Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রেলের জায়গায় গভীর পাথর খাদান মুরারইয়ে, ট্রেন লাইনে ক্ষতির আশঙ্কা, তদন্ত শুরু

রেলের জায়গায় গভীর পাথর খাদান মুরারইয়ে, ট্রেন লাইনে ক্ষতির আশঙ্কা, তদন্ত শুরু
  • ১৭ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, রামপুরহাট: রেলের জায়গায় ভূগর্ভস্থ পাথর তোলার অভিযোগ ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে মুরারইয়ের রাজগ্রামে। দিন কয়েক আগেই এলাকার এক পাথর কোম্পানির বিরুদ্ধে এমনই অভিযোগ পেয়ে তদন্তে নেমেছে রেল পুলিস। আজ সোমবার সেলুন কারে ওই খাদান পরিদর্শনে আসছেন রেল পুলিসের আইজি। রেল পুলিসের দাবি, যেভাবে পাথর তোলা হচ্ছে, তাতে যেকোনও সময় রেল লাইন ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে। 

Advertisement

রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, একশো বছরেরও বেশি পুরনো প্রাইভেট লিমিটেড ওই স্টোন কোম্পানি। রেলের রেকে করে তারা পাথর লোড করে আসছে। কোম্পানির পাশ দিয়ে চলে গিয়েছে রেল লাইন। তবে এই লাইনে কোনও যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল করে না। শুধু মাত্র মালগাড়ি চলাচল করে। যেগুলি এখান থেকে পাথর লোড করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যায়। অভিযোগ, মাটির নিচের পাথর তুলতে তুলতে খাদান রেলের জায়গায় চলে এসেছে। দিন কয়েক আগে এমনই অভিযোগ যায় রেলের কাছে। রেলের পক্ষ থেকে একটি মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্তকারী অফিসার হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে রামপুরহাটের অ্যাসিট্যান্ট কমান্ডার রাজকুমার সাউকে। শনিবার হাওড়া থেকে এলাকায় আসেন সিনিয়র ডিভিশন্যাল সিকিউরিটি কমিশনার রঘুবীর চোকা। রেল পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, পাথর তুলতে তুলতে খাদান চলে এসেছে রেলের সীমানায়। সূত্রের দাবি, যেহেতু তদন্ত চলছে, তাই শনিবার থেকে ওই কোম্পানিতে রেক পাঠানো বন্ধ রেখেছে রেল। 
রেল পুলিস জানিয়েছে, বর্তমানে ওই কোম্পানি চালাচ্ছেন কলকাতার এক বাসিন্দা। এছাড়া বছরখানেক ধরে স্থানীয় এক পাথর ব্যবসায়ীও অংশীদার হিসেবে যুক্ত হয়েছেন। খাদানে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পাথর তুলতে তুলতে রেলের অনেকটা জায়গা গ্রাস করে ফেলেছে বলে অভিযোগ। সরকারি হিসেব অনুযায়ী, রেলের জায়গা গভীর খাদ করে এখনও পর্যন্ত কয়েক কোটি টাকার পাথর তোলা হয়েছে। ১৫০ ফুট গভীর পর্যন্ত খনন করা হয়েছে। এছাড়াও আরও দুটি পাথর খাদান রয়েছে। যেগুলি ৫০ বছরেও বেশি পুরনো। রেল পুলিসের দাবি, ওই দুটি খাদানেও রেলের জায়গা থেকে পাথর তোলা হয়েছে। কী পরিমাণ পাথর তোলা হয়েছে, তা জানতে মাপজোখ শুরু করেছে রেল। প্রয়োজনে রেল পুলিশের ডিজিও ঘটনাস্থলে আসতে পারেন বলে জানা গিয়েছে। 
যদিও কোম্পানির অফিসার ইনচার্জ সুকান্ত মুখোপাধ্যায় বলেন, আমাদের কোম্পানি ১৯১৬ সালের। ১৯২৪ সালে সাত কিমি লম্বা জমি কিনে রেলকে হস্তান্তর করা হয়। দু’পাশে কোথাও ৬০ কোথাও ১০০ ফুট জমিও হস্তান্তর করা হয়। কোম্পানি নিজের খরচে রেল লাইন বসিয়েছিল। এই সংক্রান্ত রেলের সঙ্গে চুক্তিও রয়েছে। সেইমতো আমাদের কোম্পানি ছাড়া অন্য কেউ এখানে পাথর লোডিং করতে পারে না। রক্ষণাবেক্ষণের খরচও আমরা দিই। এখানে পাথর খাদান ছাড়াও কুড়িটি ক্র্যাশার রয়েছে। আজ রেল যে খাদানগুলি মাপজোখ করছে, সেগুলি পরিত্যক্ত। কোম্পানি চুক্তি অনুয়ায়ী সেখান থেকে পাথর তুলেছিল। তখন তো রেল কোনও অভিযোগ করেনি। চুক্তিতে পরিষ্কার লেখা আছে, এই জায়গার সারফেস সাইড রেলের। আণ্ডাগ্রাউণ্ড সাইড কোম্পানির। এই চুক্তিগুলি যদি কেউ না জেনেই অভিযোগ করে দেয় এবং তার বিরুদ্ধে রেল পদক্ষেপ করে, তাহলে আইনের রাস্তায় যেতে হবে আমাদের। আরপিএফ বলছে, রেলের নামে জমি। যখনই রেলের নামে জায়গা হবে তখনই তো লাইন বসাবে। রেল কখনও অন্যের জমিতে লাইন বসায় না। তার মানে এই নয় যে জায়গাটা রেলেরই হয়ে গেল। তিনি বলেন, সোমবার সিনিয়র ডিসিএম হাওড়ায় একটি বৈঠক ডেকেছেন। কোম্পানির ডিরেক্টররা সেখানে যাবেন এবং চুক্তিপত্র দেখাবেন। আশাকরি বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যাবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ