হারারে: ব্যর্থতার কানাগলি থেকে সাফল্যের রাজপথ! অবশেষে সিরিজ জিতল বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ভারত। শনিবার হারারেতে দ্বিতীয় টি-২০ ম্যাচে জিম্বাবোয়েকে ৯০ রানে বশ মানিয়েছে শ্রেয়স ব্রিগেড। টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ভারতের সংগ্রহ ৫ উইকেটে ২১৯। জবাবে ১৭.৫ ওভারে ১২৯ রানেই গুটিয়ে গেল আফ্রিকার দেশটি। ৯টি চার ও ২টি ছক্কা সহ ৪৪ বলে ৮১ রানের ইনিংস খেলে ম্যাচের সেরা ঈশান কিষান। সেই সঙ্গে নিজেদের নজির নিজেরাই ছুঁয়েছে টিম ইন্ডিয়া। চলতি বছরে টি-২০’তে সবচেয়ে বেশি ৯বার দুশো বা তার বেশি স্কোর তুলল ভারত। ২০২৪ সালেও একই কীর্তি গড়েছিল ‘মেন ইন ব্লু’।
গত মার্চে টি-২০ চ্যাম্পিয়ন ভারত। তারপরও নেতৃত্ব থেকে সূর্যকুমার যাদবকে সরিয়ে শ্রেয়সকে আনা হয়। কিন্তু, আইপিএলের ‘সরপঞ্জ সাব’ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কাগুজে বাঘ। দুর্বল আয়ারল্যান্ডের কাছে সিরিজ হারের পর ইংল্যান্ডে গিয়েও মুখ থুবড়ে পড়ে তাঁর দল। ওডিআই সিরিজও পকেটে পুরে নেন হ্যারি ব্রুকরা। এমন কঠিন সময়ে টিম ইন্ডিয়ার আশার আলো ছিল এই সিরিজ। কারণ, অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার-গ্র্যান্ট ফ্লাওয়ারদের গরিমা অতীত। এখন জিম্বাবোয়ে দ্বিতীয় সারির দল। দুর্বল প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে এক ম্যাচ বাকি থাকতেই সিরিজ নিশ্চিত ভারতের। সেই সঙ্গে জাতীয় দলের ক্যাপ্টেন হিসাবে প্রথম টি-২০ সিরিজ জয়ের স্বাদ পেলেন শ্রেয়সও।
শনিবার টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন জিম্বাবোয়ের অধিনায়ক সিকান্দর রাজা। ভারতের দুই ওপেনার অভিষেক (৮) ও বৈভব (২০) এদিন বড় রান পাননি। শ্রেয়সের সংগ্রহ ২৫। তবে ঈশান কিষান একাই রোলার চালিয়ে দিলেন জিম্বাবোয়ের উপর। তাঁকে যোগ্য সঙ্গত করলেন সহ-অধিনায়ক তিলক ভার্মা। বাঁ-হাতি উইকেটরক্ষক ব্যাটার ৮১ রান করে আউট হওয়ার পর তিলক ঝড় তুললেন। ২৯ বলে তাঁর অপরাজিত ৬০ রানের ইনিংসে ছিল ৫টি চার ও ৩টি ছক্কা।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই ধুঁকছিল জিম্বাবোয়ে। মাত্র ৪৯ রানেই ৪ উইকেট খুইয়ে চাপে পড়ে যায় হোম টিম। সেখান থেকে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি তারা। এরপর নিয়মিত উইকেট খুইয়ে কোনোক্রমে একশো’র গণ্ডি টপকায় জিম্বাবোয়ে। ভারতের হয়ে অভিষেক ম্যাচে দু’টি উইকেট নিলেন যশ ঠাকুর। প্রিন্স যাদবের ঝুলিতেও দু’টি শিকার। রবিবারই হারারেতে সিরিজের তৃতীয় তথা শেষ ম্যাচ। সিরিজ নিশ্চিত হওয়ায় তরুণদের সুযোগ দেওয়া হতে পারে।
রবিবার খেলা শুরু বিকেল ৪-৩০ মিনিটে। সম্প্রচার ইউনাইট ৮ স্পোর্টসে।