নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সিঙ্গুরে টাটাদের ন্যানো-পর্ব এখন ইতিহাস। তবু রাজ্যের শিল্প-সম্ভাবনা নিয়ে বিরোধীদের সমালোচনায় আজও কোনও ছেদ নেই। সুযোগ পেলেই বাংলার শিল্পায়ন নিয়ে খোঁচা দিতে এগিয়ে আসে বিজেপি। অথচ কেন্দ্রের সেই পদ্ম-সরকারই বলছে, এরাজ্যে ২০২৪ সালের প্রথম ১১ মাসে শিল্প এসেছে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকার। এখানে মূলত বড় শিল্পের কথাই বলেছে তারা। ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প বা এমএসএমই’কে এই তালিকায় আনা হয়নি।
বাস্তবিক অর্থই যে বিগত বছরে বাংলায় শিল্পের দুয়ার খুলেছে, তা পরিসংখ্যান দিয়ে স্বীকার করেছে কেন্দ্রীয় বাণিজ্য মন্ত্রক। তাদের সাম্প্রতিক বার্ষিক রিপোর্টে বলা হয়েছে, গত বছর জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত বাংলায় বিনিয়োগ এসেছে ৩৯ হাজার ১৩৩ কোটি টাকার। মোট ২৯টি সংস্থার হাত ধরে ওই বিনিয়োগ এসেছে। এর আগে ২০২০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত চার বছরে এত টাকার লগ্নি আসেনি, বলছে রিপোর্ট। ওই বছরগুলিতে বাংলামুখী লগ্নির অঙ্ক ছিল যথাক্রমে ৯ হাজার ৫৫২ কোটি, ৫ হাজার ৫৩৫ কোটি, ৪ হাজার ৫৩২ কোটি এবং ৬ হাজার ৪৮৪ কোটি টাকা। অর্থাৎ করোনা পর্বের শুরু থেকে রাজ্যে যে অঙ্কের লগ্নি প্রস্তাব এসেছে, তার সামগ্রিক অঙ্ক ছাড়িয়ে গিয়েছে ২০২৪ সালের হিসেবকে।
রাজ্যের এই বিনিয়োগে বাংলার উজ্জ্বল ভাবমূর্তিই দেখছে বণিক মহল। মার্চেন্টস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের ডেপুটি ডিরেক্টর জেনারেল শুভাশিস রায়ের কথায়, যাঁরা বিনিয়োগ করেন, তাঁরা যে দিকগুলি বিচার করেন, তার মধ্যে অবশ্যই আছে পরিবেশ। স্থিতিশীল রাজনৈতিক বাতাবরণ লগ্নির জন্য অনুকূল। এরাজ্যে তা আছে। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে যেভাবে কমিটি গড়ে শিল্পের তদারকি করছেন, প্রশাসনিক জটিলতা কমাতে এবং সব ছাড়পত্র একলপ্তে পেতে স্বয়ং মুখ্যসচিবকে দায়িত্ব দিয়েছেন, তাতে সন্তুষ্ট শিল্প মহল। এমনকী সুষ্ঠুভাবে ব্যবসা চালিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে যদি কোনও রাজনৈতিক প্রতিবন্ধকতা আসে, তারও মোকাবিলা করার দাওয়াই দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। শিল্পমহল এর চেয়ে বেশি কিছু চায় না। এই ভাবমূর্তিই রাজ্যে বিনিয়োগ আনছে।
শিল্প নিয়ে রাজ্যের ভাবমূর্তি ফেরানোর ক্ষেত্রে যে বিশ্ববঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলনও যথেষ্ট ইতিবাচক ভূমিকা নেয়, তা মানছে শিল্প মহল। তাদের কথায়, বিনিয়োগ নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার কতটা ‘সিরিয়াস’ এই মঞ্চ থেকেই সেই সদর্থক বার্তা যায় সব মহলের কাছে। এরই জেরে শুধু দেশীয় বিনিয়োগ নয়, প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগও যে বাংলামুখী, তারও প্রমাণ দিচ্ছে কেন্দ্রের তথ্যই, বলছে শিল্প মহল।