


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: চীন বয়কট পর্ব সমাপ্ত। চীনকে বিরুদ্ধ পক্ষ ভাবাও অতীত। ২০২০ সালে লাদাখ থেকে যে সংঘাতের সূচনা এবং মোদি সরকারের নানাবিধ চীন বিরোধী কড়া অবস্থান, সবই একে একে সমাপ্ত হয়ে যাচ্ছে। চীনকে শায়েস্তা করতে আত্মনির্ভরতার স্লোগান দিয়ে ভারত বহু চীনের পণ্য বয়কট করার ডাক দিয়েছিল। বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল, অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, প্রত্যেকেই বিগত বছরগুলিতে বারংবার স্বদেশি মন্ত্র প্রচার করেছেন। দেশজুড়ে জনসভাগুলিতে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ভারতে নির্মিত না হলে কোনো পণ্য কিনবেন না। বিদেশি পণ্য বয়কট করতে হবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা গিয়েছে বিগত এক বছরের চীন থেকে পণ্য আমদানির পরিমাণ কয়েকগুণ বেড়ে গিয়েছে। ২০১৯ সাল থেকে উত্তরাখণ্ডের পিথোরাগড়ের লিপুলেখ পাস হয়ে চীন ও ভারতের পণ্য বাণিজ্য বন্ধ। শুক্রবার সেই ব্যবস্থা থেকে সরে এসেছে ভারত। বিদেশ মন্ত্রক নো অবজেকশন সার্টিফিকেট ইস্যু করেছে। তারপরই উত্তরাখণ্ড সরকার ঘোষণা করেছে যে, লিপুলেখ পাস থেকে ভারত ও চীনের বাণিজ্য আবার শুরু হবে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আবার পালাবদল। এবার বেজিং-দিল্লি সরকারি ফ্লাইট চালু হয়ে যাচ্ছে। শনিবার সেই সিদ্ধান্ত হয়েছে। ভারতে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত শনিবার এই ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেন, ভারত ও চীনের সম্পর্কের উন্নতির ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্ত হল এক বড়সড় পদক্ষেপ। ২০২০ সালের সীমান্ত সংঘাতের পর থেকে এই দিল্লি-বেজিং ফ্লাইট বন্ধ করে দেওয়া হয়। আমেরিকার খামখেয়ালি মনোভাবে বিরক্ত ভারত গত বছর থেকেই চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে একটি অক্ষ নির্মাণের অঙ্গ হয়। সেই প্রক্রিয়ার সূত্রপাত যথেষ্ট আতঙ্ক ছড়ায় আমেরিকার মনে। আমেরিকা ভারতকে ফের কাছে টানতে অনেক ঘোষণা করে। দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির ঘোষণাও করেছে। কিন্তু ভারত যে চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে মৈত্রী প্রক্রিয়া বন্ধ করবে না, এটা স্পষ্ট করে দিয়েছে। রাশিয়া থেকে ভারত অশোধিত তেল আমদানি বন্ধ করেনি। আবার চীনের সঙ্গেও পুরনো সংঘাত বজায় রাখবে না স্থির করেছে।