সংবাদদাতা, বনগাঁ: বনগাঁ পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি জাফর মণ্ডলের বিরুদ্ধে খাল দখলের অভিযোগ। বিষয়টি মহকুমা ও ব্লক প্রশাসনের কাছে লিখিতভাবে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, দল ক্ষমতায় থাকাকালীন তৃণমূল নেতা জাফর মণ্ডল প্রশাসনকে কাজে লাগিয়ে এলাকায় একাধিক দুর্নীতি করেছেন।
গঙ্গানন্দপুর পঞ্চায়েত এলাকায় তাঁর নেতৃত্বে একাধিক বেনিয়ম হয়েছে। ওই এলাকার চিত্রাঙ্গপুরে প্রাচীন ঘোড়ানাচার খাল নামে একটি খাল রয়েছে। এটি এলাকার জল নিকাশির অন্যতম মাধ্যম। কিন্তু জাফরের নেতৃত্বে সেই খালের উপর একাধিক নির্মাণ হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় এক কিলোমিটার লম্বা খালের কিছু অংশের পাশে ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি রয়েছে। সেই জমির উপরেও হয়েছে একাধিক নির্মাণ। এলাকায় গিয়ে দেখা গেল, খালের অনেকটা অংশেই পিলার করে পাকা ঘর নির্মাণ হয়েছে। এমনকী তৃণমূল নেতা জাফর মণ্ডল খালের কিছুটা অংশ দখল করে বসত বাড়ি নির্মাণ করেছেন বলেও অভিযোগ বাসিন্দাদের। বাসিন্দাদের কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়ার পর এলাকায় গিয়ে বিষয়টি খতিয়ে দেখেন ব্লক আধিকারিকরা।
সামাদ মণ্ডল নামে এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, এই খালের কিছুটা অংশে ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি রয়েছে। সেখানে বেআইনি ভাবে নির্মাণ হলেও ঘরের নীচ দিয়ে জল নিকাশির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তবে এলাকার এক বাসিন্দা ওই নেতার বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, এই খালের উপর আমার জমি রয়েছে। প্রশাসনের ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে জাফরের নেতৃত্বে সেই জমি দখল করা হয়েছে। তারপর কোনো নিয়ম ছড়াই নির্মাণ হয়েছে। আমি চাই সব নির্মাণ ভেঙে দিক প্রশাসন।
শুধু খাল দখল না। এলাকায় একাধিক জলাশয় ভরাট করে নির্মাণ, রাস্তা না করে শুধুমাত্র বোর্ড লাগিয়ে সরকারের লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে জাফর মণ্ডলের বিরুদ্ধে। রাজ্যে পালাবদলের পর তাঁর বিরুদ্ধে মুখ খুলছেন স্থানীয়রা। আর তারপরেই গা ঢাকা দিয়েছেন ওই তৃণমূল নেতা জাফর। তাঁর ফোনও সুইচড অফ। ফলে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে, প্রশাসন জানিয়েছে, একটি অভিযোগ হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নিজস্ব চিত্র