Bartaman Logo
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

চড়ল মূল্যবৃদ্ধির হার, উৎসবে খাদ্যপণ্য নিয়ে শঙ্কায় মধ্যবিত্ত

জিডিপির বিপুল প্রচারের সঙ্গে কি মূল্যবৃদ্ধির তালমেল আছে? সোমবার গণেশ চতুর্থীর মাধ্যমে ঢাকে কাঠি পড়েছে উৎসবের মরশুমে।

চড়ল মূল্যবৃদ্ধির হার, উৎসবে খাদ্যপণ্য নিয়ে শঙ্কায় মধ্যবিত্ত
  • ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: জিডিপির বিপুল প্রচারের সঙ্গে কি মূল্যবৃদ্ধির তালমেল আছে? সোমবার গণেশ চতুর্থীর মাধ্যমে ঢাকে কাঠি পড়েছে উৎসবের মরশুমে। আর এদিনই সামনে এসেছে মূল্যবৃদ্ধির সূচক। আগস্ট মাসে খুচরো বাজারে মূল্যবৃদ্ধির হার সেখানে দেখা যাচ্ছে ৪.৮২%। গত কয়েকদিনের আভাস অনুযায়ী প্রত্যাশিতভাবেই শহরাঞ্চলের (৪.৩১ শতাংশ) তুলনায় গ্রামীণ ভারতে এই মূল্যবৃদ্ধির হার বেশি (৫.২৩  শতাংশ)। একইভাবে পাল্লা দিয়েছে পাইকারি মূল্যবৃদ্ধির হারও। চলতি বছরের আগস্ট অনুযায়ী, এই হার ছুঁয়েছে ৯.৯২ শতাংশ। জুলাইতেও যা ছিল ৯.৭৮ শতাংশ। অর্থাৎ প্রচার যাই থাকুক না কেন, নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি সামাল দিতে কেন্দ্র যে হিমশিম খাচ্ছে, তাতে সংশয় নেই। রিজার্ভ ব্যাংকের রিপোর্টও বারবার সেই ইঙ্গিতই দিয়ে চলেছে। উৎসবের মরশুমের শুরুতে মূল্যবৃদ্ধির সূচকে সেই আশঙ্কাই তীব্রতর হল। মন্ত্রকেরই আশঙ্কা, আগামী দিনে তা আরও বাড়বে। আর পাল্লা দিয়ে ঊর্ধ্বমুখী হবে চাল-ডাল-তেল-নুনের মতো আমির থেকে আম আদমির দৈনন্দিন খাদ্যদ্রব্যের দাম।

Advertisement

সরকারের দাবি, ঊর্ধ্বমুখী এই সূচকের নেপথ্যে আমেরিকা-ইরান যুদ্ধের প্রভাব রয়েছে। কার্যত সেই কারণেই চলতি অর্থবর্ষের শুরু থেকেই পাইকারি মূল্যবৃদ্ধির আকাশছোঁয়া। বিরোধীদের প্রশ্ন, এই যুদ্ধপর্ব শুরুর আগে থেকেই তো নিত্যপণ্যের দাম লাগাতার চড়ছে। তাহলে তার নেপথ্য যুক্তি কী? জিডিপি বৃদ্ধির হার নিয়ে কেন্দ্র এবং বিজেপির যাবতীয় প্রচারের ঢাক যে আর বাজছে না, তা নিয়ে স্পষ্ট কটাক্ষ করেছে কংগ্রেস। এআইসিসির মুখ্য মুখপাত্র জয়রাম রমেশ বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী মুখে প্রচার করেন সব চাঙ্গা সি। কিন্তু আসলে সব মেহেঙ্গা সি।’ অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রীর প্রচার, সব দারুণ চলছে। আসলে সবেরই দাম বাড়ছে। 
কেন্দ্রীয় সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত জুলাইতে পাইকারিতে খাদ্য সূচকের মূল্যবৃদ্ধির হার ছিল ৬.৬৫%। আগস্টে সেটা বেড়ে হয়েছে ৭.০৫%। উৎপাদিত পণ্যের ক্ষেত্রে ৮.৩৭ শতাংশে দাঁড়িয়ে আছে পাইকারি মূল্যবৃদ্ধির হার। জুলাইতে সেটাই ছিল ৮.২৯%। গত কয়েক মাস ধরে এই সূচক লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। এরই পাশাপাশি আগস্টে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে পাইকারি মূল্যসূচক হয়েছে ২২.৯৩ %। 
খুচরোর ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে হয়েছে পেঁয়াজ, আদা, রসুনের। বাঙালি তো বটেই, রসনা তৃপ্তির ক্ষেত্রে খাবারে স্বাদ আনতে এই তিনটির ব্যবহার রান্নায় সবচেয়ে বেশি। অথচ আগস্ট মাসে পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধির হার ছিল ৪৮.২৭%, আদা ৭৩.৮২% এবং রসুন ৪৩.৬০%। সেই তুলনায় টম্যাটো, ঢেঁড়স, আলু, পটলের মূল্যবৃদ্ধির হার কমেছে। 
খুচরো বাজারে কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্সে (সিপিআই) জাতীয়স্তরে মূল্যবৃদ্ধির হার ৪.৮২% হলেও রাজ্যভিত্তিক পরিসংখ্যানে অবশ্য পশ্চিমবঙ্গে এখনও অনেক কম—৩.২৮%। অর্থাৎ এই রাজ্যে জিনিসপত্রের দাম গোটা দেশের গড়ের নিরিখে অপেক্ষাকৃত কম। চড়া দামের নিরিখে রাজ্যগুলির মধ্যে সবচেয়ে বেশি হাঁসফাঁস করছে কিন্তু কংগ্রেস শাসিত তেলেঙ্গানা—৬.২৭%। মোদি-শাহর রাজ্য গুজরাতে খুচরো বাজারে মূল্যবৃদ্ধির হার ৪.৯৪%। যে পাঁচটি রাজ্যে খুচরো বাজারে খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির হার সবথেকে বেশি, সেগুলি হল—মহারাষ্ট্র (৮.১০ শতাংশ), অন্ধ্রপ্রদেশ (৮.০৭), তামিলনাড়ু (৭.৯৬), কর্ণাটক (৭.৫৮) এবং তেলেঙ্গানা (৭.৩৩ শতাংশ)। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ