নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: রাজ্যের যে কয়েকটি প্রাচীন রথযাত্রা হয়ে আসছে, তাঁর অন্যতম রানিগঞ্জের সিয়ারসোলের রথযাত্রা উৎসব। বহু প্রাচীন এই রথযাত্রা নিয়ে শিল্পাঞ্চলে আলোড়ন থাকলেও সেভাবে রথযাত্রার বৃহৎ স্বীকৃতি মেলেনি। অথচ এই রথযাত্রার ইতিহাস যথেষ্ট সমৃদ্ধ। রানিগঞ্জবাসীর কাছে সবচেয়ে বড়ো উৎসব এই রথযাত্রা। রাজবাড়ির রথযাত্রার পাশাপাশি রথের বৃহৎ মেলা বসে। সাতদিন ধরে উৎসবে মজে থাকে শহরের বাসিন্দারা। এবার সেই রথযাত্রাকে হেরিটেজ মর্যাদা দিতে উদ্যোগী হয়েছে বিজেপি। ইতিমধ্যেই রানিগঞ্জের বিজেপি বিধায়ক পার্থ ঘোষ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে এনিয়ে দরবার করেছেন। তিনি যেন বিষয়টি নিয়ে উদ্যোগী হন। শহরবাসীর আশা রথকে হেরিটেজ স্বীকৃতি দেবে বিজেপি সরকার।
আজও রানিগঞ্জে রয়েছে সিয়ারসোল রাজবাড়ি ও রাজ পরিবার। রাজ পরিবারের সদস্যদের দাবি, রানিগঞ্জের প্রথম রাজা পন্ডিত গোবিন্দ প্রসাদ ১৮৩৫ সালে প্রথম রানিগঞ্জে রথযাত্রার সূচনা করেন। কাঠের রথ ছিল তা পরবর্তীকালে তাঁর মেয়ে রাজমাতা হরসুন্দরী দেবী ১৮৭৪ সালে রথটি পুর্ননির্মাণ করেন। কোনোক্রমে রথটি আগুনে পুড়ে যায়। তারপর তৎকালীন রানি কিষেনদেই দেবী ১৯২৩ সালে ৪০ হাজার টাকা ব্যয় করে পিতলের রথটি তৈরি করান। সেই রথটিই সিয়ারসোলের নতুন রাজবাড়ি থেকে পুরনো রাজবাড়ি পর্যন্ত যাত্রা করে। আজও সেই রীতি চলে আসছে। এখানে রথে থাকেন রাজবাড়ির কুলদেবতা দামোদরচন্দ্র জিও।
এই রথযাত্রাকেই হেরিটেজ করতে তৎপর হয়েছেন রানিগঞ্জের বিধায়ক পার্থ ঘোষ। শুধু পার্থবাবুও নন, রাজ্য সরকারেই এই রথ নিয়ে যে আলাদা আবেগ রয়েছে, তা ধরা পড়েছে পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের কথাতেও। রানিগঞ্জ গ্রামীণ এলাকাটি আসানসোল দক্ষিণ বিধানসভার অন্তর্গত। যাঁর বিধায়ক অগ্নিমিত্রা। তিনি বলেন, রানিগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রায় আমিও অংশ নেব। এই রথযাত্রা উন্নয়নে যা করার প্রয়োজন আমাদের সরকার করবে। পার্থ ঘোষ বলেন, আমি রথযাত্রাকে হেরিটেজ স্বীকৃতি দেওয়ার আর্জি করেছে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে। রাজ পরিবারের সদস্য অনুরাধা মালিয়া সরাফ বলেন, ওঁদের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই।