


নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া ও সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: জেলার ১২টি আসনের মধ্যে আটটি আসনে গতবার পরাজিত হয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। তার থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার জেলায় কলকাতা বা ভিন জেলা থেকে কাউকে উড়িয়ে এনে প্রার্থী করার সম্ভাবনা কম। প্রার্থী বাছাইয়ে বাঁকুড়ার ভূমিপুত্রদের গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সেক্ষেত্রে বেশকিছু নতুন মুখ দেখা যেতে পারে বলে তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে। দলের কর্মীরা প্রার্থী তালিকা ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছেন। ইতিমধ্যেই নাম ফাঁকা রেখে দেওয়াল দখলের কাজ সেরে রেখেছে তৃণমূল। নাম ঘোষণা গেলেই সেই শূন্যস্থান পূরণ করবেন তাঁরা।
বিজেপি-র বাঁকুড়া সাংগঠনিক জেলার সভাপতি প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় বলেন, শাসক দল হিসাবে তৃণমূলেরই প্রথম প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা উচিত। অথচ তারাই শেষে প্রার্থী ঘোষণা করছে। আসলে টিকিট বিলি নিয়ে তৃণমূলের অন্দরে কোন্দল চলছে। বাঁকুড়ায় বিধানসভা পিছু তিন-চারজন করে টিকিট পাওয়ার জন্য উঠেপড়ে লেগেছেন। টিকিট না পেলেই বিক্ষোভ হবে। সেই ক্ষোভ চাপা দিতেই তৃণমূল দেরি করছে।
বাঁকুড়ার সাংসদ তথা রাজ্য তৃণমূল নেতা অরূপ চক্রবর্তী বলেন, আমাদের দল এখন আস্তিনের তলায় তাস লুকিয়ে রেখেছে। ঠিক সময়ে তা ফেলা হবে। ছাত্র-যুব-মহিলারা প্রস্তুত রয়েছে। লড়াইয়ের আগেই বিরোধীরা ওয়াকওভার দেবে। ফাঁকা ময়দানে আমরা ভোট করাব। ভোটের দিন ইভিএমে শুধু ঘাসফুল চিহ্নের পাশে থাকা আলোই বার বার জ্বলবে। বিরোধীরা কে কার সঙ্গে জোট বেঁধে ঘোঁট পাকাবে, তা ঠিক করুক। তারপর আমাদের নিয়ে ভাববে।
গত বিধানসভা নির্বাচনে জেলার ১২টি আসনের মধ্যে তৃণমূল মাত্র চারটিতে জয় পেয়েছিল। ওই চার বিধানসভায় প্রার্থী পরিবর্তন হবে না বলেই অনেকে মনে করেছিলেন। কিন্তু, শেষ মুহূর্তে বড়জোড়ায় এক ব্যবসায়ী এবং জঙ্গলমহলের তিনটি বিধানসভায় অরাজনৈতিক কয়েকজনের নাম নিয়ে জল্পনা ছড়িয়েছে। তালডাংরা আসনে বাঁকুড়ার এক হেভিওয়েট নেতা টিকিট পাওয়ার চেষ্টা করছেন। ছাতনা ও শালতোড়ায় স্থানীয় ব্লক নেতৃত্বের মধ্যে থেকেই প্রার্থী বাছাইয়ের সম্ভাবনা প্রবল। ওন্দা ও বাঁকুড়া আসন নিয়ে তৃণমূলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি চর্চা হচ্ছে। ওন্দা বিধানসভায় বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলার নেতা অথবা তাঁদের পরিবারের কয়েকজন সদস্যর নাম শোনা যাচ্ছে। বাঁকুড়া আসনে এক চিকিৎসকের টিকিট পাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। তবে জেলা তৃণমূলের কয়েকজন শীর্ষ নেতানেত্রীও টিকিট পাওয়ার দৌড়ে রয়েছেন। বিষ্ণুপুর ও কোতুলপুর আসন নিয়ে তৃণমূল খুব একটা ভাবছে না। ওই দুই আসনে বর্তমান বিধায়কদেরই প্রার্থী করা হতে পারে। তাঁরা বিজেপি-র টিকিটে জেতার পর তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন। সোনামুখীতে এক অবসরপ্রাপ্ত চিকিৎসককে প্রার্থী করা হতে পারে। গত লোকসভা নির্বাচনে বিষ্ণুপুর কেন্দ্রে তাঁকে প্রার্থী করা হতে পারে বলে ঘাসফুল শিবিরে গুঞ্জন শোনা গিয়েছিল। যদিও শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। ইন্দাসে স্থানীয় পঞ্চায়েত সমিতির এক মহিলা জনপ্রতিনিধির নাম চর্চায় সবার উপরে রয়েছে। তিনি ব্লক নেতৃত্বের ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত। নিজস্ব চিত্র