Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

আজ আইপিএলের ফাইনাল, মুখোমুখি বেঙ্গালুরু-পাঞ্জাব

অপেক্ষার প্রহর গোনা শেষ। বাধা বিপত্তি কাটিয়ে নির্ণায়ক মুহূর্তে পঁচিশের আইপিএল।

আজ আইপিএলের ফাইনাল, মুখোমুখি বেঙ্গালুরু-পাঞ্জাব
  • ৩ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

আমেদাবাদ: অপেক্ষার প্রহর গোনা শেষ। বাধা বিপত্তি কাটিয়ে নির্ণায়ক মুহূর্তে পঁচিশের আইপিএল। মোতেরায় আজ ফাইনালে মুখোমুখি রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু ও পাঞ্জাব কিংস। গত ১৭ বছরে দুই দলের প্রাপ্তি শুধুই হতাশা। তিনবার ফাইনালে উঠলেও আরসিবি’কে ফিরতে হয়েছে খালি হাতেই। পাঞ্জাব কিংসের অবস্থাও একই রকম। ২০১৪ সালে খেতাবের খুব কাছে পৌঁছলেও স্বপ্নপূরণ হয়নি। চিপকের ফাইনালে শাহরুখের কেকেআর বশ মানিয়েছিল প্রীতির পাঞ্জাবকে। তাই এবার নতুন চ্যাম্পিয়ন পেতে চলেছে আইপিএল।
মহাম্যাচে প্রচারের আলোয় বিরাট কোহলি। তাঁকে ঘিরে আবেগের বুঁদবুঁদ। হওয়াটাই স্বাভাবিক। সতেরো বছর ধরে তিনি আরসিবি’তে খেলছেন। নেতৃত্বও দিয়েছেন। কিন্তু খেতাব জিততে পারেননি আজও। অনেকে বলেন, কোহলির নাকি কাপ ভাগ্য ভালো নয়। সেই কারণেই রজত পাতিদারের হাতে অধিনায়কত্ব সঁপে অধরা মাধুরী লাভের আশায় ভিকে। লক্ষ্য একটাই— আরসিবি’কে চ্যাম্পিয়ন করা। ক্রিকেট দুনিয়ার আকুল প্রার্থনা, ১৮ নম্বর জার্সিধারীর হাতেই উঠুক ১৮তম আইপিএল ট্রফি। মনে রাখতে হবে, আবেগ সরিয়ে মাঠে সেরাটা মেলে ধরতে পারলে তবেই সম্ভব স্বপ্নপূরণ। তাই আবেগে ব্রেক কষে দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখার আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন কোহলি। সতীর্থদের উজ্জীবিত করছেন নানাভাবে। ফাইনালেও জ্বলে ওঠার জন্য তিনি সংকল্পবদ্ধ। বিরাট জানেন, ক্রিকেট দুনিয়ার ফোকাস থাকবে তাঁর উপর। প্রবল প্রত্যাশা ও চাপ কাটিয়ে কীভাবে লক্ষ্যপূরণ করতে হয়, তা ভালোই জানেন ভিকে। তাই মহাম্যাচের আগে তিনি শান্ত ও সংকল্পবদ্ধ।
প্রতিপক্ষ পাঞ্জাব কিংসকে হাল্কাভাবে নেওয়ার উপায় নেই। হতে পারে প্রথম কোয়ালিফায়ারে প্রীতি জিন্টার দলকে ৮ উইকেটে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট পেয়েছিল বেঙ্গালুরু, তবুও শ্রেয়সরা খুব একটা পিছিয়ে নেই। দ্বিতীয় প্লে-অফে মুম্বইয়ের মতো প্রবল শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে কার্যত ফুৎকারে উড়িয়ে দিয়েছেন তাঁরা। দুরন্ত ফর্মে ক্যাপ্টেন শ্রেয়স। তাঁর কাপ ভাগ্য খুবই ভালো। গতবার কেকেআর খেতাব জিতেছিল শ্রেয়সের নেতৃত্বে। এবার তিনি দল বদলে পাঞ্জাবের নেতা। তাঁর ছোঁয়ায় বদলে গিয়েছে দল। গ্রুপ শীর্ষে থেকে প্লে-অফে ওঠাই তার প্রমাণ। সন্দেহ নেই, ফাইনালেও ‘ডার্ক-হর্স’ তারা।
দুই দলের ব্যাটিং খুবই শক্তিশালী। আরসিবি’র ওপেনার ফিল সল্ট দ্রুত রান তুলতে পারেন। কোহলি রয়েছেন তুখোড় ফর্মে। ঝুলিতে ৬১৪ রান। ফাইনালে তাঁর পারফরম্যান্সের উপর অনেক কিছু নির্ভর করবে। ভরসা রাখা যায় ক্যাপ্টেন পাতিদারের উপর। টপ অর্ডারে মায়াঙ্ক আগরওয়ালও ভরসা দিচ্ছেন। এছাড়া লিভিংস্টোন, জীতেশ, শেফার্ড কঠিন পরীক্ষায় ফেলতে পারেন পাঞ্জাবের বোলারদের। তবে শুরুতে উইকেট হারালে বেঙ্গালুরুর চাপে পড়ার রোগ রয়েছে। বোলিংয়ে আরসিবি’র সেরা অস্ত্র পেস আক্রমণ। হ্যাজলউড অনবদ্য ফর্মে। ভুবনেশ্বর, যশ দয়াল তাঁকে যোগ্য সহায়তা দিচ্ছেন। দুই স্পিনার সম্ভব ক্রুণাল পান্ডিয়া ও সুয়াশ শর্মা।
অন্যদিকে, পাঞ্জাবের ব্যাটিং যথেষ্ট শক্তিশালী। দুই ওপেনার প্রিয়াংশ আর্য ও প্রভসিমরন সিং ঝড়ের গতিতে রান তুলতে পারেন। আক্রমণাত্মক জস ইংলিশকে সামলানো বড় চ্যালেঞ্জ আরসিবি’র বোলারদের। তবে ব্যাটিংয়ের আসল স্তম্ভ শ্রেয়স। বড় মঞ্চের নায়ক তিনি। গত ম্যাচে কার্যত একার হাতে জিতিয়েছেন দলকে। ফাইনালেও পাঞ্জাব অধিনায়ক জ্বলে উঠলে কোহলিদের কপালে দুঃখ রয়েছে। পরের দিকে আছেন নেহাল ওয়াধেরা, স্টোইনিস ও শশাঙ্ক সিং। অবশ্য এটা অস্বীকার করার উপায় নেই যে, মার্কো জানসেনের অভাব বোঝা যাচ্ছে পাঞ্জাবের পেস বোলিংয়ে। গত ম্যাচে বড়ই সাদামাটা লেগেছে অর্শদীপকে। বরং জেমিসন, ওমরজাইকে বেশি কার্যকরী লেগেছে। স্পিনার হিসেবে চাহাল না হরপ্রীত, কাকে খেলানো হয়, সেটাই দেখার।
 খেলা শুরু সন্ধ্যা ৭-৩০ মিনিটে। সরাসরি সম্প্রচার স্টারস্পোর্টস ও জিওহটস্টারে। 

Advertisement

 

অধরা মাধুরীর খোঁজে

আইপিএলে কখনও চ্যাম্পিয়ন হয়নি বেঙ্গালুরু ও পাঞ্জাব। ২০০৯, ২০১১ ও ২০১৬ সালে ফাইনালে উঠেও স্বপ্ন পূরণ হয়নি বিরাট কোহলিদের। আর ২০১৪ সালের খেতাবি লড়াইয়ে পাঞ্জাব হেরে যায় কেকেআরের কাছে।চলতি আসরে দু’দলের মধ্যে তিনবারের সাক্ষাতে ২-১ এগিয়ে আরসিবি। যার মধ্যে প্রথম কোয়ালিফায়ারে পাঞ্জাবকে মাত্র ১০১ রানে অল-আউট করে দেয় বেঙ্গালুরু। ৮ উইকেটে জিতে পৌঁছে যায় ফাইনালে।দুই দল মোট ৩৬ বার মুখোমুখি হয়েছে। ১৮টি করে জয় পেয়েছে উভয়েই। ফলে মঙ্গলবারের ফাইনালে লড়াই একেবারে সেয়ানে সেয়ানে।

বিরাট কোহলি. ইনিংস ১৪, রান ৬১৪, হাফ-সেঞ্চুরি ৮, ইনিংস ১৬ রান ৬০৩, হাফ-সেঞ্চুরি ৬

 

বীর সেনাদের বিশেষ সম্মান

আইপিএল মানেই ক্রিকেট ও বিনোদনের ককটেল। উদ্বোধনী হোক কিংবা সমাপ্তি অনুষ্ঠান— যেখানে বলিউড নাচ-গানই এতদিন প্রাধান্য পেয়েছে। পঁচিশের আইপিএলে হতে যাচ্ছে কিছুটা ব্যতক্রমী। বিসিসিআই সিদ্ধান্ত নিয়েছে মঙ্গলবার মোতেরায় বেঙ্গালুরু-পাঞ্জাব ফাইনালের আগে প্রায় ৪৫ মিনিটের সমাপ্তি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেশের বীর সেনাদের সম্মান জানানো হবে। পরিবেশিত হবে দেশাত্মবোধক সঙ্গীত। এছাড়া মিলিটারি ব্যান্ডের অংশ নেওয়ার কথা। আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে তিন বাহিনীর সেনা কর্তাদের। উল্লেখ্য, পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলায় ২৬ জন পর্যটক প্রাণ হারিয়েছিলেন। তার জবাবে পাকিস্তানে অবস্থিত বহু জঙ্গি ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিয়েছিল ভারতীয় সেনা। এই প্রত্যাঘাতের নামকরণ করা হয়েছিল ‘অপারেশন সিন্দুর’। ভারত-পাক সংঘর্ষের কারণে বন্ধ ছিল আইপিএল। পরে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়। ফের শুরু হয় আইপিএল।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ