


ফিরদৌস হাসান, শ্রীনগর: ভরা মরশুম। পর্যটকদের ভিড়ে পা ফেলার জায়গা নেই। এপ্রিল মাসের শুরুতেও এমনই ছিল জম্মু ও কাশ্মীরের ছবিটা। আচমকা ছন্দপতন। গত ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ের বৈসরণ উপত্যকায় ভয়াবহ সন্ত্রাসবাদী হামলার পর থেকেই মুখ থুবড়ে পড়েছে পর্যটন। টান পড়েছে কাশ্মীরবাসীর রুটিরুজিতে। সেই অবস্থা থেকে ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া চেষ্টা শুরু হয়েছে। এবার সেই উদ্যোগে শামিল হল ভারতের শীর্ষ পর্যটন সংগঠনগুলি। তাঁদের স্পষ্ট বার্তা— কাশ্মীর এখন পর্যটকদের জন্য নিারপদ গন্তব্য।
বেশ কয়েকটি ভ্রমণ সংস্থার উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা আগামী ১৪ জুন কাশ্মীর যাচ্ছেন। ১৭ জুন ফিরবেন তাঁরা। চারদিনের এই সফরে কাশ্মীরের তিনটি মূল পর্যটনকেন্দ্র শ্রীনগর, গুলমার্গ ও পহেলগাঁও ভ্রমণ করবেন তাঁরা। একটি সংস্থার সভাপতি রবি গোসাইন বলেন, ‘কাশ্মীরের পরিস্থিতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করাই এই সফরের উদ্দেশ্য। সকলকে আশ্বস্ত করতে হবে, কাশ্মীর এখন পুরোপুরি নিরাপদ।’ ইন্ডিগো এই সফরে তাঁদের সহায়তা করছে বলে খবর। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে একাধিক ট্যুর অপারেটররা এই সফরে যাচ্ছেন। সফরকালে স্থানীয় হোটেল ব্যবসায়ী, পরিবহণ সংস্থা, পর্যটন দপ্তরের কর্মীদের সঙ্গে কথা বলবেন তাঁরা। তৈরি হবে বিশেষ রিপোর্ট। বর্তমানে কাশ্মীরের নিরাপত্তা, সুযোগ-সুবিধার বিস্তারিত বর্ণনা থাকবে সেই প্রতিবেদনে। পহেলগাঁওতে একদিন, শ্রীনগরে দু’দিন থাকবে এই দল। তাঁদের সঙ্গে পর্যটন সাংবাদিকরাও থাকবেন। যাঁরা এই ট্যুরে থাকবেন, তাঁরা প্রত্যেকে কাশ্মীরের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরবেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। সেই বার্তা বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে দেওয়াই লক্ষ্য তাঁদের। কাশ্মীরের স্থানীয় এক ট্যুর অপারেটর রামিজ আহমেদ বলেন, ‘এই ধরনের উদ্যোগ আমাদের জন্য উপকারী। পহেলগাঁও ঘটনার পর পর্যটন ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। তা পুনরুদ্ধারের জন্য সবপক্ষকে সচেষ্ট হতে হবে।’