শুভ্র চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা: অনলাইন গেমিং অ্যাপের মাধ্যমে ভারতীয় তরুণদের নিয়োগের টার্গেট করেছে পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই। গেমিং অ্যাপ থেকে বন্ধুত্ব করে তাদের নিয়ে তৈরি হচ্ছে আলাদা গ্রুপ। সেখানে চলছে মগজ ধোলাই। এরপর তাদের ভারত বিরোধী বিভিন্ন কাজে লাগানো হচ্ছে। ভাট্টি গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে তদন্তে নেমে চাঞ্চল্যকর এই তথ্য উঠে এসেছে গোয়েন্দাদের হাতে। ইতিমধ্যেই বেশকিছু গেমিং অ্যাপকে চিহ্নিত করা হয়েছে বলে খবর। এগুলি নিষিদ্ধ করার জন্য তোড়জোড় শুরু হয়েছে।
এসটিএফের হাতে ধরা পড়া শাহজাদ ভাট্টি গ্যাংয়ের সদস্য হামিম ও অদিত্য সিংয়ের মধ্যে যোগাযোগ হয়েছিল একটি গেমিং অ্যাপের মাধ্যমে। সেখান থেকে ভাট্টি গ্যাংয়ে নাম লেখায় আদিত্য। এই গেমিং অ্যাপ নিয়ে গোয়েন্দারা চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছেন। তাঁরা জেনেছেন, এই গেমিং অ্যাপগুলি নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে পাকিস্তান থেকে। আইএসআইয়ের শীর্ষকর্তারা তুর্কি থেকে এই গেমিং অ্যাপগুলি তৈরি করছে। অত্যন্ত ধীরগতির ইন্টারনেটে এই অ্যাপগুলি দ্রুত কাজ করতে পারে। এতে ভয়েস চ্যাট, মেসেজ ও ভিডিও পাঠানোর মত ফিচার রয়েছে। এই অ্যাপগুলি এনক্রিপটেড। একইসঙ্গে এই গেমিং অ্যাপের মাধ্যমে মেসেজ স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে মুছে যাওয়ার সুবিধা রয়েছে। গোয়েন্দারা জেনেছেন, আইএসআইয়ের নির্দেশমতো এগুলি চালাচ্ছে ভাট্টি গ্যাং। ভয়েস ওভার ইন্টারনেট প্রোটোকল (ভিওআইপি) পদ্ধতি ব্যবহার করে অবৈধভাবে এগুলি ডাউনলোড করা হচ্ছে। যে কারণে অনলাইন কার্যকলাপ ট্র্যাক ও ডেটা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে তদন্তকারীদের কাছে। ভয়েস চ্যাট ও মেসেজ পাঠানোর সুবিধা থাকায় গেমিং অ্যাপে অংশ নেওয়া তরুণদের বাড়তি টাকা রোজগারের প্রলোভন দেখাচ্ছে আইএসআই । কেউ এই টোপে পা দিলেই আলাদা একটি গ্রুপ তৈরি হচ্ছে তাদের নিয়ে। সেখানে মগজ ধোলাই সহ বিভিন্ন ধরনের থিওরিটিকাল প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এরপর কিছুজনকে চরবৃত্তির কাজে নামানো হচ্ছে। বাকিদের দিয়ে স্লিপার সেল তৈরি, অস্ত্র, বিস্ফোরক জোগাড়ের কাজ করাচ্ছে পাক আইএসআই। ভাট্টি গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে তদন্তে নেমে এই ধরনের একাধিক অ্যাপের তথ্য হাতে এসেছে। এগুলি নিয়ন্ত্রণ করছে যারা, তাদের সম্পর্কে জানতে ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।