নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: পুজোর আগেই বাঁকুড়া শহরের মাচানতলাকে যানজটমুক্ত করতে প্রশাসন উদ্যোগী হয়েছে। সেখানে রাস্তার পাশে বসা হকারদের সরকারি জায়গায় পুনর্বাসন দেওয়া হবে। মঙ্গলবার বাঁকুড়ার বিধায়ক নীলাদ্রিশেখর দানাকে সঙ্গে নিয়ে সদর মহকুমা প্রশাসনের আধিকারিকরা মাচানতলা পরিদর্শন করেন।
বিধায়ক বলেন, মাচানতলায় সরকারি জায়গা রয়েছে। সেখানে হকারদের আপাতত পুনর্বাসন দেওয়া হবে। ওই জায়গায় কয়েকটি পরিবার বাস করে। তাঁদের এক কোণে সরে যেতে বলা হয়েছে। এক বছর ওই পরিবারগুলি সেখানে থাকতে পারবে। পরে আমরা ওই সরকারি জমিতে বহুতল মার্কেট কমপ্লেক্স গড়ে তুলব।
বাঁকুড়া শহরের কেন্দ্রস্থল মাচানতলায় এমনিতে ঘিঞ্জি পরিবেশ। সরু রাস্তার দু’পাশে হকার বসে থাকায় ব্যাপক যানজট দেখা দেয়। ১০বছর আগে মাচানতলায় হকার উচ্ছেদ করা হয়েছিল। রাস্তার পাশের সরকারি জায়গা তারের বেড়া দিয়ে ঘিরে দেওয়া হয়। হকারদের বাঁকুড়া কৃষকবাজারে পুনর্বাসন দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরে নতুন করে অনেকে পসরা নিয়ে বেড়ার পাশে ফের বসে পড়েন। ফলে রাস্তা আরো সরু হয়ে যায়।
পুজোর আগে শহরকে যানজটমুক্ত করতে হলে মাচানতলায় রাস্তার দু’পাশ দখলমুক্ত করা জরুরি। তাই আপাতত হকারদের সরিয়ে মাচানতলারই সরকারি জায়গায় পুনর্বাসন দেওয়া হবে। সেজন্য ওই জায়গায় মাটির উপর কংক্রিটের ঢালাই দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মাচানতলায় পুরানো এফসিআই গোডাউনের পাশের ওই জায়গায় অনেকদিন ধরেই নেশার সামগ্রী বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। মাচানতলার ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বাঁকুড়া শহর ও অন্যত্র ঝাঁ চকচকে বাড়ি থাকা সত্ত্বেও কয়েকজন সেখানে ঝুপড়ি তৈরি করে থাকে। মদ, গাঁজা, মাদকের বেআইনি কারবার চালায়। বিষয়টি নিয়ে ব্যবসায়ীরা সম্প্রতি পুলিশ ও প্রশাসনের আধিকারিকদের কাছে ডেপুটেশন জমা দিয়েছিলেন।
বাঁকুড়া জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, উচ্ছেদ হওয়া হকারদের পুনর্বাসন দেওয়ার জন্য আমরা জায়গা খুঁজছি। মাচানতলার ওই সরকারি জায়গায় হকারদের আপাতত দোকান করার অনুমতি দেওয়া হবে। পরে সেখানে পাকাপাকিভাবে হকারদের জন্য বন্দোবস্ত করা হবে। পার্কিং জোনও তৈরি করা হবে। বিষয়টি নিয়ে আমরা আলোচনা করছি।