লন্ডন: বাউন্ডারি হাঁকিয়ে সেঞ্চুরি। জবাবটা ব্যাটেই দিলেন রোহিত শর্মা। কিন্তু রবিবার লর্ডসে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে তৃতীয় তথা শেষ একদিনের ম্যাচে কাজে এল না তাঁর লড়াই। ২৭ রানে জিতে সিরিজ দখল করলেন হ্যারি ব্রুকরা। ৩৮৮ রানের কঠিন টার্গেট তাড়া করে শুভমান গিল ব্রিগেড ৭ উইকেটে থামল ৩৬০ রানে। টি-২০ সিরিজে ০-৪ দুরমুশ হওয়ার পর পঞ্চাশ ওভারের ঘরানাতেও ১-২ ব্যবধানে সিরিজ হারল গৌতম গম্ভীরের ছাত্ররা। জঘন্য এই পরাজয় জন্ম দিল অজস্র প্রশ্নের।
রোহিত অবশ্য তাঁকে নিয়ে যাবতীয় প্রশ্নকেই ছুড়ে ফেললেন গ্যালারিতে। গত কয়েকদিন ধরে তাঁর সম্ভাব্য অবসর নিয়ে উত্তাল হয়েছে ক্রিকেটমহল। ১৫ মাস পরের ওডিআই বিশ্বকাপ দলে তাঁকে নাকি ভাবছেন না নির্বাচকরা! খবর ছড়িয়ে পড়ে, লর্ডসের ম্যাচই হতে চলেছে হিটম্যানের বিদায়বাসর। প্রবল চাপের মুখে ১১০ বলে ১৩৮ রানের ইনিংস অবশ্য বোঝাল কেন তাঁর অভিজ্ঞতা এখনও দরকার। মুম্বইকরের ৩৪তম সেঞ্চুরি আসে ৮৪ বলে। তিনি মারেন ১৭টি চার ও ৫টি ছক্কা। শুভমান (৮৪ বলে ৭৭), বিরাট কোহলি (৬০ বলে ৭৪) চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু সাত বলের ব্যবধানে স্যাম কারানের তিন উইকেটই ভারতের হার নিশ্চিত করে। ঈশান কিষান (১৪), শ্রেয়স আয়ারের (০) পর কোহলিকেও ফেরান তিনি। ৪ উইকেট নিয়ে স্যামই ইংল্যান্ডের সফলতম বোলার।
এদিন টস জিতে ব্যাট করতে নেমে রানের পাহাড় গড়ে ইংল্যান্ড। যশপ্রীত বুমরাহ চোটের জন্য খেলেননি। স্পষ্ট হয়ে ওঠে তাঁর অভাব। ছিলেন না ওয়াশিংটন সুন্দর বা বরুণ চক্রবর্তীও। তা সত্ত্বেও প্রথম এগারোয় জায়গা হয়নি চায়নাম্যান কুলদীপ যাদবের। পরিবর্তে চার জোরে বোলার নিয়ে দল সাজায় ভারত। ১০ ওভারে ৯৭ রান দেওয়া গুরনুর ব্রার বা প্রিন্স যাদবের (১-৭৯) পরিবর্তে কি কুলদীপকে খেলানো যেত না? মাঝের ওভারে উইকেট নেওয়ার মতো বোলার এই দলে কোথায়? আসলে প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীর ও ক্যাপ্টেন শুভমান গিলের গোঁয়ার্তুমির ফল ভুগতে হচ্ছে বার বার। এদিন যেমন আগাগোড়া ছন্দহীন দেখাল অর্শদীপদের। ষষ্ঠ বোলারের অভাবও স্পষ্ট। ওপেনিং জুটিতেই ১৯২ তুলে ফেলেন বেন ডাকেট (১৪১) ও জেকব বেথেল (৯১)। অশনি সংকেত তখনই স্পষ্ট। অষ্টম শতরানের ইনিংসে ডাকেট ১৩৫ বলে মারেন ১৮টি চার ও ১টি ছক্কা। জো রুট (৪৮ বলে অপরাজিত ৭৪) ও জস বাটলার (১৩ বলে অপরাজিত ৪১) ঝড় তোলেন অন্তিম লগ্নে। ইংল্যান্ড ৩ উইকেটে থামে ৩৮৭ রানে, লর্ডসে যা লিস্ট ‘এ’ ম্যাচে সর্বাধিক। শেষ পাঁচ ওভারে ইংল্যান্ড তোলে ৮২। সেটাই ফারাক গড়ে দেয়।