বেশি বুদ্ধিমত্তা এবং বামপন্থী রাজনৈতিক চিন্তার মধ্যে কি কোনও সম্পর্ক আছে! সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এমনটাই জানিয়েছেন মিনেসোটা বিশ্ববিদ্যালয়ের টুইন সিটিস ক্যাম্পাসের গবেষকরা। তাঁদের মতে, বেশি বুদ্ধিমত্তা এবং বামপন্থী রাজনৈতিক চিন্তার মধ্যেকার সম্পর্কের নেপথ্যে রয়েছে জেনেটিক প্রভাব। এই গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছে ‘ইন্টেলিজেন্স’ জার্নালে। গবেষকরা এখানে আইকিউ স্কোর আর ‘পলিজেনিক স্কোর’ (জেনেটিক মার্কার)-এর মাধ্যমে ২০০টিরও বেশি পরিবারের তথ্য বিশ্লেষণ করেন। কোন ধরনের পরিবারকে গবেষণার জন্য চিহ্নিত করা হয়েছিল? জানা গিয়েছে, একই পরিবারে বড় হওয়া জৈবিক ভাইবোন এবং দত্তক নেওয়া ভাইবোনদের নির্বাচিত করে চালানো হয় গবেষণাটি। ফলাফল? একই ছাদের নীচে বড় হলেও, যাঁদের আইকিউ বেশি বা জেনেটিক স্কোর অনুযায়ী যাঁরা বেশি বুদ্ধিমান, তাঁরা অন্যদের তুলনায় বেশি উদারপন্থী। শুধু তাই নয়, দেখা গিয়েছে এঁরা সমানাধিকারমুখী মতাদর্শে বিশ্বাস করেন, কর্তৃত্ববাদী মনোভাবও কম দেখান। তবে গবেষকরা এটাও স্পষ্ট করে বলেছেন, শুধুমাত্র বুদ্ধিমত্তা দিয়ে কারও রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি ঠিক হয় না। এর সঙ্গে পরিবেশ, সংস্কৃতি ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটও গভীরভাবে জড়িয়ে। আসলে ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, বুদ্ধিমান লোকেরা একে অপরের সম্পূর্ণ বিপরীত রাজনৈতিক মত পোষণ করেছেন। তাঁদের কেউ হয়ে উঠেছেন বিপ্লবী, কেউ আবার কঠোর কর্তৃত্ববাদী। তাই এই গবেষণায় দেখা গেলেও, বুদ্ধিমত্তা ও জেনেটিক প্রভাব কাউকে বামপন্থী চিন্তাভাবনার দিকে ঝুঁকিয়ে দিতে পারে, মানুষের বিশ্বাসকে এমনভাবে ভাগ করা ঠিক নয়। কারণ এই ধরনের রাজনৈতিক মতাদর্শগত বিশ্বাস গড়ে ওঠে নানা ধরনের জটিল সংযোগের প্রভাব থেকে।



