Bartaman Logo
২৭ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বিজেপির মধ্যে বখরার লড়াই, বিরোধিতা করে খুন বাপি! বারুইপুর কাণ্ডে চাঞ্চল্যকর তথ্য পুলিশের তদন্তে

বারুইপুরে বিজেপি কর্মী বাপি প্রামাণিক খুনের ঘটনায় তদন্তে নেমে চাঞ্চল্যকর তথ্য হাতে পেলেন তদন্তকারীরা।

বিজেপির মধ্যে বখরার লড়াই, বিরোধিতা করে খুন বাপি! বারুইপুর কাণ্ডে চাঞ্চল্যকর তথ্য পুলিশের তদন্তে
  • ২৭ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বারুইপুর: বারুইপুরে বিজেপি কর্মী বাপি প্রামাণিক খুনের ঘটনায় তদন্তে নেমে চাঞ্চল্যকর তথ্য হাতে পেলেন তদন্তকারীরা। বারুইপুরের হাড়দহ এলাকায় জমি-মাটির কারবার, এলাকার ক্ষমতা কার হাতে থাকবে ইত্যাদি বিষয় নিয়ে বিজেপির দুই গোষ্ঠীর মধ্যে লড়াই চলছিল জোরদার। বিজেপির এই অন্তর্দ্বন্দ্বে ইন্ধন জুগিয়েছেন তৃণমূলের ওই এলাকার দাপুটে নেতাদের একাংশ। পাশাপাশি, রাজ্যে পালাবদলের পর তৃণমূলের যে অংশ বিজেপিতে ঢুকতে চাইছিল, তাঁদের থেকে কত টাকা নেওয়া হবে, সেই টাকার ভাগ কে কতটা পাবেন, তা নিয়ে পদ্মপার্টির দুই গোষ্ঠীর মধ্যে রীতিমতো রেষারেষি শুরু হয়েছিল। প্রথম থেকেই এই কাজের বিরোধিতা করছিলেন বাপি। তার জন্যই কি তাঁকে পরিকল্পনা করে সরিয়ে দেওয়া হল? তদন্তে সব দিকই খতিয়ে দেখছে পুলিশ। জানা গিয়েছে, শুধু বাপি প্রামাণিক নন, বিজেপির আরেক কর্মীও তাদের টার্গেটের তালিকায় ছিলেন। 

Advertisement

বারুইপুরের হাড়দহ উত্তর টাঙ্গারবেড়িয়া, দক্ষিণ টাঙ্গারবেড়িয়া, গৌরদহ সবই খাল ঘেঁষা এলাকা। এই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে জমি ও মাটির কারবার দেখভাল করতেন তৃণমূলের এক স্থানীয় দাপুটে নেতা। তার মাথায় ছিলেন তৃণমূলের পঞ্চায়েত সমিতির এক কর্মাধ্যক্ষ। পালাবদলের পর বিজেপির পঞ্চায়েত সদস্য সুজন মণ্ডল তৃণমূলের ওই নেতার সঙ্গে যোগসাজস করে জমি ও মাটির কারবারে ঢুকে পড়েন। ফুলে-ফেঁপে ওঠে ব্যবসা। এর মধ্যে এই কারবার নিয়ে সুজনের সঙ্গে বিরোধ হয় এলাকার বিজেপি নেত্রী মৌসুমি মণ্ডলের। তাঁর বক্তব্য, সুজন কৌশলে তৃণমূলের মস্তানদের বিজেপিতে ঢোকানোর জন্য তদ্বির শুরু করেন। এরপর তিনি একে একে বেশ কয়েকজনকে দলে ঢোকান। এভাবে চললে গোটা দলই একদিন শেষ হয়ে যাবে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার ঘটনার দিন রাত ৮টায় বিজেপির বৈঠক ছিল। ওই বৈঠকে তৃণমূলের কয়েকজন স্থানীয় নেতাকে আনুষ্ঠানিকভাবে দলে ঢোকানো হয়। সেই বৈঠকে অবশ্য বাপি ছিলেন না। পরে তিনি বিষয়টি জানতে পারেন এবং তার বিরোধিতা করেন। এর রেশ ধরে ওই রাতেই বিজেপির দুই গোষ্ঠীর মধ্যে ফের গণ্ডগোল ও মারামারি হয়।
বিজেপির রাজ্য কমিটির সদস্য উত্তম কর বলেন, তৃণমূলের হার্মাদরা পরিকল্পনা করে আমাদের এক সক্রিয় কর্মীকে খুন করেছে। কী কারণ, কারা দোষী, সবটাই পুলিশ দেখছে। আইন আইনের পথে চলবে। এদিকে, নতুন করে আর কোনো গ্রেপ্তারি না হওয়ায় মৃতের পরিবার ক্ষুব্ধ। এখনও অধরা ১১ অভিযুক্ত। এ প্রসঙ্গে বারুইপুর পুলিশ জেলার এক আধিকারিক বলেন, তল্লাশি জারি রয়েছে। দোষীরা কেউই ছাড় পাবে না।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ