


ওয়াশিংটন: পশ্চিম এশিয়ায় আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে চুক্তি কি চূড়ান্ত হওয়া পথে? নাকি এখনও দু’পক্ষের মধ্যে জটিলতা কাটেনি? দুই দেশের একাধিক দাবি ও পালটা দাবির জেরে বিষয়টি নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েই গিয়েছে। রবিবারই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, ওয়াশিংটন ও তেহরান শান্তি চুক্তি চূড়ান্ত করার কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে। চুক্তিতে অনেক বিষয় আছে। তার মধ্যে অন্যতম হরমুজ প্রণালী। চুক্তির অংশ হিসাবে ওই প্রণালী খুলে দেওয়া হবে। তারপরই মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমস দাবি করে, মার্কিন শর্ত মেনেই ইরান তাদের উচ্চমানের ইউরেনিয়ামের ভাণ্ডার হস্তান্তরে রাজি হয়েছে।
আগামী ৩০ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে এই হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে পারে। যদিও এই খবরের সত্যতা সরাসরি খারিজ করে দিয়েছে তেহরান। ইরানের এক শীর্ষ আধিকারিক সাফ জানিয়েছেন, ইউরেনিয়াম হস্তান্তরের কোনও প্রশ্নই নেই। আমেরিকার সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনায় ইরানের পরমাণু চুক্তির বিষয়টি ছিল না। পরমাণু কর্মসূচির বিষয়টি চূড়ান্ত চুক্তির সময় সুরাহা হবে। এরইমধ্যে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানান, তেহরান পরমাণু অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে না। তবে সম্মান ও মর্যাদার প্রশ্নে ইরান কোনো আপস করবে না। তিনি আরও জানিয়েছেন, সুপ্রিম নেতা মোজতবা খামেনেইয়ের অনুমোদন ছাড়া আমেরিকার সঙ্গে কোনও চুক্তি হবে না। এর আগে শনিবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম দাবি করেছিল, আমেরিকা ও ইরান ৬০ দিনের যুদ্ধবিরোধী চুক্তির দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে আছে। এই চুক্তিতে হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া এবং ইরানকে সারা বিশ্বে তেল বিক্রিতে ছাড়পত্র দেওয়ার মতো বিষয় রয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছিল।
এদিকে, রবিবার মার্কিন বিদেশ সচিব মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, খুব শীঘ্রই ইরানের সঙ্গে চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার ঘোষণা হয়ে যেতে পারে। ভারত সফরে এসেছেন রুবিও। দিল্লিতে সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আমি আশা করছি, আর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সারা বিশ্ব কোনো ভালো খবর পেতে চলেছে।’ তাঁর দাবি, এই চুক্তি সম্পন্ন হলে ইরানের পরমাণু অস্ত্র নিয়ে ভয় বা উদ্বেগমুক্ত হবে বিশ্ব। মার্কিন প্রেসিডেন্টও এমনটাই চেয়ে এসেছেন।
এরইমধ্যে বিশ্বে জ্বালানি সংকট নিয়ে ইরানকে কাঠগড়ায় তোলেন রুবিও। যদিও এই অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছে ভারতে অবস্থিত ইরানের দূতাবাস। তারা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, পশ্চিম এশিয়ার বাস্তব পরিস্থিতিকে বিকৃত করতে চাইছে আমেরিকা ও ইজরায়েল। তাদের দাবি, ইরানের তেল রপ্তানি উপর বেআইনি ও অন্যায় নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে বিশ্বের জ্বালানি বাজারকে পণবন্দি করে রেখেছে আমেরিকা।