Bartaman Logo
২৬ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বামেদের জরিমানা ও বয়কট প্রথা কি ফেরাচ্ছে বিজেপি? তৃণমূলের প্রাক্তন কর্মাধ্যক্ষের আত্মহত্যায় প্রশ্ন নিন্দায় আদি গেরুয়া নেতারা

বর্ধমানে স্বরূপ রানা আত্মহত্যার পর বিজেপির বিরুদ্ধে জরিমানা ও বয়কটের অভিযোগ উঠেছে। রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত পড়ুন।

বামেদের জরিমানা ও বয়কট প্রথা কি ফেরাচ্ছে বিজেপি? তৃণমূলের প্রাক্তন কর্মাধ্যক্ষের আত্মহত্যায় প্রশ্ন  নিন্দায় আদি গেরুয়া নেতারা
  • ২৬ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুখেন্দু পাল, বর্ধমান:  বর্ধমান-১ পঞ্চায়েত সমিতির প্রাক্তন কর্মাধ্যক্ষ স্বরূপ রানার আত্মহত্যার ঘটনা একাধিক প্রশ্ন তুলে বিড়ম্বনায় ফেলে দিয়েছে শাসকদল বিজেপিকে। প্রথম যে প্রশ্নটি সাধারণ মানুষকে বেশি ভাবাচ্ছে, তা হল সিপিএম জমানার ধাঁচেই কি গ্রামীণ রাজনীতির রাশ দখলে নিতে চাইছে গেরুয়া শিবির? দীর্ঘ ৩৪ বছরের নিরবচ্ছিন্ন বাম শাসনে জরিমানা, সামাজিক বয়কটের মতো ‘শাস্তি-প্রথা’র বেশ জাঁকিয়ে বসেছিল। সেই পথকে কি অনুসরণ করছে বিজেপিও? রায়নার স্বরূপ রানা একটি উদাহরণমাত্র। জেলায় জেলায় এরকম বহু অভিযোগ সামনে আসছে। এসব দেখেশুনে যথেষ্ট বিব্রত বিজেপির আদি নেতারা। মুখ ঢাকছেন লজ্জায়। তাঁদের বক্তব্য, বিজেপি জরিমানা, বয়কট কালচারে বিশ্বাস করে না। নেপথ্যে কারা, তা নিয়ে দল ময়নাতদন্ত করবে। তবে প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে, দলের ভিতরে তৎকাল বিজেপিদের দাপট বাড়ছে। সম্ভবত তারাই এসব কুকর্ম করে বেড়াচ্ছে। অবিলম্বে বিষয়টির উপর শীর্ষ নেতৃত্বের নজর দেওয়া উচিত। তা না হলে দলকে মূল্য চোকাতে হবে। আদি নেতারা এটাও মনে করিয়ে দিচ্ছেন, এলাকার কোনো বিজেপি নেতাকে দেখে মানুষ ভোট দেয়নি। মানুষ ভোট দিয়েছেন স্রেফ তৃণমূলের লাগামহীন দুর্নীতি আর অত্যাচারের বিরুদ্ধে। সিপিএমের সংস্কৃতি ফেরানোর শিক্ষা দেয় না সংঘ পরিবার।  

Advertisement

বিজেপি সূত্রে খবর, স্বপন রানার ঘটনায় ইতিমধ্যেই জেলার কাছে পূর্ণাঙ্গ রির্পোট চেয়ে পাঠিয়েছে রাজ্য নেতৃত্ব। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পুলিশ, প্রশাসনকেও কড়া পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। এছাড়াও জানা গিয়েছে, দলীয়ভাবেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। ক’দিন আগেও বিজেপির দুই যুব নেতার বিরুদ্ধে এক কোটি টাকা তোলা চাওয়ার অভিযোগ ওঠে বর্ধমানে। ওই দুই নেতাকে শোকজ করা হয়েছে। তৃণমূলের দাবি, এভাবে জেলার একাধিক গ্রামেই তোলাবাজি এবং জরিমানা চলছে। যে সকল তৃণমূল নেতারা টাকা দিতে পারছেন, তাঁদের কোনো সমস্যা হচ্ছে না। যাঁরা চাহিদা মতো টাকা দিতে পারছেন না, তাঁদের বিভিন্নভাবে অত্যাচার করা হচ্ছে। 
অভিযোগ যে একেবারে অমূলক নয়, তা পক্ষান্তরে মেনেও নিচ্ছেন বিজেপির প্রাবীণ নেতারা। জেলার এক আদি নেতা বলছিলেন, রাজ্য সভাপতি সবার উদ্দেশ্যেই কড়া বার্তা দিয়েছেন। তারপরও যাঁরা বেপরোয়া মনোভাব দেখাচ্ছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এটা মনে রাখতে হবে, এলাকার কোনো বিজেপি নেতার মুখ দেখে মানুষ ভোট দেয়নি। তৃণমূলের বিরুদ্ধে ক্ষুদ্ধ হয়ে বিজেপিকে জিতেয়েছে। যদি কোনো নেতা মনে করেন, তিনি দলের কাছে অপরিহার্য তা হলে তিনি ভুল করবেন। 
জেলা বিজেপির প্রবীণ নেতা নরেশ কোনারও বলছিলেন, ‘দলের শৃঙ্খলা সকলকেই মেনে চলতে হবে। আইন হাতে তুলে নিলে প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে।’ বিজেপির মণ্ডল সভাপতি রাজকুমার সাউয়ের কথায়, ‘বর্ধমান-১ ব্লকে যে ঘটনা হয়েছে তা অত্যান্ত নিন্দনীয়। কাউকে জরিমানা করার অধিকার কারও নেই। দল কড়া পদক্ষেপ নেবে।’ তৃণমূলের অভিযোগ, জরিমানা বা সামাজিক বয়কটের মত সামাজিক রোগ সিপিএমের আমলে ছিল। সেই যুগ আবার ফিরিয়ে আনছে বিজেপি। স্বপনবাবু আত্মহত্যা না করলে হয়তো এই বিষয়টি সামনে আসত না। তৃণমূল নেতা দেবু টুডু বলেন, ‘মানুষ সব কিছুই দেখছে। এভাবে অত্যাচার করা ঠিক নয়।’ 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ