


বার্মিংহাম: বিশালাকার কলো রংয়ের বাসটা এসে দাঁড়াল এজবাস্টনের গেটে। নড়ে বসলেন নিরাপত্তারক্ষীরা। নিলেন পজিশন। তারপর বাস থেকে বেরিয়ে এলেন ভারতীয় ক্রিকেটাররা। সবার আগে দেখা গেল রবীন্দ্র জাদেজাকে। তাঁর পিছনে কোচ গৌতম গম্ভীর। কিছুটা পরে পিছনের গেট দিয়ে নামলেন যশপ্রীত বুমরাহ। তারকা পেসারকে দেখে সমর্থকরা যেন দীর্ঘশ্বাস ফেললেন। কারণ, এজবাস্টনে বুমবুমের খেলা নিয়ে সংশয় রয়েছে। তাঁকে বিশ্রাম দেওয়া হতে পারে। আসলে চোট সমস্যায় দীর্ঘদিন ধরেই ভুগছেন তিনি। চিকিৎসকও জানিয়ে দিয়েছেন, একটানা ম্যাচ খেলা যাবে না। তাই বুমরাহ নিজেই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন পাঁচটির মধ্যে তিনটি টেস্টে মাঠে নামবেন। এখন প্রশ্ন, কোন দু’টি টেস্টে তিনি বিশ্রাম নেবেন? সিরিজে এখন ০-১ পিছিয়ে রয়েছে শুভমান গিল বাহিনী। এই পরিস্থিতিতে দ্বিতীয় টেস্টেও হারলে সিরিজে ফেরার লড়াই প্রচণ্ড কঠিন হবে। তখন বাকি তিনটি টেস্টই জিততে হবে। ফলে বুমরাহকে বুধবার শুরু হওয়া টেস্টের প্রথম এগারোয় রাখা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ নয়।
এজবাস্টনে টিম ইন্ডিয়ার প্রথম দিনের অনুশীলনে বুমরাহর না খেলার জল্পনাই তীব্র হল। কারণ, তিনি মাঠে এলেও প্র্যাকটিস করেননি। চুপচাপ দেখেই গেলেন সতীর্থদের ঘাম ঝরানো। আর এক পেসার, প্রসিদ্ধ কৃষ্ণাও ছিলেন বিশ্রামে। নেটে বরং অনেক বেশি সক্রিয় দেখাল অন্য দুই পেসার অর্শদীপ সিং ও আকাশ দীপকে। প্রথম টেস্টে তাঁদের খেলানো হয়নি। এদিনের প্র্যাকটিসের পর তাই ফিসফাস জোরদার। তাহলে কি দ্বিতীয় টেস্টে শিকে ছিঁড়তে চলেছে অর্শদীপ-আকাশের? বুমরাহ না খেললে অর্শদীপই সেরা বিকল্প। সেক্ষেত্রে টেস্ট অভিষেক হবে তাঁর। প্রসিদ্ধ যেভাবে রান বিলিয়েছেন হেডিংলেতে, তাতে তাঁর উপরও কোপ পড়তে পারে। এক্ষেত্রে আকাশ দীপ দলে আসতে পারেন। সিরাজের পারফরম্যান্সেও খুশি নয় টিম ম্যানেজমেন্ট। তাই প্রথম একাদশ বাছার আগে দুই রিজার্ভ পেসারকে ঝালিয়ে নিলেন কোচ গম্ভীর। বোলিং কোচ মর্নিং মর্কেলকে দেখা গেল আলাদাভাবে নেটের পিছনে আকাশ দীপের সঙ্গে কথা বলতে। কিছুক্ষণ পরে সেই আলোচনায় অংশ নেন গম্ভীরও।
আসলে হেডিংলে টেস্টে আগাগোড়া প্রাধান্য দেখিয়েও ভারত ৫ উইকেটে হেরেছে। তার পিছনে সাতটি ক্যাচ মিস যেমন দায়ী, তেমনই চতুর্থ ইনিংসে ৩৭০ রানের পুঁজি নিয়েও ঝাঁঝালো বোলিং মেলে ধরতে না পারাটা বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সেই জন্যই এজবাস্টন টেস্টে ভারতীয় দলে বেশ কয়েকটি পরিবর্তনের সম্ভাবনা প্রবল। কুলদীপ যাদবকে খেলানোর জন্য অনেকেই সওয়াল করছেন। এমনকী, শার্দূল ঠাকুরকে বাদ দিয়ে নীতীশ রেড্ডিকে ফেরানোর জল্পনাও চলছে।
অ্যান্ডারসন-তেন্ডুলকর ট্রফিতে আপাতত ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে ইংল্যান্ড। সিরিজে সমতা ফেরানোর কঠিন চ্যালেঞ্জ টিম ইন্ডিয়ার সামনে। তবে এজবাস্টনে ভারত আজ পর্যন্ত কখনও টেস্ট জিততে পারেনি। আটটির মধ্যে সাতটিতেই হার, ড্র মাত্র একটিতে। তারুণ্যের জোয়ারে টিম ইন্ডিয়া কি পারবে চাকা ঘোরাতে?