্যুর শংসাপত্র ইস্যু করে না। আমাদের রাজ্যেও একসময় করতেন না। তাই আইন মেনেই জন্ম-মৃত্যুর শংসাপত্র প্রদানের দায়িত্ব সরকারি আধিকারিকদের প্রদান করা হয়েছে। সীমাহীন দুর্নীতি রোধে, উন্নয়নমূলক কাজকর্ম স্বাভাবিকভাবে করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর পিছনে অন্য কোনো কারণ নেই। • নিজস্ব চিত্র।