‘সাত কোটি বাঙালিকে দাবায় রাখতে পারবা না। এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ ১৯৭১-এর ৭ মার্চ। ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে গর্জে উঠলেন বঙ্গবন্ধু। আর সেই গর্জনই ছড়িয়ে পড়ল হাজার হাজার আমজনতার মধ্যে। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান আগেই মঞ্চ তৈরি করে দিয়েছিল। তার রেশ ধরেই একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে সুনিশ্চিত হল স্বাধীনতা। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ । কার্যত গণহত্যা শুরু করে পাকিস্তানি মদতপুষ্ট হামলাকারীরা। নাম দেওয়া হয়েছিল ‘অপারেশন সার্চলাইট’। শুরুতেই বঙ্গবন্ধুকে পাকড়াও করা হয়। ওইদিন মধ্যরাতে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করলেন এবং মুক্তিযুদ্ধের আহ্বান জানালেন। আর তাতে সাড়া দেয় হাজার হাজার মানুষ। রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম ও আত্মত্যাগ লিখেছিল এক নতুন ইতিহাস।
কিন্তু এরপর থেকেই একের পর এক ধাক্কা আর বিতর্ক। স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের হাল ধরেছিলেন মুজিব। কিন্তু, ৭৫ সালে তাঁর হত্যার পর থেকে অন্য খাতে বইতে শুরু করে দেশটি। ২০২৪ এসে তারই সাক্ষী থাকল গোটা বিশ্ব। স্বাধীনতার পর থেকে ছাত্র আন্দোলনের নামে ক্রমে আখের গুছিয়ে নেওয়ার রাজনীতি গাঢ় হয়েছে। বেড়েছে মৌলবাদীদের রমরমা। যার ফল হাসিনা সরকারের পতন। আসলে বাংলাদেশের জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতি-বিজড়িত ধানমন্ডির ঐতিহাসিক বাড়িটি ভেঙে দেওয়া, একের পর এক মুক্তিযুদ্ধের চিহ্ন ধ্বংস করা আবার যেন নতুন এক ইতিহাস আর বিতর্কের জন্ম দিল। বুধবার ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অবদান ভোলার নয়। কিন্তু বর্তমানের হাওয়া অন্যরকম। এই হাওয়ায় মিশেছে ভারত বিদ্বেষের কথা, ধর্মীয় মৌলবাদ আর সংখ্যালঘুদের নির্যাতনের অভিযোগ। কোথাও যেন হারিয়ে গিয়েছে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস। প্রতিবেশী দেশ ভারতের অবদানও ঢাকা পড়েছে। ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের কথায়, সত্যিই কি নতুন করে স্বাধীনতা এল ? গণ অভ্যুত্থান হল? না কি এক ‘ইতিহাস বিস্মৃত’ জাতি এখনও লড়াইয়ে ডুবে। স্বাধীনতার খোঁজে প্রকৃত স্বাধীনতা থেকে বহুদূরে। থেকে যাচ্ছে এরকমই একরাশ প্রশ্ন।