নিজস্ব প্রতিনিধি, মালদহ: অবশেষে ইংলিশবাজার পুরসভার চেয়ারম্যানের পদ থেকে ইস্তফা দিলেন কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরী। বুধবার বোর্ড অব কাউন্সিলারের হাতে তিনি পদত্যাগপত্র তুলে দেন। সেই কপি রাজ্যের পুরমন্ত্রী সহ প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট মহলে পাঠানো হয়েছে বলে দাবি তাঁর।
কৃষ্ণেন্দু ইস্তফা দিতেই ইংলিশবাজার শহরে জোর চর্চা, এবার কী হবে? তৃণমূল পরিচালিত পুরবোর্ড কি নতুন করে চেয়ারম্যান নির্বাচনের সুযোগ পাবে? নাকি বর্তমান বোর্ড ভাঙবে? সেক্ষেত্রে কি প্রশাসক বসতে চলেছে এই পুরসভায়। যদিও বিষয়টি নিয়ে এদিন সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনো ইঙ্গিত দেওয়া হয়নি। পুরসভার বিরোধী দলনেতা তথা ইংলিশবাজারের বিজেপি বিধায়ক অম্লান ভাদুড়ি বলেন,চেয়ারম্যান ইস্তফা দিয়েছেন। তাঁর ইস্তফা বোর্ড অব কাউন্সিলারের মিটিংয়ে গৃহীত হতে হবে। এই প্রক্রিয়ার মধ্যে বর্তমান বোর্ড ভেঙে যেতেও পারে। সেক্ষেত্রে প্রশাসক বসার সম্ভাবনা রয়েছে। আমরা পরিস্থিতির উপর নজর রাখছি। তবে দুর্নীতিগ্রস্ত এই পুরবোর্ড যত তাড়াতাড়ি চলে যায়, ইংলিশবাজার শহরবাসীর মঙ্গল।
এদিকে, এদিন ইস্তফাপত্র জমা দিয়ে কৃষ্ণেন্দু বলেন, পদত্যাগের কারণ বলব না। কিছু বিষয় গোপন থাকা ভালো। তবে এটুকু বলতে পারি, পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে হয়। সেটাই নিয়েছি।
ইংলিশবাজার পুরসভার চেয়ারম্যানের পদ থেকে ইস্তফা দিলেও তিনি রাজনীতি থেকে অবসর নিচ্ছেন না বলে এদিন জানিয়েছেন কৃষ্ণেন্দু। তৃণমূলে না থাকার কথা আগেই জানিয়েছেন তিনি। সেক্ষেত্রে আগামী দিনে কোন শিবিরে তাঁকে দেখা যেতে পারে? প্রশ্নের উত্তরে ইংলিশবাজার পুরসভার পাঁচবারের চেয়ারম্যান তথা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দুর মন্তব্য, বড়ো ছাতার নীচেই যাব। ছাতার রং কী, সেটা আমার কাছে বড়ো বিষয় নয়। ছাতাটা কত বড়ো, সেটাই আমার কাছে আগামী দিনে রাজনীতি করার ক্ষেত্রে প্রাধান্য পাবে। কৃষ্ণেন্দুর আমলে ইংলিশবাজার পুরসভায় লাগামছাড়া দুর্নীতি হয়েছে বলে অভিযোগ বিজেপির। মোটা টাকার বিনিময়ে বেআইনি বিল্ডিং প্ল্যান পাশ করিয়ে দেওয়া থেকে টেন্ডারে দুর্নীতি, কাজ না করে টাকা পাইয়ে দেওয়ায় মোটা অংকের কমিশন নেওয়া সহ হাজারো অভিযোগ রয়েছে। এবার এসব দুর্নীতির ফাইল খুলবে বলে হুমকি দিয়েছেন বিজেপি নেতৃত্ব। কৃষ্ণেন্দুর বক্তব্য, পুরসভা নিয়ে যেকোনো তদন্তের মুখোমুখি হতে রাজি। বাম আমলেও ইংলিশবাজার পুরসভার চেয়ারম্যানের দায়িত্ব সামলেছেন কৃষ্ণেন্দু। তৃণমূল আমলে দলীয় কোন্দল সামলে স্বমহিমায় পুরসভা চালিয়েছেন তিনি। সেক্ষেত্রে রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার চারমাসের মধ্যে কী এমন হল যে, তাঁকে পুরপ্রধানের পদ ছাড়তে হল? এনিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা ছড়িয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি রাজ্যের বর্তমান শাসক দলের কোনো চাপের কাছে নতি স্বীকার করতে বাধ্য হলেন বিচক্ষণ ওই রাজনীতিবিদ? নাকি কোনো কিছু থেকে নিজেকে বাঁচাতে পুজোর মুখে চেয়ার ছাড়তে হল তাঁকে? কৃষ্ণেন্দু বলেন, ভয় পেয়ে আমি চেয়ার ছাড়ছি না। কাজ করতে গেলে পরিবেশ লাগে। সেই পরিবেশ না থাকলে চেয়ার আঁকড়ে বসে থাকার মানে হয় না। ইস্তফাপত্র হাতে ইংলিশবাজার পুরসভার চেয়ারম্যান কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরী।-নিজস্ব চিত্র