নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: পাটের বাজারদরে নজরদারি চালাবে নদীয়া জেলা পুলিশের ডিস্ট্রিক্ট এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চ (ডিইবি)। খোলা বাজারে পাটের দাম বাড়লেও চাষিরা যাতে মিডলম্যান বা দালালদের কারসাজির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ। পাটের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করতে বাজারের পরিস্থিতির উপর নজর রাখবে পুলিশ। জেলা প্রশাসনের এই পদক্ষেপে পাটচাষিদের স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি সরকারি নির্ধারিত ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের (এমএসপি) নিচে যাতে পাটের দাম না নামে, সেই বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।
নদীয়া জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ফসল পাট। জেলার লক্ষাধিক চাষি এই চাষের সঙ্গে যুক্ত। চলতি বছরে জেলায় প্রায় ৯৮ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে। ফলে পাটের বাজারদরের ওঠানামার সঙ্গে জেলার কৃষকদের আর্থিক অবস্থারও সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। পাটের দাম ভালো থাকলে চাষিরা উৎপাদিত ফসল থেকে বেশি আয় করতে পারেন। অন্যদিকে, বাজারদর কমে গেলে উৎপাদন খরচ মিটিয়ে লাভের পরিমাণ কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। সেই কারণে পাটের বাজারে প্রশাসনের নজরদারি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
চলতি মরশুমের শুরুতে খোলা বাজারে প্রতি কুইন্টাল পাটের দাম ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত উঠে গিয়েছিল। সেই সময় পাটচাষিদের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছিল। কিন্তু মরশুম এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে দাম কিছুটা কমেছে। বর্তমানে খোলা বাজারে প্রতি কুইন্টাল পাটের দাম ঘোরাফেরা করছে ১০ হাজার টাকার আশেপাশে। অর্থাৎ, মরশুমের সর্বোচ্চ দামের তুলনায় বর্তমানে প্রতি কুইন্টালে প্রায় ৫ হাজার টাকা কম দামে পাট বিক্রি হচ্ছে। যদিও বর্তমান বাজারদর এখনও সরকারি এমএসপির তুলনায় অনেকটাই বেশি, তবুও দামের এই ওঠানামা চাষিদের কাছে উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। জুট কর্পোরেশন অব ইন্ডিয়া (জেসিআই)-এর নির্ধারিত এমএসপি অনুযায়ী, প্রতি কুইন্টাল পাটের দাম ৫৯২৫ টাকা। সেই তুলনায় খোলা বাজারে বর্তমানে প্রায় ১০ হাজার টাকা দরে পাট বিক্রি হচ্ছে। অর্থাৎ, সরকারি এমএসপির তুলনায় বাজারদর প্রায় ৪০৭৫ টাকা বেশি। শতাংশের হিসাবে এই ব্যবধান প্রায় ৬৯ শতাংশ। তবে বাজারদর বেশি থাকলেই যে প্রত্যেক চাষি সমানভাবে লাভবান হচ্ছেন, তা ধরে নেওয়া যায় না। চাষিরা কোন দামে পাট বিক্রি করছেন, পাটের মান কেমন এবং কেনাবেচার ক্ষেত্রে মধ্যস্বত্বভোগীদের ভূমিকা কী—এই বিষয়গুলিও গুরুত্বপূর্ণ। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, পাটের বাজারে মধ্যস্বত্বভোগীদের গতিবিধির উপর নজর রাখবে ডিইবি। পাট কেনাবেচার ক্ষেত্রে অসৎ উপায়ে ব্যবসা, চাষিদের ঠকানো বা দামের ক্ষেত্রে কারসাজির অভিযোগ উঠলে তা খতিয়ে দেখা হবে। বিশেষ করে, বাজারে পাটের দাম কমে গেলে সেই সুযোগে চাষিদের কাছ থেকে কম দামে পাট কেনার চেষ্টা হচ্ছে কি না, সে বিষয়েও নজর থাকবে। জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, ‘‘মধ্যস্বত্বভোগীরা যাতে পাটের দাম নিয়ে অসৎ উপায়ে ব্যবসা করতে না পারেন, তার জন্য পুলিশের ডিইবি নজর রাখছে। আমাদের লক্ষ্য, পাটের দাম যাতে কোনওভাবেই জেসিআইয়ের এমএসপির থেকে কমে না যায়।’’
চলতি বছরে নদীয়ায় পাটের ফলন ভালো হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে। ভালো ফলন কৃষকদের জন্য স্বস্তির খবর হলেও বাজারে জোগান বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দাম কমে গেলে সেই সুফল অনেকটাই কমে যেতে পারে। তবে বর্তমান দামের পতনের নির্দিষ্ট কারণ হিসেবে ভালো ফলনকেই দায়ী করা হয়েছে কি না, তা প্রশাসনের তরফে স্পষ্ট করা হয়নি।