নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পূর্বতন সরকারের আমলে জেলায় জেলায় হেড অ্যাকাউন্টস বিভাগের মাধ্যমে জিনিসপত্র কেনার ক্ষেত্রে কোথায় কোথায় দুর্নীতি হয়েছে তাই নিয়ে অভ্যন্তরীণ অনুসন্ধান শুরু করছে রাজ্য পুলিশ। কেনা জিনিস কোথায় রয়েছে এবং কাগজে কলমে কোনো জিনিস এসেছে কি না তাই নিয়ে তথ্য জোগাড় করা হবে। যদি কোনো দুর্নীতি হয়ে থাকে তাহলে সেক্ষেত্রে কড়া ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে ইঙ্গিত মিলেছে।
৫১ লক্ষ টাকা দুর্নীতির অভিযোগে কলকাতা পুলিশে ডিসি ইস্ট ডিভিশনের হেড অ্যাকাউন্টস বিভাগের এক কর্মী ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার হয়েছেন। জানা গিয়েছে, সরকারি টাকায় কেনা জিনিস থানায় ব্যবহৃত না হয়ে চলে গিয়েছে আধিকারিকদের বাড়িতে। আবার ভুয়ো বিল করে জিনিস কেনা হয়েছে বলে তোলা হয়েছে সরকারি টাকা। এরপরই বিষয়টি নিয়ে টনক নড়েছে রাজ্য পুলিশের।
রাজ্য পুলিশ সূত্রের খবর, পালাবদলের পর আধিকারিকদের কাছে খবর আসছে অনেক থানাই প্রয়োজনীয় সামগ্রী পাচ্ছে না। অথচ সেই সমস্ত জিনিস তাদের নামে বরাদ্দ রয়েছে। তৃণমূল আমলে এই সমস্ত বিষয় নিয়ে কোনো উচ্চবাচ্যই হয়নি। হেড অ্যাকাউন্টস বিভাগ মারফত পুলিশের বিভিন্ন বিভাগে কী কী কেনা হয়েছে এবং সেগুলি আদৌ কাজ করে কি না তাই নিয়ে খোঁজখবর করছে নতুন সরকার। একইসঙ্গে দেখা হচ্ছে ভুয়ো বিল জমা করে শুধুমাত্র কাগজে কলমে অস্তিত্ব রয়েছে এমন কিছু সামগ্রী আছে কি না। যাতে তৃণমূল সরকারের আমলে টাকাপয়সা নয়ছয় করার বিষয়টি ধরা পড়ে। তারই ধাপ হিসাবে এবার বিভিন্ন জেলার পুলিশ সুপারের অফিসে থাকা হেড অ্যাকাউন্টস বিভাগ থেকে কী কী কেনা হয়েছে বিগত পাঁচ বছরে তার খতিয়ান নেওয়ার কাজ শুরু হচ্ছে। আধিকারিকরা জানতে পারছেন, পূর্বতন সরকারের আমলে ভুয়ো বিল জমা দিয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে সরকারি টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। ঠিকাদারদের পেমেন্ট বলে যে দেখানো হয়েছে তা নকল। আবার কিছু জিনিস কিনেও থানা বা পুলিশ সুপারের অফিসে আসেনি। সেগুলি অন্যত্র চলে গিয়েছে। মমতার আমলে নয়ছয় হওয়া সরকারি টাকার পরিমাণ কত সেটা জানার চেষ্টা করবেন আধিকারিকরা।