


লিডস: শুক্রবার শুরু ভারত-ইংল্যান্ড প্রথম টেস্ট। হেডিংলে স্টেডিয়ামে পিচ প্রস্তুতের কাজ চলছে জোর কদমে। প্রথম দর্শনে আউটফিল্ড ও পিচের মধ্যে পার্থক্য খুঁজে পাওয়া কঠিন। সবুজ মখমলে ঘাসে ঢাকা গোটা মাঠ। যেন পেসারদের স্বর্গরাজ্য। ২০ জুন প্রথম টেস্টে বল গড়াবে। হাতে এখনও কিছুটা সময় রয়েছে। শেষ পর্যন্ত বাইশ গজে কতটা ঘাস ছাড়া হবে, তা বলা কঠিন। তবে হেডিংলের চিফ কিউরেটর রিচার্ড রবিনসন যা ইঙ্গিত দিলেন, তা মোটেও টিম ইন্ডিয়ার ব্যাটারদের পক্ষে সুখকর নয়। তিনি সাফ জানিয়ে দিলেন— চ্যালেঞ্জিং উইকেট।
প্রথম গ্রীষ্মে ইংল্যান্ডের পিচে বল নড়াচড়া করে অনেক বেশি। হেডিংলেতে পেসাররা সুবিধা পেয়ে থাকেন। সেই অঙ্কে নতুন বলে সুইং সামলেই বড় ইনিংস খেলতে হবে ব্যাটারদের। কিউরেটর রবিনসন আরও বলেছেন, ‘উইকেট বেশ শুকনো। তাই পর্যাপ্ত পরিমান জল ব্যবহার করতে হচ্ছে।’ হয়তো সেই কারণেই পিচে সবুজ আভা চোখে পড়ছে। ম্যাচে উইকেট অন্য রকম আচরণও করতে পারে। কয়েকদিন আগে লর্ডসে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনালে পেসাররা অধিকাংশ উইকেট নিলেও অজি স্পিনার নাথান লিয়ঁর বল বেশ ভালোই টার্ন করছিল। হেডিংলেতে পরের দিকে স্পিনাররা সুবিধা পেলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।
টিম ইন্ডিয়া অবশ্য দুই স্পিনার কুলদীপ যাদব ও রবীন্দ্র জাদেজাকে তৈরি রাখছে। বেকেনহ্যামে ইন্ট্রা স্কোয়াড ম্যাচে দু’জনেই ভালো বল করেছিলেন। প্রাক্তন স্পিনার হরভজন সিং ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম টেস্টে দু’জনকেই খেলানোর পরামর্শ দিচ্ছেন। তাঁর যুক্তি, ‘আমার মতে, ভারতের উচিত তিন পেসারের সঙ্গে দুই স্পিনার নিয়ে মাঠে নামা। পিচ স্পিনাদের সাহায্য করলে ভালো, না করলেও ওরা দু’জনেই যে কোনও পিচে উইকেট নেওয়ার ক্ষমতা রাখে। টেস্ট ম্যাচ জেতার জন্য দরকার ২০টা উইকেট। তাই আমি পাঁচজন স্পেশালিস্ট বোলার খেলানোর পক্ষে।’
প্রস্তুতি ম্যাচে সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে প্রথম টেস্টে খেলার দাবি জোরালো করেছেন শার্দূল ঠাকুর। সেক্ষেত্রে নীতীশ রেড্ডিকে ড্রেসিং-রুমে বসতে হবে। এই প্রসঙ্গে ভাজ্জি বলেন, ‘আমার মনে হয়, ভারতীয় দলে এমন একজন বোলার দরকার যে ব্যাটও করতে পারে। এক্ষেত্রে শার্দূল যোগ্য ক্রিকেটার। সাত কিংবা আটে নামানো যেতে পারে ওকে। সেই কারণেই শার্দূল কিছুটা এগিয়ে নীতীশের চেয়ে। তবে গৌতম গম্ভীর দক্ষ কোচ। আমার বিশ্বাস, সঠিক সিদ্ধান্তই নেবে গোতি ভাই।’ সরফরাজ খানকে টেস্ট স্কোয়াডের বাইরে রাখা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন প্রাক্তন তারকা স্পিনার। তিনি বলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা...। টেস্ট স্কোয়াডে ওর নাম দেখতে না পেয়ে অবাক হয়েছি। আমার বিশ্বাস, সরফরাজ কামব্যাক করবে। করুণ নায়ারকেও দলের বাইরে রাখা যায়নি। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ট্রিপল সেঞ্চুরির করার পরেও নায়ার সেভাবে সুযোগ পায়নি। তবু হাল ছাড়েনি ও। ঘরোয়া ক্রিকেটে ভালো পারফর্ম করে ফের জাতীয় দলে ফিরেছে।’
প্রথম টেস্টের আগে দলে যোগ দেবেন কোচ গৌতম গম্ভীর। মায়ের অসুস্থতার খবর পেয়ে দেশে ফিরেছিলেন গোতি। দিল্লির এক হাসপাতালে আইসিইউ’তে আছেন তাঁর মা। কিন্তু দলের কথা ভেবে তিনি লিডসে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।