


সন্দীপ স্বর্ণকার, নয়াদিল্লি: নরেন্দ্র মোদির কেন্দ্র বারাণসীতেও ভোট চুরি হয়নি তো? বিরোধীদের বৈঠকে উঠল এই প্রশ্ন। কর্ণাটকের বেঙ্গালুরু-সেন্ট্রাল এবং মহাদেবপুরা বিধানসভায় জালিয়াতি করেই ভোট জিতেছে বিজেপি, অভিযোগের এই ‘অ্যাটম বোমা’ ইতিমধ্যেই ফাটিয়েছেন রাহুল। তবে এখানেই থেমে গেলে চলবে না। গোটা দেশের আরও কয়েকটি কেন্দ্রে তা করতে হবে বলেই বিরোধীদের বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। বিশ্বস্ত সূত্রে খবর, রাহুল গান্ধীকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রস্তাব দিয়েছেন, মোদির কেন্দ্র বারাণসীতেও জাল, ডুপ্লিকেট বা প্রথমবারের ভোটার দিয়ে ভোট হয়নি তো? বিশ্লেষণ করুন। খুঁজে বের করুন খুঁত।
অভিষেকের মতে, অনেক আগেই এই জাল ভোটার ইস্যু ধরা উচিত ছিল। ঠিক যেভাবে তৃণমূল করেছে। বাংলায় ভোট ২০২৬। কিন্তু চলতি বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি ডুপ্লিকেট এপিক ইস্যুতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সবার আগে সরব হয়েছিলেন। ফলে কংগ্রেসের আগেই সজাগ হওয়া উচিত ছিল। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে বারাণসীতে কংগ্রেস প্রার্থী অজয় রাইকে ১ লক্ষ ৫২ হাজার ৫১৩ ভোটে হারিয়ে জিতেছিলেন নরেন্দ্র মোদি। এদিকে, রাহুল গান্ধীকে রীতিমতো হুমকি দিয়েছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। কর্ণাটক ইস্যুতে রাহুলের বোমায় ‘আহত’ কমিশন বলেছে, হয় যা দাবি করেছেন তা লিখিত জমা দিন। নয়ত কমিশনের নামে বিভ্রান্তি ছড়ানোর জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা চান।
বৃহস্পতিবার রাতে বিরোধী দলনেতা হিসেবে পাওয়া রাহুল গান্ধীর সরকারি বাংলোয় বসেছিল ‘ইন্ডিয়া’ জোটের নৈশভোজ বৈঠক। আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন রাহুলই। হাজির ছিলেন লোকসভা এবং রাজ্যসভায় তৃণমূলের দলনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ডেরেক ও’ব্রায়েন। নৈশভোজের আট গোল টেবিলের একটিতে বসেছিলেন অভিষেক, তেজস্বী, মেহবুবা মুফতি, কানিমোঝি, সুপ্রিয়া সুলে, সঞ্জয় রাউত, আদিত্য থ্যাকারে, ডেরেক। সেখানেই একটি চেয়ার টেনে নিয়ে অভিষেকের ঠিক পাশেই বসেন রাহুল।
খেতে খেতে ৪৫ মিনিট স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন ইস্যুতে কথা হয়। ১ সেপ্টেম্বর বিহারে নাম বাদ দেওয়া বা অন্তর্ভূক্তি অথবা সংশোধনের আবেদন জানানোর শেষ তারিখ। ওইদিনই পাটনায় বিশাল প্রতিবাদসভায় আয়োজন করেছে কং-আরজেডি। তবে সেখানেই থেমে গেলে চলবে না। নৈশভোজে রাহুলকে অভিষেক বলেছেন, এসআইআর ইস্যু জিইয়ে রাখতেই হবে। অন্তত আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত। এ বিষয়ে পরে বিস্তারিত পরিকল্পনা হবে বলেই আলোচনা হয়েছে। আপাতত আগামী সোমবার দিল্লিতে নির্বাচন সদন ঘেরাও কর্মসূচি সফল করার ওপরই জোর দেওয়া হয়েছে। এদিকে, শুক্রবারও এসআইআর ইস্যুতে সংসদ অচল হয়েছে। পাশাপাশি সংসদ চত্বরে বাংলা ভাষাকে অপমানের প্রতিবাদেও সোচ্চার হয়েছে বিরোধীরা।