নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: জগৎবল্লভপুরে আবগারি দপ্তরের অফিস থেকে ঢিলছোড়া দূরত্বে চলছিল চোলাইয়ের ঠেক। অথচ সেই ঠেকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি আবগারি অফিসের কর্তাদের। শেষ পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে প্রায় দু’হাজার লিটার চোলাই নষ্ট করল জগৎবল্লভপুর থানার পুলিশ। এই ঘটনায় আবগারি দপ্তরের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
বৃহস্পতিবার সকালে জগৎবল্লভপুর থানার পুলিশ বড়গাছিয়া, কমলাপুর, ফটিকগাছি সহ একাধিক এলাকায় বিশেষ অভিযান চালায়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বিভিন্ন জায়গায় চোলাই তৈরি ও মজুত করা হয়েছে। তাদের ডেরায় হানা দিয়ে বিপুল পরিমাণ চোলাই উদ্ধার করা হয়। পরে সেগুলি ঘটনাস্থলেই নষ্ট করে দেওয়া হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, ফটিকগাছিতে যে চোলাই ঠেকের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়েছে, তার অদূরেই রয়েছে আবগারি দপ্তরের অফিস। এলাকায় বিভিন্ন রাস্তার মোড়ে প্রকাশ্যেই চোলাইয়ের আসর বসে। অথচ আবগারি দপ্তরের তরফে কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি। বাসিন্দাদের দাবি, জগৎবল্লভপুর থানার পুলিশ মাঝেমধ্যেই অভিযান চালিয়ে চোলাই উদ্ধার, ঠেক ভাঙা কিংবা ধ্বংস করার কাজ করছে। এমনকি, অতীতে নদীপথে তাড়া করেও প্রচুর চোলাই উদ্ধার করেছে পুলিশ। কিন্তু আবগারি দপ্তরকে সেভাবে কখনই সক্রিয় ভূমিকায় দেখা যায়নি।
যদিও এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে আবগারি দপ্তর। জগৎবল্লভপুর আবগারি দপ্তর সূত্রে দাবি, সংশ্লিষ্ট এলাকায় নিয়মিত তল্লাশি চালানো হয়। গত ১৫ দিনে ১০ বারেরও বেশি অভিযান চালিয়ে কয়েকশো লিটার চোলাই উদ্ধার করা হয়েছে। কাজে গাফিলতি হয়নি বলেও দাবি তাদের। অন্যদিকে, হাওড়ার এক আবগারি আধিকারিক জানান, বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।