সংবাদদাতা, তেহট্ট: সকাল থেকে স্কুলে ক্লাস নেওয়া। তার পরেও রেহাই নেই। বিদ্যালয়ের ছুটি হতেই ফের বাড়ি বাড়ি ঘুরে জনগণনার কাজ। প্রয়োজনে সরকারি ছুটির দিনেও সেই দায়িত্ব পালন করতে হবে। সরকারের এমন নির্দেশিকা সামনে আসতেই তেহট্টের শিক্ষক মহলের একাংশে শুরু হয়েছে অসন্তোষ। তাঁদের প্রশ্ন, দিনের পর দিন বিদ্যালয়ে পাঠদান করার পর অতিরিক্ত সরকারি কাজের বোঝা চাপলে শিক্ষকেরা নিজেদের প্রয়োজনীয় কাজ করবেন কখন, আর পরিবারকেই বা সময় দেবেন কখন?
শিক্ষকদের একাংশের অভিযোগ, জনগণনার কাজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও তা মোটেই কয়েক ঘণ্টার কাজ নয়। বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি নথি যাচাই, তথ্য সংশোধন এবং অনলাইনে তা নথিভুক্ত করার মতো একাধিক কাজ রয়েছে। ফলে এই দায়িত্ব পালন করতে দীর্ঘ সময় প্রয়োজন। বিদ্যালয়ে নির্ধারিত সময় পর্যন্ত ক্লাস নেওয়ার পর সেই কাজ করতে বেরোলে অনেক রাত পর্যন্ত ব্যস্ত থাকতে হবে বলেই আশঙ্কা তাঁদের।
তেহট্টের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের একাংশের দাবি, শিক্ষকতার কাজ এখন শুধু ক্লাস নেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। প্রতিদিনের পাঠ পরিকল্পনা তৈরি, খাতা দেখা, মূল্যায়ন-সহ নানা কাজ করতে হয়। তার উপর স্কুল ছুটির পর জনগণনার দায়িত্ব যুক্ত হলে কাজের চাপ কয়েক গুণ বাড়বে। অথচ অতিরিক্ত এই দায়িত্ব পালনের জন্য ‘অন ডিউটি’ সুবিধা না থাকায় ক্ষোভ আরও তীব্র হয়েছে।
শিক্ষকদের একাংশের আরও দাবি, যাঁদের বাড়ি কর্মস্থল থেকে অনেক দূরে, তাঁদের সমস্যা সবচেয়ে বেশি। স্কুল ছুটির পর জনগণনার কাজে বেরোতে হলে যাতায়াতেই চলে যাবে বেশ কিছুটা সময়। তার পর বাড়ি বাড়ি তথ্য সংগ্রহের কাজ শেষ করে ফিরতে অনেক রাত হয়ে যেতে পারে। সরকারি ছুটির দিনেও কাজের নির্দেশ থাকায় তাঁদের পারিবারিক জীবনও কার্যত অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে বলে দাবি।
শিক্ষক সংগঠনগুলির একাংশের বক্তব্য, জনগণনা দেশের প্রশাসনিক পরিকল্পনার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই এই কাজ নিয়ে তাঁদের আপত্তি নেই। কিন্তু শিক্ষকদের উপর অতিরিক্ত কাজের চাপ চাপিয়ে না দিয়ে নির্দিষ্ট সময়, প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সহযোগিতা এবং উপযুক্ত কর্ম-সুবিধা দেওয়া হোক। না হলে একদিকে যেমন শিক্ষকদের উপর বাড়তি চাপ তৈরি হবে, তেমনই তার প্রভাব পড়তে পারে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পঠনপাঠনেও।
অন্যদিকে, বিজেপি শিক্ষক সংগঠনের পক্ষ থেকেও বিষয়টি নিয়ে শিক্ষা দফতরের কাছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানানো হবে বলে দাবি করা হয়েছে। এখন প্রশ্ন, বিদ্যালয়ের পঠনপাঠন অক্ষুণ্ণ রেখে কী ভাবে শিক্ষকদের উপর জনগণনার অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হবে, তা নিয়েই তাকিয়ে শিক্ষক মহল।