বিশেষ সংবাদদাতা, সুকমা (ছত্তিশগড়): ‘যদি আমাদের রাস্তা দিতে না পারেন, তাহলে হেলিকপ্টারের ব্যবস্থা করে দিন’। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে চিঠি লিখে এমনই অনুরোধ করলেন ছত্তিশগড়ের সুকমার মারুকি গ্রামের বাসিন্দারা। আদিবাসী প্রধান এই গ্রামে দশ বছর আগে রাস্তা তৈরির কাজ শুরু হয়েছিল। কিন্তু সেই কাজ আর শেষ হয়নি। দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদারি সংস্থা সেতু ও কালভার্ট তৈরির জন্য বড়ো বড়ো গর্তও খুঁড়েছিল। কিন্তু মাওবাদী সমস্যা সহ নানা কারণে ঠিকাদারি সংস্থা কাজ ছেড়ে চলে যায়। ওই গর্ত আর ভরাট করা হয়নি। যার জেরে যাতায়াত করতে গিয়ে নাভিশ্বাস উঠেছে মারুকির বাসিন্দাদের। রাস্তার বাকি অংশও খানাখন্দে পরিপূর্ণ। বর্ষায় পরিস্থিতি আরও মারাত্মক আকার ধারণ করে। সেই সময় আশপাশের অন্য গ্রামের থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় মারুকি। প্রশাসনের সব স্তরে আবেদন জানিয়েও লাভ হয়নি। তাই শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দ্বারস্থ হয়েছেন মারুকির জনগণ। অমিত শাহকে লেখা চিঠিতে গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন, প্রশাসন যদি রাস্তা তৈরি করে দিতে না পারে, তাহলে আপত্কালীন পরিস্থিতির জন্য অন্তত একটা হেলিকপ্টারের ব্যবস্থা করে দিন। বাসিন্দাদের অভিযোগ, সবচেয়ে বেশি সমস্যা হয় গ্রামের কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে। বৃদ্ধ, গুরুতর অসুস্থ রোগী বা অন্তঃসত্ত্বাদের খাটিয়ায় চাপিয়ে প্রথমে মূল রাস্তা পর্যন্ত নিয়ে যেতে হয়। তারপর সেখান থেকে অ্যাম্বুলেন্স মেলে। বর্ষায় নদীপথে রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয়। মারুকি গ্রামের সরপঞ্চ বলেন, ‘আমরা স্থানীয় প্রশাসনের আধিকারিক থেকে শুরু করে জেলাশাসক—সকলের কাছে আবেদন করেছি। প্রত্যেকেই শুধু আশ্বাস দিয়েছেন। কিন্তু রাস্তার কাজ শুরু হয়নি। আমাদের কথা শোনার কেউ নেই। গ্রামবাসীদের আরও অভিযোগ, আগে প্রশাসনের তরফে বলা হত, মাওবাদী সমস্যার জন্য রাস্তার কাজ শুরু করা যাচ্ছে না। অথচ এখন সরকার বারবার দাবি করে, ছত্তিশগড় থেকে মাওবাদী সমস্যা নির্মূল হয়ে গিয়েছে। তাহলে কেন এখনও রাস্তার মতো সাধারণ পরিষেবা এখনও পাওয়া যাবে না?



