ব্রতীন দাস, জলপাইগুড়ি: দু’বছর বন্ধ থাকার পর বাংলাদেশিদের জন্য চালু হচ্ছে ভারতের ট্যুরিস্ট ভিসা। কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেন রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী শংকর ঘোষ। এর ফলে রাজ্যে পর্যটনের প্রসার ঘটবে বলে মনে করেন তিনি। শুক্রবার শংকর বলেন, বাংলাদেশের মানুষের জন্য ভারতের ট্যুরিস্ট ভিসা চালুর সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানাই। এতে রাজ্যে পর্যটনের ভালো হবে। ট্যুরিজমে আমরা যেখানে পৌঁছতে চাইছি, সেখানে পৌঁছতে এই সিদ্ধান্ত অনেকটা সহায়ক হবে।
পর্যটন দপ্তরের মন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব নিয়েই শিলিগুড়ির বিধায়ক শংকর ঘোষ জানিয়ে দিয়েছেন, এখন থেকে ট্যুরিজম ফর অল। অর্থাৎ পর্যটন শুধুমাত্র উচ্চবিত্তদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। নিম্নবিত্তরাও যাতে পর্যটনের স্বাদ ও সৌন্দর্য থেকে বঞ্চিত না হন, সেটা দেখা হবে। মন্ত্রীর এই বার্তার পরই রাজ্যের পর্যটন পরিকাঠামোকে ঢেলে সাজার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে দপ্তর সূত্রে খবর।
পরিবেশকে এতটুকু নষ্ট না করেই পর্যটন ভাবনার নির্দেশ দিয়েছেন মন্ত্রী। ইতিমধ্যেই রাজ্য বাজেটে দার্জিলিংয়ে ইকো অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজম স্পট তৈরির কথা ঘোষণা করা হয়েছে। বলা হয়েছে, পাহাড়ের ঝরনাগুলির সৌন্দর্যায়নের কথা। গজলডোবা নিয়েও বিশেষ পরিকল্পনা রয়েছে মন্ত্রীর।
হিমালয়ান হসপিটালিটি অ্যান্ড ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট নেটওয়ার্কের সাধারণ সম্পাদক সম্রাট সান্যাল বলেন, পর্যটনমন্ত্রীর পজিটিভ অ্যাপ্রোচ রাজ্যের ট্যুরিজম শিল্পে জোয়ার আনতে সাহায্য করবে বলে আমরা আশাবাদী। তাঁর দাবি, বাংলাদেশি পর্যটকদের একসময় অন্যতম পছন্দের ডেস্টিনেশন ছিল দার্জিলিং। ২০১৮ সালের পর থেকে কিছুটা সিকিম টেনে নেয়। তবে বাংলাদেশের পর্যটকরা ডুয়ার্সেও বেড়াতে ভালোবাসেন। ট্যুরিস্ট ভিসা চালু হলে বাংলাদেশ থেকে বহু পর্যটক এরাজ্যে বিশেষ করে উত্তরবঙ্গে আসবেন। সম্রাটের দাবি, পর্যটনে গতি আনতে মিতালি এক্সপ্রেস ফের চালু হোক। সেইসঙ্গে বাগডোগরা থেকে ঢাকা বিমানের যে দাবি রয়েছে দীর্ঘদিনের, সেটিও চালু হোক।
পর্যটনের প্রসারে মসৃণ যোগাযোগ ব্যবস্থা অন্যতম বিষয়। সেটা মাথায় রেখে শিলিগুড়ি থেকে জলপাইগুড়ি মেট্রো চালুর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে সার্ভে, মালদহ, বালুরঘাট, পুরুলিয়া ও কল্যাণীতে নতুন বিমানবন্দর, কোচবিহার বিমানবন্দরের পরিকাঠামো উন্নয়নের কথা বলা হয়েছে বাজেটে। এনজেপি স্টেশনকে আন্তর্জাতিক মানের মতো করে গড়ে তোলা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় বাজেটে আগেই শিলিগুড়ি থেকে বারাণসী বুলেট ট্রেনের কথা বলা হয়েছে। ওই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে তিন ঘণ্টায় বারাণসী থেকে পৌঁছে যাওয়া যাবে শিলিগুড়ি।
ধর্মীয় ট্যুরিজমে এখন মানুষের মধ্যে ঝোঁক বাড়ছে। সেটা মাথায় রেখে কালীঘাট, কঙ্কালীতলা, তারাপীঠের সঙ্গে বাজেটে উত্তরবঙ্গের ঐতিহ্যবাহী কোচবিহারের মদনমোহন মন্দির কিংবা ময়নাগুড়ির জল্পেশ মন্দির সংরক্ষণে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেছে রাজ্য। নন্দীকেশ্বরী, তারাপীঠ, বক্রেশ্বর, ফুল্লরার সঙ্গে জলপাইগুড়ির বোদাগঞ্জের ভ্রামরীদেবীর মন্দিরকে বেঙ্গল শক্তিপীঠ সার্কিটে যুক্ত করা হয়েছে।