নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: একই জেলা পরিষদ। অথচ বিজেপির দুই শিবিরের সুর কার্যত ভিন্ন। মঙ্গলবার উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পরিষদকে ঘিরে এমনই ‘মুখোমুখি’ অবস্থান দেখা গেল বারাকপুর ও বারাসত বিজেপির। একপক্ষের দাবি, কাজ করতে না পারলে সভাধিপতি পদ ছাড়ুন। অন্য পক্ষের পালটা বার্তা, সরকারি অফিসে অশান্তি বরদাস্ত হবে নয়। সোমবারের ভাঙচুরের অভিযোগের পর মঙ্গলবারের এই চাপানউতোর ঘিরে বিজেপির অন্দরে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার লড়াই আরও তীব্র হল বলে মনে করছেন অনেকে। রাজনৈতিক মহলের প্রশ্ন, জেলা পরিষদকে ঘিরে রাজনৈতিক দাপট দেখানোর প্রতিযোগিতাই কি এবার প্রকাশ্যে এল?
জানা গিয়েছে, সোমবার দুপুরে উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের সভাধিপতি নারায়ণ গোস্বামীর অফিসে ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ ওঠে দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। পরের দিন, মঙ্গলবার দুপুরে বারাকপুরের বিজেপি নেতৃত্ব জেলা পরিষদে এসে সভাধিপতি নারায়ণ গোস্বামীর কাছে উন্নয়নের হিসাব চান। তাঁদের অভিযোগ, কাজ থমকে রয়েছে। কাজ করতে না পারলে সভাধিপতিকে পদত্যাগ করতে হবে। বারাকপুরের বিজেপি কর্মী মিঠু চট্টোপাধ্যায়ের বক্তব্য, ‘সোমবারের ভাঙচুরের ঘটনা তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের ফল। আমাদের একটাই দাবি, উন্নয়ন। উনি কাজ করতে না পারলে পদত্যগ করুন।’ বারাকপুর বিজেপির এই অবস্থানের মধ্যেই অন্য সুর বারাসত সাংগঠনিক জেলা বিজেপিতে। জেলা পরিষদ চত্বরে অশান্তির আশঙ্কা ঘিরে সেখানে জমায়েত করেন বারাসতের বিজেপি নেতৃত্বও। তাঁদের বক্তব্য, জেলা সদর শহরের ঐতিহ্য নষ্ট হতে দেওয়া যাবে না। সরকারি দপ্তরে বিশৃঙ্খলা মেনে নেওয়া হবে না। বারাসত সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সভাপতি দীপঙ্কর চক্রবর্তী বলেন, ‘দলের এমন কোনো নির্দেশ নেই কোথাও বিশৃঙ্খলা করার। এখন আইনের শাসন চলছে। বিজেপির দ্বন্দ্ব বিষয়টা সংবাদমাধ্যমের তৈরি করা।’ বারাসতের বিজেপি নেতা রাজা সাহানির বক্তব্য, ‘বারাসত জেলা সদরের নিজস্ব ঐতিহ্য রয়েছে। তৃণমূলের লোকজন এসে আমাদের সরকারকে কলঙ্কিত করতে চাইছে। কিন্তু এটা হবে না।’
এদিন বিজেপির দুই গোষ্ঠীর এহেন ঠান্ডা লড়াইয়ে সরকারি অফিসের কাজ কার্যত শিকেয় ওঠে। কর্মীদের কেউ কেউ আতঙ্কে অফিসের ভিতরে লুকিয়ে থাকেন। সোমবারের ঘটনার পর সভাধিপতি নারায়ণ গোস্বামী বারাসত পুলিশ জেলার সুপারকে নিরাপত্তার আরজি জানিয়েছেন। নারায়ণবাবু বলেন, ‘মঙ্গলবার তৃতীয় বারের জন্য আমাকে টার্গেট করা হয়। প্রাণনাশ ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। তাই পুলিশ সুপারকে আমার নিরাপত্তা বাড়ানোর অনুরোধ করেছি।’



