সংবাদদাতা, করিমপুর: নতুন সরকারের প্রথম বাজেটে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মিড-ডে মিলের জন্য মাথাপিছু বরাদ্দ ৬ টাকা ৭৮ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১০ টাকা করা হয়েছে। সরকারের এই সিদ্ধান্তে খুশি শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবক এবং বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। শিক্ষকদের দাবি, বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধির কারণে এতদিন নির্ধারিত বরাদ্দে পুষ্টিকর খাবার দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছিল। বিশেষ করে ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা কম এমন বিদ্যালয়গুলিতে সমস্যা আরও বেশি ছিল। জানা গিয়েছে, ২০২৪ সালে কেন্দ্রীয় সরকার প্রাথমিক স্তরে মিড-ডে মিলের জন্য মাথাপিছু ৬ টাকা ১৯ পয়সা এবং উচ্চ প্রাথমিক স্তরে ৯ টাকা ২৯ পয়সা বরাদ্দ করেছিল। পরে ২০২৫ সালের এপ্রিলে সেই বরাদ্দ যথাক্রমে ৫৯ পয়সা ও ৮৮ পয়সা বৃদ্ধি পেয়ে প্রাথমিকে ৬ টাকা ৭৮ পয়সা এবং উচ্চ প্রাথমিকে ১০ টাকা ১৭ পয়সায় পৌঁছায়। এবার নতুন বাজেটে প্রাথমিক স্তরের বরাদ্দ সরাসরি ১০ টাকা করা হয়েছে। করিমপুরের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান, নতুন সরকারের এই সিদ্ধান্তকে আমরা স্বাগত জানাই। বরাদ্দ বৃদ্ধির ফলে পড়ুয়াদের খাবারের মান উন্নত করা সম্ভব হবে। আশা করছি, নিয়মিতভাবে খাবারের সঙ্গে মরসুমি ফলও দেওয়া যাবে। আমরা পরিমাণ নয়, গুণগত মানের উন্নতি চাই। বর্তমানে অধিকাংশ বিদ্যালয়ে সপ্তাহে একদিন ডিম এবং অন্যান্য দিনে ডাল, সবজি ও শনিবার খিচুড়ি পরিবেশন করা হয়। কিন্তু সবজি, তেল, মশলা ও অন্যান্য সামগ্রীর দাম বৃদ্ধির ফলে নির্ধারিত খাদ্যতালিকা বজায় রাখা কঠিন হয়ে উঠেছিল বলে জানিয়েছেন শিক্ষকরা। করিমপুর ১ ব্লকের রানীনগর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পীযুষ জোয়ারদার বলেন, আমাদের বিদ্যালয়ের অধিকাংশ পড়ুয়াই আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া পরিবারের সন্তান। অনেকেই না খেয়ে স্কুলে আসে। বিদ্যালয়ে মোট ৫৫ জন পড়ুয়া থাকলেও প্রতিদিন গড়ে ৪০ থেকে ৫০ জন উপস্থিত থাকে। এতদিন তাদের জন্য দৈনিক প্রায় ৩০০ টাকা বরাদ্দ ছিল। সেই টাকায় ডিম, সবজি, মশলা ও রান্নার গ্যাসের খরচ সামলে বাচ্চাদের মুখে পুষ্টিকর খাবার দেওয়া খুবই কঠিন ছিল। করিমপুর জিএসএফ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সৌভিক বিশ্বাস বলেন, যেভাবে জিনিসের মূল্যবৃদ্ধি হচ্ছে, সেদিকে দেখলে আগের বরাদ্দ টাকায় বাচ্চাদের খাবারের মান কমে যাচ্ছিল। সেই ক্ষেত্রে এবার সুবিধা হল। এর ফলে পড়ুয়াদের খাবারের গুণগতমানের দিকেও এবার নজর দেওয়া যাবে। আমার স্কুলে ৪৪৩ জন পড়ুয়া রয়েছে। সরকারের বরাদ্দ টাকায় সরকারি তালিকা অনুযায়ী এখন ডিম বা ডাল সবজি দেওয়ায় কোনও সমস্যা হবে না। অভিভাবকদেরও দাবি, বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মিড-ডে মিলের বরাদ্দ বৃদ্ধি করা জরুরি ছিল। তাঁদের মতে, সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে খুদে পড়ুয়ারা আরও উন্নত ও পুষ্টিকর খাবার পাবে, যা তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে সহায়ক হবে। নতুন বরাদ্দ কার্যকর হলে বিদ্যালয়গুলিতে মিড-ডে মিলের মানোন্নয়ন ঘটবে বলে আশাবাদী শিক্ষক ও অভিভাবক মহল।



