নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: মুখে বলছেন ‘চাঙ্গা সি!’ কিন্তু ভিতরে ভিতরে ভিত নড়ছে। তাই আগামী বছর পাঞ্জাব বিধানসভা নির্বাচনের আগে দলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব মেটাতে এবার নামছেন রাহুল গান্ধী। শীঘ্রই সব পক্ষকে নিয়ে তিনি পাঞ্জাব জুড়ে ‘ইউনিটি বাস যাত্রা’ করবেন বলেই ঠিক করেছেন। অমৃতসরের স্বর্ণমন্দির থেকে শুরু করে রাজ্যের বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকায় যাবেন রাহুল। সঙ্গে থাকবেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি রাজা ওয়ারিং। বিক্ষুব্ধ চরণজিৎ সিং চান্নি, সুখজিন্দর রণধাওয়ারা। এআইসিসির পক্ষে পাঞ্জাবের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা ছত্তিশগড়ের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ভূপেশ বাঘেলকে যাবতীয় কমর্সূচি ঠিক করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ইউনিটি বাস যাত্রায় প্রয়োজনে কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমার এবং তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডিও সামিল হতে পারেন।
গতবার ২০২২ সালে ভোটের আগে দল ছাড়েন ক্যাপ্টেন অমরিন্দর সিং। মুখ্যমন্ত্রী হতে চেয়ে জেদাজেদি শুরু করেন প্রাক্তন ক্রিকেটার নভজ্যোৎ সিং সিধু। তাঁর হয়ে ব্যাট ধরেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। কিন্তু চমক দেওয়ার চেষ্টায় দলের দলিত মুখ হিসেবে চরণজিৎ সিং চান্নিকে মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে বসান সোনিয়া গান্ধী। যদিও সেই চমক কাজে লাগেনি। পাঞ্জাব হাতছাড়া হয় কংগ্রেসের। দখল করে আম আদমি পার্টি। ১১৭টি আসনেই প্রার্থী দিয়ে কংগ্রেস জেতে মাত্র ১৮ টিতে। সেখানে আম আদমি পার্টি ৯২। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি চেষ্টা করলেও বিজেপি অবশ্য ধারেকাছে ঘেঁষতে পারেনি। ৭৩ আসনে লড়ে পেয়েছিল মাত্র দুই। এবার রাজ্যে আম আদমির পার্টির দাপট কমছে বলেই কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ রিপোর্ট। পাঞ্জাবে মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মানের জনপ্রিয়তাও কমছে। ফলে ফের পাঞ্জাব দখলের সম্ভাবনা দেখছে কংগ্রেস। কিন্তু বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে দলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব। তাই আর অপেক্ষা না করে রাহুল নামছেন মাঠে। সবাইকে বোঝানো হয়েছে, এখনই কাউকে মুখ্যমন্ত্রীর মুখ ঘোষণা করা হবে না।