Bartaman Logo
২৭ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ইউরোপে গ্রীষ্মে ভোগান্তির নেপথ্যে পরিবেশের স্বচ্ছতা? দূষণ কি গরম কিছুটা রুখছে? চর্চা বিশেষজ্ঞ মহলে

ইউরোপের বিভিন্ন দেশে সম্প্রতি যে প্রচণ্ড গরম পড়েছে তার অন্যতম কারণ কি দূষণমুক্ত পরিবেশ? আর বাতাস দূষিত থাকাতেই গরম থেকে আমরা কিছুটা হলেও রেহাই পাচ্ছি!

ইউরোপে গ্রীষ্মে ভোগান্তির নেপথ্যে পরিবেশের স্বচ্ছতা? দূষণ কি গরম কিছুটা রুখছে? চর্চা বিশেষজ্ঞ মহলে
  • ২৭ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ইউরোপের বিভিন্ন দেশে সম্প্রতি যে প্রচণ্ড গরম পড়েছে তার অন্যতম কারণ কি দূষণমুক্ত পরিবেশ? আর বাতাস দূষিত থাকাতেই গরম থেকে আমরা কিছুটা হলেও রেহাই পাচ্ছি! কিছু বিশেষজ্ঞের মত এমনই। দূষণবৃদ্ধির কারণে ‘গ্রিন হাউস গ্যাস’ বেড়ে গিয়েছে এবং গ্লোবাল ওয়ার্মিং হচ্ছে। এটা ঠিক। এতে সামগ্রিকভাবে বিশ্বজুড়ে তাপমাত্রা অল্প অল্প করে বাড়ছে। কিন্তু দূষণের জন্য বায়ুমণ্ডলে যে ‘অ্যারোসল’ বা বাতাসে ভাসমান ক্ষুদ্র কঠিন ও তরল কণা থাকে তা সূর্যের তাপকে কিছুটা আটকে দিয়ে উপরে ফেরত পাঠিয়ে দেয়। এতে সাময়িকভাবে তাপমাত্রা কিছুটা কমে। 

Advertisement

জিয়োলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়ার অবসরপ্রাপ্ত ডিরেক্টর শিখেন্দ্র দে এই বিষয়টি নিয়ে গবেষণামূলক কাজ করে সামাজিক মাধ্যমে তা প্রকাশ করেছেন। সেখানে তিনি বলেছেন, বিভিন্ন ব্যবস্থা নিয়ে ইউরোপের দেশগুলি দূষণের মাত্রা অনেকটাই কমিয়েছে। সেখানে বাতাসে অ্যারোসলের মাত্রা খুব কম। তাই মেঘমুক্ত ঝকঝকে নীল আকাশের দেখা মেলে অনেক বেশি। কিন্তু এতে বিপদ হয়েছে অন্য। সূর্যের তাপ কোনোরকম বাধা না পেয়ে সেখানে ভূপৃষ্ঠে চলে আসছে। এতে তাপমাত্রা আরও বেড়ে যাচ্ছে। বৃষ্টিও কম হচ্ছে।
আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাঞ্চলীয় অধিকর্তা হবিবুর রহমান বিশ্বাস জানান, বায়ুমণ্ডলে ভাসমান ক্ষুদ্র কঠিন ও তরল কণা সূর্যের আলোকে কিছুটা আটকে উপরে ফেরত পাঠায় এটা ঠিক। কিন্তু এই কারণের জন্যই শুধু ইউরোপে তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে, এটা বলা যায় না। উষ্ণ বাতাস প্রবাহিত হওয়াসহ অন্য কারণও আছে। বাতাসে ভাসমান কণা বৃষ্টিপাতের ক্ষেত্রে  সহায়ক ভূমিকা পালন করে। জানিয়েছেন তিনি। সমুদ্র থেকে যে লবণাক্ত জলীয় বাষ্প প্রবেশ করে তার মধ্যেও সূক্ষ্ম কণা থাকে। তবে পাশাপাশি সূক্ষ্ম কণার জন্য ভূপৃষ্ঠ থেকে তাপের বিকিরণ বাধা পায়। এর আস্তরণে বাধা পেয়ে ভূপৃষ্ঠের তাপ রাতে বায়ুমণ্ডলে ফিরে যেতে বাধা পায়। এই কারণে ভোরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা অনেক সময় বেড়ে যায়।
পরিবেশবিদ এস এম ঘোষ জানান, গাড়ি, কারখানা প্রভৃতি থেকে ধোঁয়ার নির্গমনসহ বিভিন্ন কারণে বাতাসে ‘অ্যারোসল’ বাড়ে।  এজন্য বায়ুদূষণ হয়। তবে এটা ঠিক অ্যারোসল সূর্যের তাপকে কিছুটা হলেও বাধা দেয়।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ