


নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: ফের গুজবের জেরে মারধরের ঘটনা ঘটল। সোমবার গভীর রাতে খড়্গপুর লোকাল থানার পাঁচগেড়িয়ায় চোর সন্দেহে এক যুবককে বিদ্যুতের পোস্টে বেঁধে মারধরের ঘটনায় জেলাজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। জখম সুশান্ত বর্মন সবং থানার বিষ্ণুপুরের বাসিন্দা। তাঁকে মারধরের ঘটনায় পুলিশ ইতিমধ্যে দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের নাম শ্রীকান্ত মিশ্র ও শ্রীমন্ত মিশ্র।
জেলায় বারবার গুজবের জেরে আতঙ্ক, নিরীহ মানুষকে মারধরের ঘটনায় উদ্বেগ ছড়িয়েছে। কিছুদিন আগেই গুজবের জেরে মারধরের ঘটনায় এক ইঞ্জিনিয়ারের মৃত্যু হয়। সেইসঙ্গে কেশপুরে দুই রাজমিস্ত্রিকে মারধরের ঘটনাও ঘটেছে। এর জেরে বহু গ্রামের মানুষ সন্ধের পর বাড়ি থেকে বের হতে ভয় পাচ্ছে।
জেলা পুলিশ সুপার পলাশচন্দ্র ঢালি বলেন, কেউ এলাকা অশান্ত করে তোলার চেষ্টা করলে কড়া পদক্ষেপ করা হবে। সাধারণ মানুষকে বলা হচ্ছে, কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নেবেন না। আমরা পুরো পরিস্থিতির উপর নজর রাখছি। গুজব রুখতে পুলিশ প্রচার চালাচ্ছে।
সবংয়ের বিষ্ণুপুর পঞ্চায়েতের দক্ষিণবাদের বাসিন্দা সুশান্তবাবু বিভিন্ন মোবাইলের টাওয়ারে তেল সরবরাহের কাজ করেন। সোমবার বিকেলেও তিনি রোজকার মতো মদনমোহনচক এলাকায় একটি টাওয়ারে তেল দিতে যান। ওইদিন সন্ধ্যার পর টাওয়ারের সামনে সুশান্তবাবুর বাইকটি থাকলেও তাঁর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। জানা গিয়েছে, কোনো কারণে সুশান্তবাবু বাড়বেটিয়া-জামান রোডের পাঁচগেড়িয়ায় চলে গিয়েছিলেন। সেখানে গ্রামের কিছু লোক তাঁকে ঘিরে ধরে। চোর সন্দেহে ওই যুবককে একটি পোস্টে বেঁধে বেধড়ক মারধর করা হয়। খবর পাওয়ামাত্র সবংয়ের বিধায়ক তথা মন্ত্রী মানস ভুঁইয়া পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। খড়্গপুর লোকাল থানার পুলিশ তাড়াতাড়ি এলাকায় পৌঁছায়। সুশান্তবাবুকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। মন্ত্রী মানস ভুঁইয়া বলেন, এটা খুবই দুঃখজনক ঘটনা। কেউ দোষ করে থাকলে পুলিশ কড়া পদক্ষেপ করুক। কেউ যেন আইন নিজের হাতে তুলে না নেয়। জখম যুবকের বাবা ঝঙ্কার বর্মন বলেন, আমার ছেলেকে বিনা দোষে স্রেফ সন্দেহের বশে বেধড়ক মারধর করা হয়েছে। সময়মতো পুলিশ ঘটনাস্থলে না পৌঁছালে ওকে বাঁচানো যেত না। সবংয়ের বিষ্ণুপুরের জনপ্রতিনিধি সুশান্ত বর্মন বলেন, এঘটনায় দোষীদের চিহ্নিত করে কড়া পদক্ষেপের দাবি জানাচ্ছি। কিছুদিন আগেই গুজবের জেরে মারধরের ফলে এক ইঞ্জিনিয়ারের মৃত্যু হয়েছিল। বারবার এধরনের ঘটনায় চিন্তা বাড়ছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় গুজব পোস্ট করায় এক যুবককে মারধরের অভিযোগ উঠল কেশপুর থানার পুলিশের বিরুদ্ধে। এর প্রতিবাদে মঙ্গলবার দুপুরে কেশপুরের বারো মাইলে ঘণ্টাখানেক রাজ্য সড়ক অবরোধ করেন স্থানীয়রা। তার জেরে ব্যাপক যানজট দেখা দেয়।
জেলা পুলিশের এক আধিকারিক বলেন, ওই ব্যক্তি এলাকায় এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় গুজব ছড়াচ্ছিল। তাকে শুধু থানায় ডেকে সেসব ভিডিও ডিলিট করানো হয়েছে। তারপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।