Bartaman Logo
২৮ মে, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

পাম্পগুলিতে জ্বালানি বিক্রয়ে রাশ, এবার কি সংকটের মুখে পেট্রল-ডিজেলের জোগানও? দামবৃদ্ধির আশঙ্কা

গ্যাস নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে যে সংকট চলছে, তা কি এবার পেট্রল-ডিজেলেও আসতে চলেছে? এবার কি কেন্দ্রীয় সরকার ইচ্ছাকৃতভাবেই পেট্রল ও ডিজেলের জোগানে সংকট তৈরি করতে চাইছে?

পাম্পগুলিতে জ্বালানি বিক্রয়ে রাশ, এবার কি সংকটের মুখে পেট্রল-ডিজেলের জোগানও? দামবৃদ্ধির আশঙ্কা
  • ২০ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০

বাপ্পাদিত্য রায়চৌধুরী, কলকাতা: রান্নার গ্যাস নিয়ে নাজেহাল গৃহস্থ। বাণিজ্যিক সিলিন্ডার নিয়ে রীতিমতো নাভিশ্বাস উঠছে ব্যবসায়ী মহলে। একে সিলিন্ডার বুকিংয়ে সমস্যা। বুকিং হলেও ডেলিভারি নিয়ে সংকট বাড়ছে বহু গ্রাহকেরই। গ্যাস ডিস্ট্রিবিউটররা জানাচ্ছেন, তাঁদের কাছে প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম সিলিন্ডার পাঠাচ্ছে তেল সংস্থাগুলি। গ্যাস নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে যে সংকট চলছে, তা কি এবার পেট্রল-ডিজেলেও আসতে চলেছে? এবার কি কেন্দ্রীয় সরকার ইচ্ছাকৃতভাবেই পেট্রল ও ডিজেলের জোগানে সংকট তৈরি করতে চাইছে? পরিস্থিতি যেদিকে যাচ্ছে, তাতে এই প্রশ্নই সবচেয়ে বড়ো আকার নিতে চলেছে। ইতিমধ্যেই দাম বাড়ানো হয়েছে রান্নার গ্যাস ও অটো এলপিজির। যেকোনো দিন পেট্রল-ডিজেলের দাম বৃদ্ধির আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।   

Advertisement

ভারতীয় বাজারে জ্বালানির দাম আন্তর্জাতিক বাজারে তুলনায় কম। সংশ্লিষ্ট মহলের ব্যাখ্যা, বর্তমানে যে দরে পেট্রল বিক্রি হচ্ছে, তাতে লিটার পিছু ২০ লোকসান করছে তেল সংস্থাগুলি। ডিজেলের ক্ষেত্রে লোকসান লিটার পিছু ৪৫ টাকা। তিনটি রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থার এতে নাকি গড়ে দু’হাজার কোটি টাকা লোকসান হচ্ছে। এই লোকসানের বোঝা কমাতেই তেল বিক্রিতে রাশ টানতে চাইছে তেল সংস্থাগুলি, এমনটাই মনে করা হচ্ছে। 
ওয়েস্ট বেঙ্গল পেট্রলিয়াম ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট অভিজিৎ হাজরা বলেন, অতিসম্প্রতি আমাদের জানানো হয়েছে, আমরা দুপুর ১২টার পর আর জ্বালানির বরাত দিতে পারব না বা ইন্ডেন করতে পারব না। তাই যদি তেলের চাহিদা থাকে, তাহলে পাম্প ড্রাই হয়ে গেলেও আমরা নিরুপায়। 
ডিলারদের বক্তব্য, যেকোনো উপায়ে তেলের বিক্রি কমাতে চাইছে কেন্দ্রীয় সরকার। তাই নানা ধরনের শর্ত আরোপ করা হচ্ছে। সাধারণত পাম্পগুলি সকাল ন’টা থেকে তেল সংস্থাগুলিতে জ্বালানির বরাত দেয়। চারঘণ্টা সময়সীমা কমে যাওয়া মানে হাতে মাত্র তিনঘণ্টা সময় থাকে। এক্ষেত্রে পাম্পের জোগান তলানিতে এসে ঠেকতে পারে। ক্রেতারা যদি তেল না থাকার আশঙ্কায় একবার আতঙ্কিত হয়ে পড়েন, তাহলে তাঁরা প্রয়োজনের তুলনায় আরো বেশি করে জ্বালানি কিনবেন। তা আদৌ সুষ্ঠু পরিস্থিতি বজায় রাখবে না। 
ডিলারদের দাবি, ২০০৮ সালে এমনই এক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, যেখানে প্যানিক বা আতঙ্কে বিক্রি বেড়ে গিয়েছিল আচমকাই। তার ফলে মোটেই ভালো হয়নি। তাছাড়া, যে ক্রুড বর্তমানে আসছে, তা পরিশোধিত হয়ে বাজারে আসতে মাস তিনেক সময় লাগে। বাজারে এখন যা বিক্রি হচ্ছে, তা পুরানো জ্বালানি। এখনই কেন সরকার এত শর্ত জারি করছে, তা মাথায় ঢুকছে না অনেকেরই।  ডিলারদের বক্তব্য, জ্বালানি নিয়ে দেশের বর্তমান পরিস্থিতি কী, তা স্পষ্ট করে জানানো উচিত কেন্দ্রের। 

সম্পর্কিত সংবাদ