Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ইজরায়েলী প্রযুক্তিতে তৈরি ‘আইসক্রিম   কোণ’ চারা জনপ্রিয় হচ্ছে কৃষক মহলে

ইজরায়েলী প্রযুক্তিতে তৈরি ‘আইসক্রিম   কোণ’ চারা জনপ্রিয় হচ্ছে কৃষক মহলে
  • ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: অসময়ে সব্জির জোগান বহাল রাখতে ‘আইসক্রিম কোণ’ তৈরি করছে উদ্যানপালন দপ্তর। ওই আইসক্রিম অবশ্য চেখে দেখার নয়। দেখতে আইসক্রিম কোণের মতো হলেও আসলে সব্জির চারা। আরও ভালো করে বললে, বিশেষ পদ্ধতিতে তৈরি করা সব্জির চারা। যা একদিকে উন্নত ফলনশীল, অন্যদিকে রোগ প্রতিরোধে সক্ষম। যার অর্থ, চাষির মুখে নিশ্চিত হাসি। হুগলির উদ্যানপালন দপ্তরের তৎপরতায় ইজরায়েলের প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি ওই চারা তৈরি করা হয়েছে, যা ইতিমধ্যেই সব্জি চাষিদের মধ্যে সাড়া ফেলেছে। শুধু হুগলি জেলা নয়, অন্যান্য জেলা থেকেও এই বিশেষ সব্জি চারার জন্য বরাত আসতে শুরু করেছে। তাতে হাসি চওড়া হয়েছে উদ্যানপালন দপ্তরের কর্তাদের।
Advertisement
হুগলি জেলা উদ্যানপালন দপ্তরের আধিকারিক শুভদীপ নাথ বলেন, রাজ্য সরকারের বরাদ্দ করা অর্থে আমরা বিশেষ পলিহাউস তৈরি করেছি। সেখানে ইজরায়েলের প্রযুক্তি ব্যবহার করে ‘আইসক্রিম কোণ’ সব্জি চারা তৈরি করা হচ্ছে। এটি দেখতে অনেকটা শঙ্কুর মতো। আরও সোজা করে বললে, কুলফির কোণের মতো। এতে চারাগাছের শিকড় সহজে বাড়তে পারে। মজবুত হয় চারাগাছ। সেটি রোপণ করলে দ্রুত মাটিতে শাখা-প্রশাখা বিস্তার করে শিকড়। উন্নতমানের পলিহাউসে বিশেষ পদ্ধতিতে এই চারা তৈরি হওয়ায় পোকার সংক্রমণের সম্ভাবনা অনেকটাই কমে যায়। তাতে ফলন লাভজনক হয়। আমরা সারা বছর ব্রকোলি, রঙিন বাঁধাকপি, টম্যাটো, ক্যাপসিকাম বাজারে রাখতে চাইছি। এই নতুন ধরনের চারাগাছ কৃষকদের মধ্যে জনপ্রিয় হতে শুরু করেছে। যা হুগলির সব্জি বাজারের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। হুগলি জেলা পরিষদের কৃষি কর্মাধ্যক্ষ মদনমোহন কোলে বলেন, আমাদের সরকার কৃষকদরদী। একদিকে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, অন্যদিকে কৃষকবান্ধব পরিবেশ গড়ার প্রয়াস। তাতেই সব্জিচাষে বিপ্লব আসবে, এমনটাই দাবি শুভজিৎ নাথের।
ইজরায়েলে জলের অভাব রয়েছে। তাই সেখানে চাষের জমিতে জল ধরে রাখার জন্য বিশেষ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। পলিহাউসে চারা তৈরি করে তা মাঠে পাঠানো হয় রোপণের জন্য। সেই চারা তৈরির সময় ‘আইসক্রিম কোণ’ বা উল্টানো পিরামিডের মতো ছাঁচ ব্যবহার করা হয়। তাতে শিকড় সহজে মাটিতে ছড়িয়ে পড়তে পারে। ফলে, মূলে দ্রুত জল পৌঁছে যায়। সেই পরিকল্পনাকেই বাংলার জলহাওয়ার উপযোগী করে ব্যবহার করেছে হুগলির উদ্যানপালন দপ্তর। ২৩টি উন্নতমানের পলিহাউসে ঠান্ডা ও গরমের ভারসাম্য রেখে তৈরি করা হচ্ছে চারা। তারপর সামান্য মূল্যে তা দিয়ে দেওয়া হচ্ছে কৃষকদের। উদ্যানপালন দপ্তরের দাবি, রোগ প্রতিরোধে সক্ষম, উচ্চফলনশীল চারাগাছ যখন ভড় হবে, তখন ব্যাপক ফসল দিতে পারে। ফলে, সবদিক থেকেই লাভবান হবেন কৃষকরা। এই পদ্ধতিতে চাষ ক্রমে জনপ্রিয় হচ্ছে, তৈরি সব্জির চারা। 
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ