ঢাকা: মহম্মদ ইউনুস কি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার পদ থেকে ইস্তফা দিচ্ছেন? বৃহস্পতিবার থেকে বাংলাদেশজুড়ে এই প্রশ্নই সকলের মুখে। যার রেশ চলেছে শুক্রবারেও। ইউনুস সরাসরি এনিয়ে এখনও কোনও মন্তব্য করেননি। যদিও শোনা যাচ্ছে, বৃহস্পতিবার উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে তিনি পদত্যাগ করার ইচ্ছাপ্রকাশ করেন। বৈঠকে ইউনুস জানান, বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তিনি ক্ষুব্ধ ও হতাশ। ঠিকভাবে কাজ করতে না পারলে প্রধান উপদেষ্টার পদে থেকে লাভ নেই। তবে অন্য উপদেষ্টারা ইউনুসকে নিরস্ত করেন।
সূত্রের খবর, বিষয়টি প্রথমে জল্পনার স্তরে ছিল। পরে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকের পর জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম জানান, ইউনুস ইস্তফা দিতে চাইছেন। শুরু হয়ে যায় তুমুল হইচই। ইতিমধ্যে ইউনুসের সমর্থনে রাস্তায় নামার কথা জানিয়েছে ‘বৈষম্যবিরোধী’রা। শনিবার ঢাকার শাহবাগে ‘মার্চ ফর ইউনুস’ নামে মিছিলের ডাক দেওয়া হয়েছে। বৈষম্যবিরোধীদের দাবি, ইউনুস সরকারকে পাঁচ বছর ক্ষমতায় রাখতেই হবে। আগে সংস্কার, তারপরে নির্বাচন।
কিন্তু ইউনুসের এমন মন্তব্যের কারণ কী? রাজনৈতিক মহলের মতে, প্রধান উপদেষ্টাকে প্রবল চাপে ফেলে দিয়েছেন বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। সম্প্রতি তিন বাহিনীর প্রধান একসঙ্গে ইউনুসের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। এরপর ঢাকায় সেনার অনুষ্ঠানে ওয়াকার হুঁশিয়ারির সুরে জানিয়ে দেন, চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই সাধারণ নির্বাচন করতে হবে। জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোনও কিছু মেনে নেওয়া হবে না বলেও স্পষ্ট জানান ওয়াকার। সেনাবাহিনীকে কিছু না জানিয়ে যেভাবে রাখাইন করিডর তৈরি, চট্টগ্রাম ও সেন্ট মার্টিন দ্বীপে বিদেশি শক্তিকে প্রবেশের ছাড়পত্র দেওয়া হচ্ছে, তা নিয়েও প্রবল ক্ষুব্ধ তিনি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, ‘মব’-এর অত্যাচার, ইউনুস সরকারের আন্তর্জাতিক নীতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়েছে। দ্রুত নির্বাচন সহ বিভিন্ন ইস্যুতে চাপ বাড়াতে শুরু করেছে বিএনপি সহ অন্য রাজনৈতিক দলগুলিও। সব মিলিয়ে দিশেহারা অবস্থা ইউনুসের।
বিরোধীদের মতে, নির্বাচিত সরকার এলে ইউনুসের আর কোনও ভূমিকা থাকবে না। বৈষম্যবিরোধী দল এনসিপি কতগুলি আসন জিততে পারবে, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। তাই ক্ষমতায় থাকতেই নির্বাচন পিছতে চাইছেন ইউনুস। পদত্যাগ করার কথা বলে আপাতত তিনি সাধারণ মানুষের ‘সমবেদনা’ পেতে চাইছেন বলেই ধারণা রাজনৈতিক মহলে। বৃহস্পতিবারই বিএনপি সহ একাধিক দল জানিয়ে দেয়, ইউনুস ‘নাটক’ করছেন। তবে ইউনুসকে পদত্যাগ না করার আর্জি জানিয়েছে জামাত শিবির। সূত্রের খবর, চাপের মুখে কয়েক দিনের মধ্যেই নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা করতে পারে তত্ত্বাবধায়ক সরকার।
এদিকে, শুক্রবার ইউনুসের বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমেদ তৈয়ব জানান, প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করছেন না। সমাজমাধ্যমে একটি পোস্টে তিনি দাবি করেন, উপদেষ্টাদেরও যেমন আরও কাজ করার দরকার, তেমনই সেনাবাহিনীও রাজনীতিতে নাক গলাতে পারবে না। ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচনের কথা বলে সেনাপ্রধান এক্তিয়ার ভেঙেছেন বলেও দাবি করেন তৈয়ব। যদিও অজ্ঞাত কারণে সেই পোস্ট ডিলিট করে দেন তিনি। এদিনই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অনুষ্ঠানে পরিবেশ বিষয়ক উপদেষ্টা রেজওয়ানা চৌধুরী দাবি করেন, ‘আমাদের তিনটি দায়িত্ব—সংস্কার, বিচার ও নির্বাচন। শুধুমাত্র নির্বাচন করার জন্য আমরা দায়িত্ব নিইনি। ডিসেম্বর থেকে আগামী বছরের জুনের মধ্যে নির্বাচন হবে।’ এর মধ্যেই বাংলাদেশ সেনা জানিয়েছে, তাদের নাম ও লোগো ব্যবহার করে একাধিক ভুয়ো খবর প্রচার করা হচ্ছে। কোনওরকম গুজবে কান দেওয়ার প্রয়োজন নেই।