Bartaman Logo
২৫ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বাংলাদেশে পালানোর পথে জল সীমান্তে কি নজরবন্দি জাহাঙ্গির?

তৃণমূলের ‘সেনাপতি’ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছায়াসঙ্গী তথা ‘ফলতার ত্রাস’ জাহাঙ্গির খান কোথায়? এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে ডায়মণ্ডহারবার পুলিশ জেলায়।

বাংলাদেশে পালানোর পথে জল সীমান্তে কি নজরবন্দি জাহাঙ্গির?
  • ৬ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: তৃণমূলের ‘সেনাপতি’ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছায়াসঙ্গী তথা ‘ফলতার ত্রাস’ জাহাঙ্গির খান কোথায়? এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে ডায়মণ্ডহারবার পুলিশ জেলায়।

Advertisement

জনগণের মধ্যে একটাই চর্চা, যাঁর নামে এক সময় বাঘে গোরুতে এক ঘাটে জল খেত, সেই জাহাঙ্গির ভোটের ফল বেরনোর সঙ্গে সঙ্গে কি এলাকা ছেড়ে বেপাত্তা হলেন? তাঁর শাগরেদরাও একে একে এলাকা ছাড়তে শুরু করেছেন বলে জানা যাচ্ছে। তবে সূত্রের খবর, জলপথে সীমান্ত পেরনোর আগেই কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা জাহাঙ্গীরকে নজরবন্দি করে ফেলেছেন। সেই জাল কেটে এই দোর্দণ্ডপ্রতাপ তৃণমূল নেতার বেরনো একপ্রকার অসম্ভব বলেই মনে করা হচ্ছে। 
গত ২৯ এপ্রিল রাজ্যে দ্বিতীয় দফা ভোটগ্রহণের আগের দিন ফলতায় জাহাঙ্গিরের বাড়িতে গিয়েছিলেন বাংলায় পুলিশ পর্যবেক্ষক হয়ে আসা আইপিএস অজয় পাল শর্মা। সেদিন তাঁর বাড়ির সামনে দাঁড়িয়েই ওই পুলিশ অফিসার বলে এসেছিলেন, ভোটারদের হুমকি, ভীতি প্রদর্শন ইত্যাদি যেন একদম না হয়। তারপর ভোটের দিন দেখা যায়, যথারীতি দাপিয়ে বেড়াচ্ছে জাহাঙ্গিরের বাহিনী। নিজের পার্টি অফিসের বসেই ভোট ‘পরিচালনা’ করেছিলেন অভিষেক ঘনিষ্ঠ এই নেতা। ভোট শেষে জাহাঙ্গির সংবাদমাধ্যমকে জানান, অজয় পাল শর্মা ‘সিংহম’ হলে তিনিও ‘পুষ্পা’। মাথা নোয়াবেন না। বেশ ফুরফুরে মেজাজেই ছিলেন ৪ মে পর্যন্ত।  সকাল সকাল নিজের পার্টি অফিসে এসে বসেছিলেন রাজ্যজুড়ে তৃণমূলের বিপুল জয় দেখার জন্য। বেশ কয়েকবার কথাও বলেন দলের শীর্ষনেতাদের সঙ্গে। দুপুর গড়াতেই স্পষ্ট হয়ে যায় যে সরকার গড়তে চলেছে বিজেপি। সূত্রের খবর, তারপরই নিজের ঘনিষ্ঠ বৃত্তের জনা দশেক শাগরেদকে নিয়ে পার্টি অফিস ছাড়েন জাহাঙ্গির। তারপর থেকে আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি তার। ফোনও বন্ধ। 
এই প্রেক্ষাপটে ফলতাজুড়ে একটাই আলোচনা, কোথায় গেলেন জাহাঙ্গির? সেই সঙ্গে কীভাবে জাহাঙ্গিরের বাহিনী মানুষকে অপহরণ করে নিয়ে গিয়ে মারধর করত, ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দিত, ধর্ষণ করত—সেসব ঘটনাও সামনে আসতে শুরু করেছে। ফলতা থানার ওসি যে তাঁর অনুমতি ছাড়া কোনো অভিযোগ নিতেন না, তাও প্রকাশ্যে বলছেন অনেকে। ফলতা থানার পুলিশের সঙ্গে জাহাঙ্গির ও তাঁর দলবল কেমন ব্যবহার করত, তা নিয়ে সরব হয়েছেন পুলিশকর্মীরাই। তবে সরকার বদল নিশ্চিত হতেই জাহাঙ্গির বুঝে যান, সময় ফুরিয়েছে! এরপরই তিনি গা-ঢাকা দেন। সূত্রের খবর, তিনি সুন্দরবন সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পালানোর চেষ্টা করেন। সেই পথেই কড়া নজর রেখেছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। এখন বাহিনী তাঁকে কার্যত নজরবন্দি করে রেখেছে। সেখান থেকে পলায়ন সম্ভব নয় বলেই মনে করা হচ্ছে। 
এদিকে, জাহাঙ্গিরের পাশাপাশি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘনিষ্ঠ পুলিশকর্তা শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের বিরুদ্ধে লুক আউট নোটিস জারি হয়েছে। জোর করে জমি দখলের মামলায় তাঁকে খুঁজছে ইডি। নোটিসের কপি দেশের সবক’টি বিমানবন্দরে পাঠানো হয়েছে। ডিসি পদমর্যাদার এই অফিসার কলকাতার কোথায় লুকিয়ে রয়েছেন, জানার চেষ্টা চালাচ্ছে ইডি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ