


নয়াদিল্লি: পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার পর ক্ষোভের আগুনে ফুঁসে উঠেছে গোটা দেশ। ‘অপারেশন সিন্দুরে’র মাধ্যমে জঙ্গিদের মদতদাতা পাকিস্তানকে পাল্টা জবাব দিয়েছে ভারত। পাক অধিকৃত কাশ্মীর ও পাকিস্তানে ঢুকে একের পর জঙ্গি গোষ্ঠীর ডেরা গুঁড়িয়ে দিয়েছে ভারত। এরইমাঝে ভুয়ো খবরকে হাতিয়ার করে নিজেদের মুখ বাঁচানোর মরিয়া চেষ্টা করছে পাকিস্তান। সোশ্যাল মিডিয়াতে ভুয়ো পোস্টের মাধ্যমে ভারতে আতঙ্ক ও সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ছড়াতে উঠেপড়ে লেগেছে পড়শি দেশ। এজন্য তারা হাতিয়ার করেছে বিভিন্ন ধরনের পুরনো ঘটনা ও বিস্ফোরণের ছবি-ভিডিও। শনিবার ভারতের বিদেশ সচিবের সাংবাদিক বৈঠক ও প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরোর ফ্যাক্ট চেকিং ইউনিট পাকিস্তানের সেই অপপ্রচারের পর্দাফাঁস করে দিল।
নাগরোটা, ভাতিন্ডা, উধমপুর সহ একাধিক বায়ুসেনার ঘাঁটি ধ্বংস করে করা হয়েছে। সিরস ও অমৃতসরের সেনাঘাঁটিতেও হামলা চালানো হয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে নকল ছবি, ভিডিও ব্যবহার করে এমনই সব ফেক নিউজ ছড়ানো হয়েছে। আদতে এর নেপথ্যে রয়েছে পাকিস্তান ও সেদেশের বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট। এদিন প্রকৃত তথ্য তুলে ধরে ওই সব ফেক নিউজের পর্দাফাঁস করেছে ভারত। বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রি, কর্নেল সোফিয়া কুরেশি ও বায়ুসেনার উইং কমান্ডার ব্যোমিকা সিংয়ের যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে ভিডিও ফুটেজ তুলে জানানো হয়েছে, পাকিস্তানের ওই সমস্ত দাবিই মিথ্যা। ঘাঁটিগুলি সম্পূর্ণ অক্ষত। অমৃতসরের সেনাঘাঁটিতে হামলার ভুয়ো দাবির ক্ষেত্রে ২০২৪ সালের একটি দাবানলের ভিডিও ফুটেজ ব্যবহার করা হয়েছিল। একইভাবে ভারতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ভুয়ো খবর ছড়াতে ব্যবহার করা হয় বেইরুটে ২০২০ সালে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ফুটেজ।
শুধু তাই নয়, একটি খামার বাড়ির অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাকে জলন্ধরে ড্রোন হামলার ঘটনা বলে চালিয়ে দেওয়া হয়। এমনকী, ‘২০ রাজ ব্যাটালিয়ন’ নামে সেনা ইউনিট ধ্বংসের ভুয়ো খবর ছড়ানো হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে ভারতীয় সেনার এধরনের কোনও ইউনিটই নেই। নানকানা সাহিব গুরুদ্বারে ভারতের ড্রোন হামলার দাবি করে পাকিস্তান। কিন্তু ওই দাবিও যে ভুয়ো তা স্পষ্ট করে দিয়েছে পিআইবি-র ফ্যাক্ট চেকিং ইউনিট। আফগানিস্তানে ভারতের মিসাইল পড়ার দাবিও খারিজ করে দেওয়া হয়েছে। পাক সাইবার হামলায় ভারতের পাওয়ার গ্রিড অকেজো হওয়া ও মুম্বই-দিল্লি বিমান চলাচল বন্ধের মতো ভিত্তিহীন প্রচারও নস্যাৎ করে দিয়েছে ভারত। বায়ুসেনার এক মহিলা পাইলটকে আটক করা ও রাফাল যুদ্ধবিমান ধ্বংসের মতো ভুয়ো প্রচারকেও প্রকৃত তথ্য তুলে ধরে নস্যাৎ করেছে ভারত।